আমরাই বাঙ্গালি ঈদের দিনে ঝগড়া না করে থাকতে পারি না ।

Words
541
Reading
3 min
Listen
Play
6y

যদি ঈদের দিন সকালে তোমার বাসায় ঝগড়া না লাগে সো সরি ,You Are NOT Bengali .আজ ফেসবুকে লগইন করেই দেখি আমার আম্মা দুঃখের সাথে ফেসবুকে সকালবেলায় এই আবেগময় স্ট্যাটাস দিয়েছে ।অহ বলাই হয়নি শাওনকে আমি আম্মা ডাকি ।শাওনের এই পোস্ট দেখে ওকে আর ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর সাহস পাইনি ।নিশ্চয়ই খুব রেগে আছে তাই এই স্ট্যাটস দিয়েছে ।

db88c62fc93588783490457dd0fdae8c.jpg
source

একটু পর নিউজ ফিডে দেখি বেশ কয়েকজন এই আবেগময় স্ট্যাটাস দিয়েছে ।বুঝতে পারলাম না আজ কি ঝগড়া দিবস নাকি?ব্যাপার না এখনও অনেক সময় আছে সুযোগ পেলে আমিও বাড়ির কারো সাথে ঝগড়া করে নিবো ।কিন্তু বাড়িতে ঝগড়া করার মতো কেউ নেই ।তাই সারাদিন ঘুমায় দিনটা পার করলাম ।

বিকেলে এক পিচ্চি এসে আমার ভাতিজাকে বলছিল- কিরে ফাহিম আজ তুই টিভি দেখছিস ?আজ শুধু ঘুরে বেড়াতে হয় জানিস না ।পিচ্চির কথাগুলো শুনে আমার খুব হাসি পাচ্ছিল ।আমিও ছোটবেলায় ঈদে সবার বাসায় বেড়াতে যেতাম আর সালামি নিতাম ।

সন্ধ্যার দিকে আমি শাওনকে কল করলাম –আর বললাম আম্মা আমার সালামি তাড়াতাড়ি পাঠায় দিবা ।শাওনের সাথে কথা বলে বুঝতে পারলাম এখন ওর মেজাজ ভালো আছে ।তাই জিজ্ঞেস করলাম আজ এমন স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণ কি ছিল ?শাওন বলল-তিথির সাথে ঝগড়া হয়েছে । ওর কথাগুলো শুনে আমার ৫ বছর আগের ঈদের কথা মনে পড়ছিল ।

সেই সময় আমরা সবাই গ্রামের বাড়ীতে ঈদ করতে গেছিলাম ।অনেকদিন পরে চাচাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল ।সারা রাত আমরা গল্প করছিলাম ।বাবা ইমন ভাই আর ফয়সাল ভাইকে বলছিল –কাল তোরা তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠবি ।আমরা ফয়সাল ভাইকে নিয়ে অনেক মজাই করছিলাম ।আর বলছিলাম ঠিকই হয়েছে আমাদের ঘুরতে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেনা এখন কাল সারাদিন ধরে বাড়িতে কাজ করবা ।

ঈদের দিন ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই আপু বারবার ডাকছিল ।আর বলছিল- তকে মা ডাকছে ।আমি মাকে জিজ্ঞেস করলাম আমাকে ডাকছিলে ? মা রেগে বলছিল তোকে না তোর বড়বোনকে ডাকছিলাম ।

এমনি এমনি আপু মিথ্যা কথা বলে আমাকে ঘুম থেকে উঠিয়েছিল ।মা আপুকে কিছু করতে বললে আপু আমাকে সেই কাজ করতে বলছিল ।তাই সেইদিন আমার আর আপুর ঝগড়া হয়েছিল । আপু আমাকে বলছিল তোর সাথে আর কথাই বলবো না ,আমিও বলেছিলাম আমিও তোমার সাথে কথা বলবো না ।

আমাদের ঝগড়া শুনে ফয়সাল ভাইয়া রুমে এসে বলতে লাগলো –তোরা এবার চুপ করবি ।আমি সারাদিন কাজ করছি কোথাও যাইতেও পারছিনা আর তোরা ঝগড়া করছিস ।আমি কিভাবে বাইরে যাব সেটার কোন ব্যবস্থা কর ।বড়আব্বু আর বাবার কাছ থেকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেওয়া বিশাল ব্যাপার ।তবে বাবা আপুর কথা শুনে ।আপু কোন ভাবে বাবাকে রাজি করিয়েছিল ।কয়েক মিনিটের মধ্যে আমরা রেডি হয়ে ছিলাম ।

এদিকে দেখি ফয়সাল ভাই আমাদের রেখে একাই চলে গেছে ।আমরা ভাইকে কল দিলে তখন আর রিসিফ করছিলনা ।বুঝতে পারছিলাম ভাই কার সঙ্গে দেখা করতে গেছিলো ।তখন মনে হচ্ছিলো বাবাকে বলে দেই ভাই আমাদের ঘুরতে নিয়ে যায়নি ।রাতে ভাই বাড়ি ফিরে বলছে তোদের রেডি হতে দেরি হয়েছে এজন্য আমি একাই চলে গেছি ।আমরা তো বেশ বুঝতে পারছিলাম আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কোন ইচ্ছেই ছিল না ।

সত্যি সেই দিনের কথা মনে পরলে আমি একা একা আজও হাসতে থাকি ।এদিকে দেখি জান্নাত আর ফাহিম ঝগড়া করছে ।ফাহিম নাকি ওর বোনের চুলে বেঁধে দিবে।জান্নাতের থেকে ফাহিম ছোট ।জান্নাত কোন ভাবেই ফাহিমের কাছ থেকে চুল বেধে নিবে না ।এটা নিয়েই দুজনের ঝগড়া হচ্ছিলো । এখন ভালো মতোই বুঝতে পারছি আমরাই বাঙ্গালি ।ঈদের দিন ঝগড়া না করে থাকতে পারি না ।

তবে আমি মনে করি যেহেতু এই ঝগড়া গুলো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে হয় ।তাই এগুলার মধ্যে অনেক মজাদার গল্প লুকিয়ে থাকে ।

আমরাই বাঙ্গালি ঈদের দিনে ঝগড়া না করে থাকতে পারি না । | Ecency