আজকে হঠাৎ করেই ফোনটা হাতে নিয়ে লিখতে বসলাম। আসলে কোনো কিছু গুছিয়ে বা পরিকল্পনা করে লিখছি না, এমনিতেই মনে হলো কিছু কথা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিই। আমরা যারা বাংলায় কথা বলি, তারা আসলেই কত ভাগ্যবান! নিজের মাতৃভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করার মতো শান্তি আর কিসে আছে বলুন তো?
ছোটবেলায় মায়ের কোলে বসে শোনা সেই মিষ্টি বুলির কথা আজও কানে বাজে। এই বাংলা ভাষার জন্য আমাদের কত মানুষ রক্ত দিয়েছেন, বায়ান্নর সেই দিনগুলোর কথা ভাবলে সত্যি গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। মুখের ভাষার জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে—এমন ইতিহাস তো দুনিয়াতে খুব কম জায়গায় আছে।
তবে মাঝে মাঝে একটা বিষয় বেশ কষ্ট দেয়। আজকাল দেখি আমরা নিজেদের ভাষা বাদ দিয়ে অন্য ভাষার পেছনে বেশি ছুটছি। ফেসবুকে বা চ্যাটে অন্য ভাষায় কথা বলাটাকে আধুনিকতা মনে করি, আর বাংলা লিখলেও কেমন যেন ভেঙে বা বিকৃত করে লিখি। নিজের শেকড়টাকে এভাবে হালকাভাবে নেওয়া কি ঠিক হচ্ছে?
অথচ একটু ভাবলে বুঝতে পারবেন, আমাদের এই বাংলার মাটির মাঝে, মেঠো পথে, বাউল গানের সুরে আর চায়ের কাপের আড্ডায় যে আপনত্ব আছে, তা অন্য কোথাও পাবেন না। এই ভাষা তো শুধু কথা বলার মাধ্যম না, এটা আমাদের অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে।
তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে একটু মন খুলে এই কথাগুলো শেয়ার করি। চলুন না, সবাই মিলে একটু সচেতন হই। নিজের ভাষাকে ভালোবেসি, খুব সাধারণভাবেই বাংলাকে আমাদের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখি। কারণ দিনশেষে এই ভাষাই তো আমাদের আসল পরিচয়।