স্বপ্ন

Words
575
Reading
3 min
Listen
Play
5y
অনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে তার পরিবারের সাথে বসবাস করে। তারা দুই ভাই ও এক বোন। ভাই-বোনদের মধ্যে সে সবার ছোট। তার বড় ভাই সিলেট মেডিকেল থেকে সদ্য গ্রাজুয়েশন শেষ করেছে। আর তার বোন একজন এমবিবিএস ডাক্তার। বাবা হলো একজন আইনজীবী। ছোটকাল থেকে অনিক তার ভাইবোনকে অনেক অনুকরণ করত এবং তার ভাইবোনকে তার জীবনের আইকন মানত। ছোট থেকেই সে লেখাপড়ায় অনেক মনোযোগী ছিল। তার ভাইবোন ও তাকে অনেক ভালোবাসত এবং কোনটা করলে তার জন্য ভালো হবে, এবং কোনটা করলে তার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ হবে তা তাকে বুঝিয়ে বলত এবং অনিক তার ভাইবোনের কথা মতো সবসময় চলত।

IMG_20210217_193601.jpg

ছোটকাল থেকে তারও তার ভাইবোনের মতো ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা ছিল। স্কুলে তার ক্লাসের বন্ধুরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেত এবং তাকেও তারা ডাকত কিন্তু সে তার লেখাপড়া বাদ দিয়ে কখনো তাদের সাথে যেত না। এসএসসি তে ভালো রেজাল্ট করার পর সে নিজ জেলার সরকারি কলেজে ভর্তি হয়। এসএসসি তে ভালো রেজাল্ট করার পর সে লেখাপড়ায় আরও বেশি মনোযোগী হয়ে পরে। সে নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য আরও বেশি পরিশ্রম করতে থাকে। এভাবে দুই বছর তার সর্বোচ্চ পরিমাণ পরিশ্রম করে সে তার উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষা দিয়ে ঢাকায় এডমিশনের জন্য মেডিকেলের কোচিং করতে যায় এবং তার বন্ধুদের সাথে ফারমগেটের একটি হোস্টেলে থাকে। সেখানে গিয়ে সে মনোযোগ সহকারে তার প্রতিটি লেকচার শেষ করে এবং সাপ্তাহিক পরিক্ষাগুলোতে সে ভালো মার্কস পেয়ে স্পেশাল ব্যাচ এ জায়গা করে নেয়।

আগামীকাল তার উচ্চমাধ্যমিক এর ফলাফল প্রকাশিত হবে। রাতে পড়ার টেবিলে বসে সে তার রেজাল্ট নিয়ে চিন্তা করতে লাগল। পরিক্ষা তার ভালো হয়েছিল, কিন্তু তবুও কেনজানি তার মনে একটু ভয় আর সংকোচ কাজ করতেছিল। রাতে সে আর ভালো করে পড়তে পারল না। পরেরদিন দুপুর ১২ টায় উচ্চমাধ্যমিক এর ফল প্রকাশিত হলো এবং সে গোল্ডেন এপ্লাস পেল। সে ভীষণ খুশি হলো এবং খুশির এ খবরটি সে সবার আগে তার মা-বাবাকে জানাল। প্রতিবার পরিক্ষার ফলাফলের সময় সে তার মা-বাবার মুখে একসাথে হাসি দেখে। এটিই তার কাছে বড় প্রাপ্তি।

এদিকে তার মেডিকেল পরিক্ষার তারিখ ঘোষণা হয়ে গেছে, সেও মনোযোগ সহকারে তার পরিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেডিকেল এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের পরিক্ষা। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ও মেডিকেল পরিক্ষার ফর্ম একসাথে কেটে ফেলল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের পরিক্ষা তার প্রত্যাশার তুলনায় বেশি ভালো হয়েছে। কারন মেডিকেলের প্রস্তুতি হিসেবে এডমিশন টাইমে ম্যাথ সে একেবারেই করে নি। তবুও সে ভালোই পরিক্ষা দিতে পেরেছে।

এদিকে মেডিকেল পরিক্ষার আর মাত্র দশদিন বাকি, সে তার পরিক্ষা প্রস্তুতিও ভালোভাবে নিয়েছে। হঠাৎ দুপুরের খাবার খেয়ে বিছানায় একটু বিশ্রাম নিচ্ছিল। বিকালে ঘুম ভাঙার পর সে জ্বর জ্বর অনুভব করে। এই জ্বরের শরীর নিয়ে সে সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে পড়তে বসে। জ্বরের তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়তেই থাকে। কিচ্ছুক্ষণ পড়ার পর তার জ্বরের তীব্রতা এতটাই বেড়ে গেল যে সে আর পড়ার টেবিলে বসে থাকতে পারল না। বিছানায় গিয়ে শুয়ে রইল। তার বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করলঃতর কি হয়েছে? তারপর তার শরীরে হাত দিতেই দেখে তার ভীষণ জ্বর। বালতি করে পানি এনে তারা তার মাথায় কিছুক্ষণ পানি দিল। তারপর ফার্মেসী গিয়ে থার্মোমিটার দিয়ে তার জ্বর মাপানো হলো। দেখল ১০৩ ডিগ্রি জ্বর।

পরেরদিন সকালে তার শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে গেল। তার বন্ধুরা তাকে নিয়ে হাসপাতালে গেল। ডাক্তার কিছু পরিক্ষা করতে দিল। পরিক্ষার রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বললঃ ওর ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে। রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। এখনই তাকে হসপিটালে এডমিট করতে হবে। এ কথা শুনার পর অনিকের মন প্রচুর খারাপ হয়ে গেল। তাকে শরীরে স্যালাইন লাগিয়ে রাখা হলো। তার স্বপ্ন ভেঙে গেল, সে আর মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারল না।

কিন্তু এ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরিক্ষার রেজাল্ট পাবলিশ হয়ে গেছে এবং সে তাতে চান্সও পেয়ে যায়। সেখানে সে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিষয় পায়।

পর্বরতী অংশে অনিকের ভার্সিটি লাইফের সূচনা অংশ এবং তার একটি ঘটনা শেয়ার করব। যার টাইটেল হবে মায়া...

স্বপ্ন | Ecency