হোমমেইড পিজ্জা: প্রথমবারের চেষ্টা!

Words
538
Reading
3 min
Listen
Play
4y

img_0.331301982912712.jpg

আমার পছন্দের খাবারগুলোর মাঝে পিজ্জা একটা। যদিও তেমন একটা খাওয়া হয় না আমার। বাইরের রেস্টুরেন্টগুলোতে বেশ ভালই দাম চায়। একেকটা পিজ্জা সাড়ে তিনশো টাকার মতো। ১০ ইঞ্চি সাইজের একটা পিজ্জা এত টাকায় নিয়মিত কিনে খাওয়ার মতো লোক আমি না। কিছুদিন আগেও ফুডপান্ডা থেকে এরকম সাইজের একটা পিজ্জা অর্ডার দিয়ে নিয়ে এসেছিলাম। মনমতো হয় নি। তাই চিন্তা করলাম, এত টাকা দিয়ে রেস্টুরেন্ট এর পিজ্জা না খেয়ে বরং বাসাতেই চেষ্টা করা যাক।

এর আগেও অবশ্য বেশ কয়েকবার বাড়িতে পিজ্জা বানানোর প্ল্যান করেছিলাম। কিন্তু ইউটিউবে দেখি পিজ্জা বানানোর জন্য ফ্রাইপ্যান লাগবে। একদিন ফ্রাইপ্যানও কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু দাম বেশি চাওয়াতে আর কেনা হয় নি। তবে গতকাল ইউটিউবে দেখলাম ফ্রাইপ্যান ছাড়াও পিজ্জা বানানো সম্ভব। পিজ্জা বানানোর জন্য নাকি আলাদা এক ধরনের বাটি আছে, যেগুলো তাওয়ার উপর বসিয়ে পিজ্জা বানানো যায়। আমাদের বাসায় অবশ্য তাওয়া আছে। শুধু আমাদের কেন, কম বেশি প্রায় সব বাসাতেই এরকম তাওয়া থাকে। তাওয়া মূলত রুটি বানানোর জন্য ইউজ করা হয়।

যায় হোক, গতকাল বিকেলে বাজারে গিয়ে পিজ্জা বানানোর বাটি একটা কিনে নিয়ে আসলাম। দামও বেশি না। ১০ ইঞ্চি সাইজের একটা বাটি ১৫০ টাকা নিলো। দামদর করলে হয়তো আরো ১০-২০ টাকা কমে নেয়া যেত। পাশাপাশি পিজ্জা বানানোর জন্য বাকি সব উপকরন যেমন ময়দা, ইস্ট, ক্যাপ্সিকাম, সয়াসস, টমেটো সস, চিজ কিনে নিলাম বিগ বাজার থেকে। বিগবাজারের মতো সুপারশপ গুলোর একটা সুবিধা হল এক দোকানেই সবকিছু খুঁজে পাওয়া যায়। বেশি ঘুরাঘুরি করতে হয় না।

img_0.18664547201005618.jpg

img_0.12428538098027718.jpg

img_0.539090782847231.jpg

যায় হোক, পিজ্জা বানানোর জন্য যা যা কিছু দরকার, তার প্রায় সবকিছুই গতকাল কিনে নিয়ে এসেছিলাম। প্ল্যান ছিল আজকের ইফতারিটা পিজ্জা দিয়েই করব। শুনতে অবশ্য হাস্যকর শুনায়। কিন্তু মাঝে মাঝে ব্যাতিক্রম কিছু করার চেষ্টা করতে খারাপ লাগে না। তাই যেই ভাবা, সেই কাজ। দুপুর থেকেই কাজে লেগে গেলাম পিজ্জা বানানোর।

এর আগে আমি অবশ্য কখনো পিজ্জা বানানো দেখি নি। আজ প্রথমবারের মতো ইউটিউবে খুব মনযোগ দিয়ে বেশ কয়েকটা ভিডিও দেখলাম। তবে আমার জন্য সুখের বিষয় এই যে আমার ওয়াইফ আবার খুব ভাল পিজ্জা বানাতে পারে। গত মাসে প্রথমবারের মতো যখন ওদের বাড়ি গিয়েছিলাম, তখন সে নিজেই পিজ্জা বানিয়ে আমাকে খাইয়েছিল। আজকেও অবশ্য সে নিজেই সবকিছু করেছে। আমি শুধুমাত্র তাকে সাহায্য করেছি।

img_0.7659711499429869.jpg

img_0.6285788108457256.jpg

প্রথমে ময়দার সাথে হালকা গরম পানি, লবন, চিনি ও ইস্ট মিশিয়ে কাঁই বানিয়ে নিয়েছি। এরপর সেই কাঁইটা কিছুক্ষণের জন্য ঢেকে রেখে দিলাম। কারণ ইস্ট মেশানোর কারনে ময়দার কাঁই টা একটু একটু করে ফেপে উঠবে। এদিকে এই সময়টুকুতে আমরা ক্যাপ্সিকাম, পেয়াজ কেটে তেলে ভেঁজে নিয়েছিলাম। সাথে ফ্রিজে থাকা কিছু চিকেনও কেটে ভেজে নিয়েছিলাম। কারণ পিজ্জা বানানোর ক্ষেত্রে এই তিনটা জিনিস আবশ্যক। সবকিছু রেডি করে পাঁচটার দিকে আমরা আমাদের পিজ্জা বানানোর কার্যক্রম শুরু করি। যদিও শুরু মোটেও ভাবি নি যে ভাল কিছু হতে যাচ্ছে। বরং মনের ভেতর কিছুটা সন্দেহ ছিল। যেহেতু প্রথমবারের মতো করতে যাচ্ছি, তাও আবার ফ্রাইপ্যান ও ওভ্যান ছাড়া, তাই হয়তো এতটা ভাল হওয়াও সম্ভব না।

img_0.980708836880613.jpg

img_0.26663650606446676.jpg

কিন্তু আমাদের অবাক করে দিয়ে আজকের বানানো পিজ্জা গুলো আসলেই অনেক ভাল হয়েছিল। সব মিলিয়ে মোট পাঁচটা পিজ্জা বানিয়েছিলাম। প্রথমটা কিছুটা শক্ত হয়ে গিয়েছিল তবে পরের বাকি ৪ টার সবদিক দিয়েই পাঁর্ফেক্ট ছিল। রেস্টুরেন্টে যে কয়েকবার খেয়েছিলাম, ঠিক তেমনই স্বাদ পেয়েছি।

পিজ্জা গুলো খাওয়ার সময় মনে মনে একটা হিসাব করছিলাম। রেস্টুরেন্ট থেকে অর্ডার দিয়ে আনলে প্রতিটা পিজ্জার দাম ৩৫০ টাকা করে পড়তো। সে হিসেবে ৫ টা পিজ্জার দাম আসে ১৭৫০ টাকা। অথচ সবকিছু মিলিয়ে আমাদের ৩০০ টাকাও খরচ হয় নি। আমার মনে হয় রেস্টুরেন্টগুলোর উচিত পিজ্জাগুলোর দাম আরেকটু হলেও কম রাখা। নতুবা মানু্ষ ধীরে ধীরে হোমমেইড পিজ্জার দিকেই ঝুঁকতে শুরু করবে।

হোমমেইড পিজ্জা: প্রথমবারের চেষ্টা! | Ecency