অর্থ কামানো এবং খরচ করা উভয়ই শেখ জরুরি

Words
321
Reading
2 min
Listen
Play
3y

বন্ধুমহলে অনেকে আমাকে বেহিসাবি বলে। আমি অযথা খরচ করি এটা তাদের ভাবনা । আসলে আমি অযথা না বরং অঢেল খরচ করি । বলতে গেলে করতাম । এখন করিনা ।

আগে বন্ধুরা মিলে আশেপাশে কোথাও ঘুরতে গেলে সবার যাতায়াত খরচ আমি নিজ থেকে দিতাম । একসাথে কিছু খেলে খাবার বিল সম্পূর্ণটাই আমি দিয়ে দিতাম । এমনকি কারো বাসায় দাওয়াত দিলেও কিছু খরচ আমি দিতাম । ধরেন রাতের খাবার দাওয়াত আমি সন্ধ্যার নাস্তা নিয়ে যেতাম এমন ।

InShot_20230428_220507441.jpg
বন্ধুমহলের কেউ বলতে পারবেনা যে আগ বাড়িয়ে কখনও তারা আমার হয়ে রিকশা ভাড়া দিয়েছে অথবা নাস্তার বিল দিয়েছে । দেয়নি তাতে আমার আফসোস নেই , আমি দিতাম আমার ভালো লাগা থেকে তাদের থেকে ফেরত আবার আশা করে দিতামনা । কাউকে আমি যখন দাওয়াত দিতাম , মাঝে মাঝে যারা অধিকার নিয়ে চেয়ে দাওয়াত নিতো যখন শুনতাম তার দাওয়াত দেওয়া মেহমানদের লিস্টে আমি নেই খারাপ লাগতো । খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক !

কারো টাকা লাগলে একবার খালি বললেই হতো আমি দিয়ে দিতাম , টাকার সংখ্যা কয়েক হাজার হলেও দেওয়ার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতাম না ।মনে হতো বন্ধুর দরকারে বা বিপদে আমি না এগিয়ে গেলে কে যাবে ?! সমস্যা এখানেও না , সমস্যাটা তখন থেকে শুরু যখন বুঝলাম তারা আমার অঢেল খরচকে নিজের অধিকার বলে গণনা করতে লাগলো ।

বড় হচ্ছি , বুঝতে শিখছি , আয়ের তুলনায় দায়িত্ব বাড়তে লাগলো , অযথা অঢেল খরচ কমিয়ে দিলাম । এখন যখন দুই বন্ধু মিলে নাস্তা খাবার পর আমি আমার বিলটা পরিশোধ করি তখন অপর বন্ধু মন খারাপ করে ! পর পর দুইদিন শুধু নিজের বিল দেওয়ার তৃতীয় দিন শুনতে পাই সে নাস্তা করে এসেছে !

খরচ কমিয়ে দিয়েছি , আসেপাশের মানুষ কমতে লাগলো । প্রথম প্রথম খারাপ লাগতো , এখন ভালো লাগে । আগের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ অথবা তার থেকে একটু বেশী খরচ হয় বাকিটা মাস শেষে ব্যাগের কোনায় পরে থাকে ।

এখন বুঝছি , বুঝতে পারছি , অর্থ কামানো শেখা যেমন জরুরি , তা খরচ করা শেখাটাও জরুরি ।

আজকের মতন বিদায় নিচ্ছি , আশা করছি সবাই ভালো থাকবেন ।

অর্থ কামানো এবং খরচ করা উভয়ই শেখ জরুরি | Ecency