আত্ম-প্রেম: ‘স্বাস্থ্যকর স্বার্থপরতার’ এই অনুশীলন আপনার জীবনে আছে তো!

Words
351
Reading
2 min
Listen
Play
5y

আমাদের তথাকথিত আধুনিক সমাজের ভিত এমনভাবে গড়ে উঠেছে যেখানে আমরা প্রতিদিন প্রতিযোগিতা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যস্ত। আমরা কখনো অন্যের সাথে, কখনো নিজের সাথে সমানতালে প্রতিযোগিতা করে চলেছি । ফলস্বরূপ নিজেই নিজেকে ভালোবাসা বা নিজের প্রতি নিজেই সদয় হওয়ার ধারণাটি আমাদের জীবনে জায়গা করে নিতে পারছে না। প্রতিদিনের যান্ত্রিকতায় তাই তৈরি হচ্ছে অসংখ্য জটিলতা যা আমাদের জীবনকে বিষাক্ত করে তুলছে। আমাদের এই যান্ত্রিক জীবনের এরকম অজস্র সমস্যার সমাধান হতে পারে আত্মপ্রেমের ধারণাটি।

আত্মপ্রেম কি?

বিখ্যাত আমেরিকান অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন খুব যথার্থভাবে আত্মপ্রেমকে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন "যখন আমি নিজেকে ভালবাসতে শুরু করি, তখন আমি আমার স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল নয় এমন সবকিছু থেকে নিজেকে মুক্তি দিয়েছিলাম: খাদ্য, মানুষ, জিনিস, পরিস্থিতি এবং সমস্ত কিছু যা আমাকে নিজের থেকে দূরে নিয়ে এসেছিল। প্রথমে আমি এই মনোভাবটিকে "স্বাস্থ্যকর স্বার্থপরতা" বলেছিলাম। আজ, আমি জানি এটি 'প্রেম' ’’।

photo-1579591165250-987f23844669.jpg
link

আত্মপ্রেমের মূল ধারণাটি হচ্ছে - আপনি নিজের প্রতি নিজেই সদয় হবেন, নিজেই নিজেকে ক্ষমা করতে শিখবেন, নিজেই নিজেকে ভালো কোন কাজে উৎসাহ দেবেন, ভালো কোনো কাজ সম্পন্ন হলে নিজেই নিজেকে অভিনন্দন জানাবেন ইত্যাদি। আত্মপ্রেমের এই মনস্তাত্ত্বিক গ্রামার রপ্ত করতে পারলে হীনমন্যতায় ভুগতে থাকা এই আপনি-ই হতে পারেন প্রবল আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান একজন সফল ব্যক্তিত্ব।

যিনি আত্মপ্রেমিক তিনি আত্মকথন করেন। নিজের সাথে নিজে কথা বলতে পারার দক্ষতা বা ক্ষমতা যার আছে তিনি নিজের অর্জনে আত্মতৃপ্তি অনুভব করেন। আবার তেমনিভাবেই নিজের ব্যর্থতায় ঘাবড়ে না গিয়ে নিজেকে সময় দিয়ে চমৎকারভাবে আত্মউন্নয়নের পথে হাঁটতে পারেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় নিজেকে দোষারোপের কোন স্থান থেকে না। বরং নিজের প্রতি নিজের সহমর্মিতাবোধ থাকায় সমস্যার ধারাবাহিকতায় খেই না হারিয়ে সুচারুভাবে সেগুলো সমাধান করা যায়।

একজন আত্মপ্রেমিক নিজেকে তার সমস্ত সত্তা দিয়ে ভালবাসেন। নিজের শরীরকে ভালবাসেন বলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর এমন বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে এড়িয়ে চলতে পারেন। ফলে শারীরিকভাবে সুস্থ মানুষটি মানসিকভাবেও সুস্থ থাকার পথে আরেকধাপ এগিয়ে থাকেন।

জীবনে চলতে গিয়ে এমন অনেক মুহূর্ত আসে যখন আপনি কাউকে পাশে পেতে চাইছেন কিন্তু কাউকে পাশে পাচ্ছেন না। যদি আপনি একজন আত্মপ্রেমিক মানুষ হন, তাহলে জীবনের এই কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হতে আপনি ভয় পাবেন না। কাউকে পাশে পাবার আগে নিজে নিজের পাশে দাঁড়াতে পারলে বাকিদের প্রয়োজন কমে আসে। সর্বক্ষণ না হলেও, অনেকটা সময় নিজেই নিজেকে সাপোর্ট দেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয়।

আসুন এই ‘স্বাস্থ্যকর স্বার্থপরতা’ অনুশীলনের গ্রামারটি রপ্ত করি, নিজেকে সময় দেই, নিজেকে ভালোবাসি।।

আত্ম-প্রেম: ‘স্বাস্থ্যকর স্বার্থপরতার’ এই অনুশীলন আপনার জীবনে আছে ত... | Ecency