অপরিচিতা অপরাজিতা হয়ে কোনো এক ভেজা বিকেলে প্রকৃতির আলো আধারে ঘর বিমুখী পাখি হয়ে অজানা অপেক্ষায় কেউ ছন্নছাড়া হয়ে প্রকৃতিকে আপন করে নিয়েছে। নিস্তব্ধ পরিত্যক্ত কোনো এক পাহাড়ি মাটির ঘরে আবেশী হয়ে পাশে থাকা এক বুনো ফুলে লেগে থাকা বৃষ্টি কনাকে উপেক্ষা করে তার স্নিগ্ধতা ছুয়ে দেখছে।
কেনো জানিনা হঠাৎ বৃষ্টিতে সব ছেয়ে গেলো।ভাঙা ঘরের সামনেই কাঠের গুঁড়িতে বসে বসে ভিজে যাচ্ছি। এমন সময় ঘরের মালকিনের ডাক পড়লো। প্রথমে বুঝতে পারিনি কি হচ্ছে।সবি যেনো অনিশ্চয়তার কুয়াশিয়া ছেয়ে গেছে। অগত্যা বজ্রপাতের শব্দে নেশা কেটে গেলো। ইতস্ততভাবে তার ডাকে সাড়া না দিয়ে পারিনি। গৃহ মালকিনের উদারতায় শেষমেশ ঠাই হোলো তার বাটীতে। সংকীর্ণ ভাঙা মাটির ঘরে দুজন একই পথের পথিক। দুজনেই ছন্নছাড়া আবেগি, প্রকৃতির টানে ঘরছাড়া।
গন্তব্য একটাই- মুক্তি। এদিকে বৃষ্টি ঝরছে তার নিজস্ব ধারায়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে কিছু উপজাতি কিশোর কিশোরী বড়বড় কচু পাতাকে ছাতা করে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলছে। কেউবা কাদামাটির খেলায় হয়েছে মত্ত। ওদের মাঝে বজ্রপাত কিংবা আধারের কোনো ভয় দেখিনি। ওরা যেন প্রত্যেকেই এক একটি আলোক শিখা। যেন জোনাকি হয়ে হওয়ায় ভেসে চলেছে। পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগিয়ে চললে রাস্তার শেষে শুধু বাকি থাকে দিগন্ত বিসৃত উত্তল সমুদ্র। গন্তব্য মানে মুক্তিটা মূলত সেখানেই। মনের মুক্তি।