জীবনে ঝামেলা এড়াতে হলে "আমার" নামক ব্যধি থেকে দুরে থাকতে হবে। এবং "আমার" আর বাকী শব্দের মধ্যে যত খুশি শব্দ ঢুকিয়ে দিতে হবে। যেমন "আমার বন্ধু আমাকে কষ্ট দিল" এই বাক্যটা বলার সাথে সাথে বক্তা যে পরিমান কষ্ট পাবেন, "আমার ভার্সিটি জীবনের অমুক সাবজেক্টের অমুক সেকশনের বন্ধু আমাকে কষ্ট দিল বললে" ব্যথাটা হালকা হয়ে আসবে। তাই সব কিছুকে কাছে থেকে দেখলেও দুরে থেকে ভাবতে হবে।
.
"আহারে! আমি পারলাম না"। জীবনে আরেকটি সমস্যাযুক্ত শব্দ হচ্ছে 'আমি'। তাহলে একবার দেখে নেওয়া যাক এই আমিটা কে? একটা পুকুরে পানি আছে, এখন যদি কেউ বলে পানিটাই হচ্ছে পুকুর তাহলে সবাই তাকে পাগল বলবে। কারণ পুকুর আর পানি আলাদা জিনিস। আমার দেহের ভেতর প্রাণ আছে এখন যদি বলি এই দেহটাই আমি, তাহলে কিন্তু তা পানিকে পুকুর বলার মতই হল। আমার হাত-পা, শরীর কোনটাই আমি নয়। তাহলে প্রশ্ন জাগে আমিটা কে? উত্তরটা হতে পারে আমার মন। কিন্তু এই জায়গাতেও কিছুটা মিস লিংক আছে।
.
আমার মন বা অনুভূতি সমাজের একটা প্রতিফলিত রূপ ছাড়া আর কিছুই নয়। সমাজ বা পারিপার্শ্বিক আমাদের আকৃতি দেয়। আমরা একে অপরকে দেখে শিখি। সবাইকে কাপড়-চোপড় পরতে দেখি বলে ন্যংটা হয়ে থাকাটা আমাদের কাছে ভারি অন্যায় লাগে। আমার মন এমন কিছু কল্পনা করতে পারে না যা আমার দেখা কোন জিনিসের সাথে মিল নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তো সব অনুভূতিকেই কোন বা কোন হরমোনের ক্ষরণ বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। বয়সন্ধির আগে আপনি এমনটা কখনো ফিল করবে না এখন যেমনটা ফিল করেন। ডোপামিনের ক্ষরণ ভাল লাগায়। স্ট্রেস এর হরমোন রিলিজ হলে বিষন্নতা লাগে। তাহলে দেখা যাচ্ছে আমার মন বা অনুভূতিও আমি নয়।
.
তাহলে আমিটা কে? এজন্য আমাদের স্রষ্টার দিকে হাটতে হবে। মৃত্যুর দিকে আগাতে হবে। যখন সব সত্য উন্মোচিত হবে তখন হয়ত আল্লাহ দেখিয়ে দিবেন আমিটা কে ছিল, আমার শব্দটার মানে কি। এর আগে দুশ্চিন্তাগুলাক
ে শয়তানের গলায় মালা হিসেবে পরিয়ে দিতে হবে। আল্লাহ যার রব তার দুশ্চিন্তা থাকাটাও অন্যায়।