একটি পড়ন্ত বিকেল

Words
261
Reading
2 min
Listen
Play
4y

বিকেল ৫.২৫ মিনিট। বাসার ছাদে উঠে লক্ষ‍্য করলাম পাশের বিল্ডিংয়ে অনেকগুলো কবুতর। আমি ভাবলাম ঐ বিল্ডিংয়ের কারো পালা কবুতর হবে হয়ত। অনেকদিনপর এতগুলো কবুতর একসাথে দেখলাম ভালোই লাগল। এরপর ব‍্যস্ত হয়ে গেলাম মেঘ দেখতে। কি সুন্দর স্রষ্টার সৃষ্টি তাই না? বিশাল আকাশের বুকে রঙিন মেঘেদের ভেলা। অদ্ভুদ ভালো লাগে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে।

ছাদে কেউ একজন এলো হাপাঁতে হাপাঁতে, দুই হাতে ছোট দুটো বালতি এক বালতি ভরা পানি আর এক বালতিতে কি যেন । আমার সাথে থাকা ভাবি আমাকে বলল, ঐ ভাবি প্রতিদিন এই সময়ে কবুতর গুলোকে খাবার দেয়। ওনার হাতের এক বালতিতে পানি আর এক বালতিতে কবুতরের খাবার। উনি প্রতিদিন নিয়ম করে খাবার দেয় সম্ভবত কোভিডের সময় থেকেই। এজন‍্য ওরাও এখানে একসাথে হয় এই সময়। কি সুন্দর চিন্তাধারা। শুনেই খুব ভাল লাগল মনে মনে বললাম এখনো মানুষের স্বার্থহীন মায়া বিলীন হয়নি। ভাবি বলল, আমি খাবার ছিটিয়ে ডাকলেই চলে আসবে ওরা।

Image

আমরা একটু দূরে সরে দেখলাম কি অদ্ভূত মায়ায় বাধা পড়েছে দুইপক্ষ। দেখেই মনে হচ্ছিল যেন কত দিনের চেনা। ভালবাসতে জানলে যে সব জীবই আপন হয়।

এই বিষয়টি অনেকের চক্ষূসূল হল। ছাদে একটা পানির কল ছিল। উনি আগে এই কল থেকেই পাখিদের জন‍্য পানি নিত। পাখিদের নিয়মমত ছাদে আসায় কিছু মানুষের কিঞ্চিৎ খোঁচা লাগল গায়ে। কাজেই ছাদের পানির কলটি বন্ধ করে দেয়া হল। তাই ঐভদ্র মহিলা নিজ ফ্ল‍্যাট থেকেই পানি টেনে আনেন। বিষয়টি জেনে মনটা একটু খারাপ লাগল।

যাইহোক, সন্ধ‍্যা নামতে শুরু করল। মাগরিবের আযান পড়বে কিছুক্ষনের মধ্যে। পাখিদেরও খাওয়া শেষ। সংখ‍্যায় কমতে শুরু করল ওরাও। এদিকে লক্ষ‍্য করলাম পাখিদের যাওয়ার পর উনি একটা কাপড় দিয়ে পুরো নোংরা মুছে, ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করল। তবুও দোষ যেন তার পিছু ছাড়ে না।

একটি পড়ন্ত বিকেল | Ecency