মূল্যহীন অমূল্য ৩

Words
257
Reading
2 min
Listen
Play
8y

IMG_20170328_203018.jpg
আমি আর নিস্তব্ধতাকে সাথে নিতে চাইলাম না। হিয়াকে বললাম কিছু বলতে। কিন্তু প্রশ্নের তীরটা ঘুরে এলো আমার দিকেই।এরপর আবার নিস্তব্ধতা। হাটতে হাটতে অবশেষে পাকা রাস্তাটি পেলাম। সাথে অল্প দূরে দেখতে পেলাম ঝাপসা আলো। তো আলো আকর্ষী পতঙ্গের মতো দুজনে ছুটে চললাম ওদিকেই। বোধহয় দৈবিক ভাবে পেয়ে গেলাম একটি চায়ের দোকান। হিয়া তার স্পন্দনকে বলল চল চা খাই (চা খাওয়া আর পান করার মধ্যে কোনো বাঙালি আজ পর্যন্ত পার্থক্য করতে পারলো না, স্বয়ং আমিও না)।হুমম চল বলে সম্মিত দিলাম। দোকানদারকে চা দিতে বললাম। এর ফাঁকে পাশের টিউবওয়েল থেকে পানি মারফত কাদাজল ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করলাম দুজনে। মাটির চায়ের কাপে চা হাজির ইতোমধ্যে। দোকানের সামনে অনেকগুলো কাঠের গুঁড়ি। দুজনে তাতে গিয়ে বসলাম চা নিয়ে। এদিকে বৃষ্টির দুএক ফোঁটা চায়ের কাপে পতিত হচ্ছে।চারিদিক বৃষ্টি পরবর্তী কুয়াশায় আচ্ছাদিত। হিমশীতল হাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে বসে টাটকা চা পাতার গরম চা। আহা ভাবা যায় না।

এদিকে স্পন্দনের হিয়া হিমের প্রকোপে প্রায় বরফ। অবস্থা বুঝে ব্যাগে রাখা চাদরটা বের করে হিয়াকে দিলাম।যদিউ ও প্রথমে নিতে চাইনি। কি ভেবেছিলে নিজের পড়ে থাকা জ্যাকেটটা খুলে ওকে দেবো। কেনোইবা দিবো বল সেটাও তো ভিজে আছে।আমি এত বড় আমানবিক থুক্কু অমানবিক নই।চায়ের পর্ব ঘুচেছে অনেক আগেই। তবু বসে আছি। মনে হচ্ছিল যুগযুগ ধরে বসে আছি।

রাত হতে চলেছে। একটা থাকার যায়গা লাগবে। দোকানদারকে বললাম কোনো থাকার যায়গা আছে কিনা আশেপাশে। কিছু দূরে আদিবাসী গ্রাম আছে, দোকানদার নিজেও একজন আদিবাসী ঐ গ্রামেরি লোক। কিন্তু সে এই দোকানেই থাকে। সপ্তাহে দুই দিন বাড়িতে থেকে।লোকটি আমাদেরকে তাদের রাজা সীতাংশু চাকমার সাথে দেখা করতে বলল ঐ গ্রামে গিয়ে। তার কথা মতো ও দেখানো রাস্তায় শুরু হলো হিয়া আর স্পন্দন এর পথ চলা।

মূল্যহীন অমূল্য ৩ | Ecency