একটি ভালোবাসার গল্প একটি ফুলে দুইটি ভমর

Words
669
Reading
3 min
Listen
Play
8y

ছেলেপক্ষ চলে এসেছে।প্রায় পনের জন মানুষ এসেছে।প্রথমদিন দেখতে এতো মানুষ কেন এনেছেন সেটাই ভেবে পাচ্ছেনা নিলা! দেখে মনে হচ্ছে আজই বিয়ে!

নিলা অনেক ভেবে ঠিক করেছে সে পাত্রকে সরাসরি তার সিদ্ধান্তের কথা জানাবে! এবং শেষে অনুরোধ করবে যেন পাত্র নিজেই না করে দেয়।

পার্লার থেকে সাজাতে চেয়েছিল কাজিনরা, কিন্তু নিলা রাজি হয় নি।তাই ওর কাজিনরাই ওকে সাজিয়ে দিয়েছে।

নিলা একটা ট্রে হাতে বসার ঘরে ঢুকছে।ওর দুই পাশে দুই কাজিন।ইরিন আর রিমা।মনে হচ্ছে ওরা দুজন নিলার বডিগার্ড! দু পাশে দুজন ডিউটি করছে!
যাই হোক নিলা ট্রে হাতে ঢুকতেই একটা মেয়ে(মেহমানদের মধ্যে) উঠে আসলো।এসে ট্রে টা হাত থেকে ধরে নিল আর নিলা কে একটা সোফায় বসিয়ে দিল।নিলা মাথা নিচু করে বসে আছে।একবার চোখ তুলে তাকিয়ে দেখে নিল সামনের সোফায় কে বসে আছে।মনে হচ্ছে এটাই ছেলে! বাহ ছেলে তো বেশ সুন্দর!! নিলার তো মনে হচ্ছে ওর মানা করার কোনো প্রয়োজন ই নেই।ছেলে নিজেই না করে দিবে।কারন ছেলে বেশ সুদর্শন! লম্বা, ফর্সা।যাকে বলে জেন্টেল ম্যান! সেই তুলনাই নিলা অতি সাধারন! তাই নিলা প্ল্যান চেন্জ করে ফেলে।মনে মনে ভাবে যে অযথা ওসব কথা বলার দরকার নেই।বিয়ে এমনিতেই এগুবেনা!

দেখাশোনার এক পর্যায়ে ছেলের বোন(যে মেয়েটা ট্রে ধরল) বলে উঠল,

বোন : আমার মনে হয় ওদের একটু আলাদা কথা বলতে দেয়া উচিত।
বোনের কথায় সবাই সায় দিল এবং নিলা কে আর রাফসান(ছেলে) কে নিলার ঘরে নিয়ে বসানো হল।

দুজনেই চুপ! কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর রাফসান শুরু করল কথা,

