বিরিশিরিতে একদিন

mawahab(67)
Published in
#blog
Words
509
Reading
3 min
Listen
Play
8y

প্রকৃিতকন্যা খ্যাত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর একটি ক্যাম্পাস। কিন্তু এক জায়গায় থাকতে আর কতক্ষন ভাল লাগে। অজানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে খোঁজে, মানসিক প্রশান্তির আশায় বাকৃবি ব্যাকবেঞ্চার গ্রুপের উদ্যোগে ঘুরে এলাম অসাধারন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য মন্ডিত নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর-বিরিশিরি।

DSC03732.JPG

দিনটা ছিল সোমবর। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আমরা সবাই ভোর ৬ টার মধ্যে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।সবাই গাড়ির অপেক্ষায়। সকাল ৭ টার সময় অমরা গাড়িতে চেপে ক্যাম্পাস থেকে রওনা দেই বিরিশিরির উদ্দেশ্যে। আমার সাথে ছিল ১৮ জন, সুমন, ইয়ামিন, তরিকুল, শাপলা, দিশা, লিমি, পলি, রাসেল, মোমিন, তিশা, নোমান, সুমি, বন্যা,নিরব, জাহিদ, সোনিয়া, রায়হান এবং আমি আব্দুল ওয়াহাব। ব্যাকবেঞ্চার বলে কথা, গাড়িতে উঠার সাথে সাথেই শুরু হল গান আর হই-হুল্লোর, কথা দিয়ে একে অপরকে পচানো। মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে সকালের নাশতাটা শেরে নিলাম। প্রায় সকাল ১১ টার দিকে আমরা পৌঁছালাম সোমেশ্বরী নদীর তীরে। গাড়ি পারাপারের তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকায় আমরা গাড়ি রেখে একটি বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করলাম। নৌকায় চেপে আবার রওনা দিলাম, নৌকায় দিয়ে গন্তব্য স্থলে পৌছাতে প্রায় ঘন্টা খানেক সময় লাগবে। এদিকে নদীর চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য ছিল আমাদের সবার কাছে অপরিচিত। নদীর মাঝে মাঝে চর জেগেছে, পাশে সারি সারি গাছ দাড়িয়ে আছে। সবচেয়ে আকর্ষনীয় ছিল নদীর পাশের পাহাড় গুলো। অন্যরকম সৌন্দর্য্যে ঘেরা, মায়াময়ী সবুজে ঢাকা পাহাড়, আর তাতে বাধা পাচ্ছে সাদা সাদা মেঘের খন্ড গুলি।
DSC02185.JPG

সূর্য মামা সকাল গড়িয়ে দুপুরে পা দিচ্ছে, সবার পেট খাবার জন্য সাড়া দিচ্ছে। তাই নৌকার উপরেই দুপুরের খাবারটা সেরে নিলাম। খাবার শেষ করতেই নৌকা এসে দাড়াল বিজিবি ক্যম্পে। একটি কথা বলাই হয়নি, আমরা যে নদী দিয়ে যাচ্ছি তার অপর পাশ ভারত। বাংলাদেশ ভারত বিভক্ত কারী তার কাটার বেড়া নৌকা থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সেখানে কছিু সময় অতিবাহিত করে ঘুরে পেছনের দিকে রওনা দিলাম, উদ্দেশ্য ১৯১৫ সালে গড়ে ওঠা প্রচীন রাণীখং ক্যাথলিক গির্জা। নদীর পাশে পাহাড়ের পাশে গির্জাটি অবস্থিত।

DSC02276.JPG

গির্জাটি দেখা হলে আমরা মূল গন্তব্য চিনামাটির পাহাড়ের দিকে রওনা দেই।নদীর কিনার থেকে চিনামাটির পাহাড়টি প্রায় ৩ কেিলামিটার দূরে। পরিবহন ব্যবস্থা ভাল না থাকায় অমরা পায়ে হেটে পাহাড়ের দিকে যাত্রা দিলাম। প্রায় ৪০ মিনিট হাটার পর ক্লান্ততার ছাপ নিয়ে পৌঁছায় চিনামাটির পাহাড়। সেখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এতটাই মনোমুগ্ধকর যে, নিমেষেই সবার ক্লান্তি ভাবটা দূর হয়ে সবুজ পাহাড়ের মত যেন সতেজ হয়ে উঠেছে। সবুজ পাহাড়ের পাদদেশে নীল পানির লেকটি সেখানকার সৌন্দর্য্যকে বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। ছেলেদের নীল পানিতে গোসল আর ঝাপাঝাপি দেখে মেয়েদের একটাই আফশোস , ইস আমরাও যদি গোসর করতে পারতাম। গোসল , ফটোসুট আর পাহাড়ের চুড়ায় ওঠার পর এবার ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিলাম। কিন্তু মেয়েদের পায়ের অবস্থা খুব খারাপ, সাথে ছেলেদেরও । হাটা প্রায় অসম্ভবপর হয়ে উঠেছে। এমন সময় একটি ট্রাক্টর খালি আসছিল । ডাইভারকে অনুরোধ করে আমরা সবাই ট্রাক্টরে উঠলাম। ট্রাক্টরটা যেন আমাদের ভ্রমনে নতুন আনন্দের মাত্রা যোগ করেছিল। ট্রাক্টর থেকে নেমে নৌকায় উঠলাম এবং বিকেলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে করতে ফিরে এলাম সোমেশ্বরী নদীর ঘাটে।

DSC02306.JPG

এদিকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে, এবার ফেরার পালা। যদিও মন চাইছেনা তবুও কিছু করার নেই, ফিরতেই হবে। সবাই রওনা দিলাম সেই চির-পরিচিত সবুজে ঘেরা, স্মৃতি তাড়িত ক্যাম্পাসের দিকে। সত্যিই সেই দিনটি কোন দিনও ভুলার নয়। । সত্যিই আজীবন স্মৃতির পাতার অ্যালবামে ছবি হয়ে বাধা থাকবে এই দিনটি।

ফিচারটি লিখা আজ থেকে ৪ বছর আগের একটি ট্যুরের স্মৃতি থেকে

Be positive, think positive and stay with me at mawahab@mawahab

steemit logo @mawahab.jpg

বিরিশিরিতে একদিন | Ecency