দ্বিতীয় পর্বের পর ফিরে এলাম তৃতীয় পর্ব নিয়ে। ছোট বেলা থেকেই আমার একটু আধটু লেখার নেশা ছিলো। বেশ কিছু কবিতা লিখেছিলাম। হঠাৎ করেই মনে ইচ্ছা জেগেছিলো একটি গল্প লেখার। সেই কারনে আনারি হাতে কলম উঠেছিলো একটি গল্প লেখার নিমিত্বে।
গল্পের থিমটা মাথায় গেথে ছিলো অনেক দিন থেকে। পর্ব আকারে লিখেও ছিলাম। মোট 07 পর্ব লেখার পর আর লেখা হয়ে উঠে নাই। আজ ভাবলাম আবার শুরু করা যাক। যেটার শুরু করেছিলাম 2 বছর আগে, সেটা শেষ করাটা খুব দরকার। সেই কারনেই নতুন প্রত্যয়ে আপনাদের সাথে নিয়েই যাত্রা শুরু করলাম।
PART - 3
হাটুতে কারো স্পর্স পেয়ে হঠাত্ করেই ঘুমটা ভেঙ্গে গেল আমার। চোখের উপর থেকে হ্যাটটি সরিয়ে দেখতে পেলাম ছোট্ট একটি বাচ্চা ছেলে আমার দিকে রাজ্যের কৌতুহল নিয়ে তাকিয় আছে। ছেলেটির দিকে তাকিয়ে মনে হতে লাগলো সে যেন আমার পূর্ব পরিচিত। তার সাথে আমার অনেক দিনের যেন জানাশোনা আছে। আমি ছেলেটির নামটা জিঞ্জাসা করতেই সে দৌড়ে পালালো।
ওর নাম অয়ন। বলে উঠলো একজন ভদ্রলোক। আমার মুখোমুখি সিটেই বসে আছে লোকটি। সম্ভাবত এই ছোট ছেলেটির বাবা। তার পাশে আরো একজন বসে আছে। জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে সে। চুলগুলো মুখের উপর থাকাতে তার মুখটা দেখা যাচ্ছে না। ইনি হয়তো ছেলেটির মা।
অয়ন নামের ছেলেটি সমস্ত কামরাটিতে ছুটে বেরাতে লাখলো। ছুটতে ছুটতে হঠাত্ করেই সে তার মায়ের কাছে আসলো। এবার মেয়েটি জানালার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ছেলেটির দিকে তাকালো। এ কি দেখছি আমি? আমি নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিনা।
অহনা ! ! ! হ্যা অহনায় তো, সেই চোখ, সেই মুখ সেই দৃষ্টি। একটুও বদলাইনি ও।
সমগ্র পৃথিবীটা যেন কেঁপে উঠলো। প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হলো আমার। আকাশেটা যেন আমার চোখের সামনেই চুর্ন বিচুর্ন হতে শুরু করলো। মনের অজান্তেই চোখে পানি এসে গেল। সেই মুহুর্তে অহনাও আমার দিকে তাকালো। ও যেন মস্ত একটা ধাক্কা খেল। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে নিস্তব্দ হয়ে গেল। এভাবেই কিছু সময় কেটে গেল। হঠাত্ দেখলাম ওর চোখ দুটো ভিজে এলো। আমি নিজেকে সামলে নিলাম। আর বসে থাকতে পারলাম না। দাড়িয়ে পরলাম।
ট্রেনের দরজার দিকে এগিয়ে গেলাম। আমি জানি পিছনে তাকালেই দেখতে পাব অহনা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। দরজার সামনে দাড়ালাম। অবশ্য দাড়িয়ে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। আমার সমস্ত অনুভূতির শক্তি যেন আমার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করতে চাইছে। মাথাটা কেমন এলোমেলো লাখছে।
একটি পরিচিত স্মেল নাকে এসে লাগলো। এটাতো অহনার শরীরের স্মেল। বড় করে একটি দম নিলাম। বুকের মাঝে আটকে রাখলাম কিছুক্ষন। খুব ইচ্ছা করছে আট বছর পিছনে ফিরে যেতে। সেই স্বর্গীয় সময়টাতে।
না, আমি আর ভাবতে পারছিনা। মাথাটা প্রচন্ড যন্ত্রনা করছে। দাড়িয়ে থাকার শক্তি পাচ্ছি না। পা ঝুলিয়ে বসে পরলাম। আজকের দিনটা আমার জীবনে আসবে আমি কল্পনাও করি নাই কোনদিন।
আজ অহনা আর অরন্যের পথটা একেবারেই আলাদা। হ্যা আমিই সেই অরন্য, যার চোখে আজও অহনার ছায়াটি বন্দী। অরন্যের জীবনের প্রতিটি স্বপ্নে, প্রতিটি লাইনেই ছিল শুধুই অহনা নামের মিষ্টি মেয়েটি।
source
অনেকটা সময় কেটে গেছে। কিন্তু অহনা একটুও বদলাইনি। আরো অনেক বেশী সুন্দর হয়ে গেছে। ওর চোখটা সেই আগের মতোই মায়াবী। আমি আজও ভুলিনি, ওর চোখের দিকে তাকিয়ে কতটা সময় নিমেষেই পার করেছি আমি।