রাফসান : ভাল আছেন?
নিলা : জি, আপনি?
রাফসান : জি, আমিও ভাল।
আপনার পুরো নাম কি?
নিলা : সামিয়া আফরোজ নিলা।
রাফসান : ওহ্, নাইস নেইম!
নিলা : থ্যাংস!
রাফসান : আমি রাউফুর রহমান রাফসান ।
নিলা : (একটা হাসি দিয়ে) ভাল।
রাফসান : থ্যাংস।
এরপর আরো পাঁচ মিনিট মত স্থায়ী হলো ওদের কথোপোকথন।টুকিটাকি বিষয় নিয়ে কথা হলো এর মাঝে।এরপর রাফসান এর বোন এসে কিছুক্ষণ কথা বলল দেন ওরা কিছুক্ষণের মধ্যে বিদায় নিয়ে চলে গেল।
মা বাবার মুখ দেখে মনে হচ্ছে ওনাদের বেশ পছন্দ হয়েছে ছেলেকে।ইশ ছেলে মানা করে দিলে ওনারা কষ্ট পাবেন ভেবে কষ্ট লাগছে।কিন্তু কি ই বা করার আছে?
যাই হোক, নিলা ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেয়।মেহমানরা সব এতোক্ষণে বিদায় হয়ে গেছে।নিলার খুব টায়ার্ড লাগছে।দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকাতেই দেখলো ওটা বন্ধ হয়ে আাছে।মনে হয় ব্যাটারি শেষ হয়ে গেছে।সময় দেখার জন্য ফোনটা হাতে নিল নিলা।নিয়েই দেখে, দুইটা মিসড কল আর একটা ম্যাসেজ এসেছে।মিসড কল ওপেন করে দেখল নিলয় কল দিয়েছিল।নিশ্চয় টাকার জন্য! ব্যাক করতে গিয়েও ব্যাক করলো না নিলা।কারণ এখন সত্যি ই টাকা নেই ওর কাছে।আর কোনো ভাবে ম্যানেজ ও করতে পারে নি।তাই আর ব্যাক করল না।ফোনটা নামিয়ে রাখতে যাবে তখন মনে পড়ল ম্যাসেজ এর কথা।নিলীমা দেখল ম্যাসেজটা একটা আননৌন নাম্বার থেকে এসেছে।কিন্তু এই ম্যাসেজ কে দিল?! কেন দিল?!!

"হ্যালো মিস, কেমন আছেন? আচ্ছা,আপনি এতো সুন্দর কেন? একটু কম সুন্দর হলে হতো না?"

নিলা ম্যাসেজ টা পড়ে অবাক হলো।আর ভাবতে লাগলো কে ম্যাসেজটা পাঠিয়েছে।শেষমেশ মনে করল যে হয়তো কোনো রং নাম্বার থেকে অথবা কেউ মজা করেছে।কিন্তু ঠিক যখন ই ফোনটা রাখতে যাবে, আরো একটা ম্যাসেজ আসলো,

"গুড ইভনিং, কি করেন?"

এবার নিলা রিপ্লাই দিলো,

"কে আপনি?"

এবার দুইপক্ষের ম্যাসেজিং শুরু হল,

অচেনা : আমি মানুষ!

নিলা : আপনি যে মানুষ, হনুমান না তা আমিও জানি।কিন্তু আপনি কে? আর আমাকে এভাবে ম্যাসেজ ই বা করছেন কেন!?

অচেনা : আপনার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হল, বন্ধুত্ব করতে ইচ্ছে হল তাই।

নিলা : আমি অপরিচিত কারো সাথে কথা বলি না।বন্ধুত্ব তো দুরের কথা।আর শুনুন, আপনি যে ই হোন না কেন, খবরদার আমাকে আর ম্যাসেজ করবেন না।আমি আপনার সাথে বন্ধুত্ব করতে ইন্টেরেসটেড না।বুঝেছেন?

অচেনা : আচ্ছা, আপনি রাগ করছেন কেন বলুন তো?
আমি খারাপ মানুষ নই, আপনি এ ব্যাপারে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।

নিলা : ভাই/বোন আপনি ভাল বা খারাপ যা ই হোন না কেন, আমার তাতে কোনো কিছু যায় আসে না।আপনাকে বলেছি ম্যাসেজ না করতে, আপনি ম্যাসেজ করবেন না, ব্যাস!

অচেনা : 😊

নিলা : আবার হাসছেন কেন আপনি?

অচেনা : এই যে আপনি ভাই/বোন লিখেছেন তাই।

নিলা : তো কি লিখব? আমি তো আর জানি না যে আপনি ছেলে নাকি মেয়ে!

অচেনা : আমি একজন ছেলে।😊

নিলা : ওহ আচ্ছা! আমিও একজন ছেলে ভাই।😊

অচেনা : কেন মিথ্যে বলছো?

নিলা : কি মিথ্যে? আর আপনি কিভাবে জানেন যে মিথ্যে?

অচেনা : আমি তো তোমাকে চিনি!!!

আগামী পর্বে বাকিটা দেব

একটি ভালোবাসার গল্প একটি ফুলে দুইটি ভমর | Ecency