ঘুম ঘুম চোখেই ফোনটা রিসিভ করলাম।
আর তখনই অন্ত বলতে শুরু করলো তুই কি এখনো ঘুমাচ্ছিস? প্রতিদিনের মতো আমি বললাম ঘুমাচ্ছি না যাচ্ছি ডিপার্টমেন্টে। আমি জানিনা মা আর অন্ত কিভাবে বুঝতে পারে আমি ঘুমাচ্ছিলাম। ফ্রেশ হয়েই ডিপার্টমেন্টে গেলাম।
৯টায় জাকারিয়া স্যারের ক্লাস আছে। তাই সবাই ব্যস্ত বই পড়তে।স্যার ক্লাসে এসেই পড়া ধরতে শুরু করে। তাই আমি মনে মনে ভাবছি আজ আমাকে পড়া ধরলেই সরি স্যার বলবো। আজকে ইন্টার্নাল মার্ক্স দেওয়ার কথা। সে চিন্তায় আর ভালই লাগছে না। এবার বিজনেস কমিউনিকেশন ক্লাস তেমন করিনি। মনে হয় উপস্থিতিতে ৬ মার্ক্স ও পাবো না। তবে টিউটরিয়াল পরীক্ষা বেশ ভালোই হয়েছিল।
প্রায় ১০টা বেজে গেল স্যার এখনো ক্লাসে আসলেন না। সি.আর খবর নিয়ে দেখলেন স্যার ঢাকায় একটি কনফারেন্সে গেছে।
এটা পাবলিক ইউনিভার্সিটির চিএ।সময়মত ক্লাস হবে এটা আশা করাটাই বোকামি। যাইহোক আমি অন্ত, সিমি মিলে ঝাল চত্তরে গেলাম। রহিম মামার ঝাল মুড়ি মাখানো সব থেকে ভালো হয়। ঝাল মুড়ি খেয়ে কিছুক্ষণ এখানে বসে আড্ডা দিলাম। ২ টায় আবার বিজনেস ম্যাথ ক্লাস আছে এজন্য আবার ডিপার্টমেন্টে হাঁটতে হাঁটতে গেলাম।
সত্যি বলতে আমি স্যারের কোন কথাই বুঝতে পারি না। এমনি ম্যাথ বুঝিনা আর দুপুরে ক্লাস করতে খুব বিরক্ত লাগে।
১ ঘণ্টা ২০মিনিট ক্লাস ওহ! ঘড়ির কাঁটা চলা যেন বন্ধ হয়ে গেছে ক্লাস। বাচা গেলো ক্লাস শেষ হওয়ার মাত্র ৫ মিনিট বাকি আছে। আর তখনই স্যার বলল আজ নাকি এক্সট্রা ক্লাস নেবে। কল্পনা করতে পারছিনা এতক্ষণ কিভাবে ক্লাস করবো। এদিকে দুপুরে শুধু ঝাল মুড়ি খেয়েছি ক্ষুদাও লেগেছে।
কি আর করার আজ আমার দিনটাই খারাপ ছিলো হয়তো। একটু পর স্যারকে বললাম ওয়াশরুমে যাব।এই বাহানায় বাইরে থেকে ১০-১৫ মিনিটের মতো ঘুরা ফিরা করে ক্লাসে আসলাম।ক্লাসে ঢুকেই দেখি বিশাল বড় একটা ম্যাথ করতে দিছে। সিমির খাতা দেখে দেখে ম্যাথ করলাম। কি আর করব ফাঁকিবাজি শব্দ টা যখন নিজের ঘাড়ে নিয়েছে কিছু আর করার নেই। অবশেষে ক্লাস শেষ হলো। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে হলে যেতে শুরু করলাম। রুমে গিয়ে ফ্রেশ না হয়েই খেতে বসলাম। অভ্যস্ত হয়ে গেছি এগুলোতে তাই আর খারাপ লাগেনা । কিন্তু আজও নোটিশ বোর্ড দেখতে ভুলে গেছি। কাল ক্লাসে গিয়েই আগে নোটিশ বোর্ড দেখবো।
আমি নিহা। আশা করছি আজকের লেখাটি আপনাদের ভাল লাগবে।