আত্বসম্মানবোধ জাগিয়ে তোলার মূল অস্ত্র যখন "সমালোচনা"।

Words
556
Reading
3 min
Listen
Play
6y

আজকাল সমাজে একটি খুবই প্রচলিত বিষয় হচ্চে সমালোচনা।
আসলে সমালোচনা কি?
আমার মতে,কোন ব্যর্থ মানুষকে তার আশে-পাশের লোকজন কোন সফলতম ব্যক্তির সাথে তুলনা করাকেই সমালোচনা বলে।
এই বিষয়টা হইত সমালোচনাকারীর জন্য অনন্দায়ক হতে পারে কিন্তু যে ব্যক্তিকে নিয়ে সমালোচনা করা হয় তার জন্য 'কাঁটা গা এ নোনের ছিটা' এর মতই অবস্থা হয়।যা ওই ব্যক্তির ব্যর্থতার পর ঘুরেদাড়নোর মনোবলকে আঘাত করে,যার ফলে সে হইত এমন কিছু করা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেই যা তাকে সফলতা এনে দিতে পারত।আমাদের সমাজের মানুষ সফলতাকামীদের পাশে দাড়াতে খুবই পছন্দ করে আর ব্যর্থ মানুষকে করে অগ্রাহ্য যার ফলে আমাদের দেশে হাতেগণা কয়েকজন লোকই সফল হতে পারে।

এই সমালোচনার অস্তিত্ব আমাদের সমাজের মধ্যবিত্ত বা নিন্মমধ্যবিত্ত পরিবার গুলাতেই দেখতে পাওয়া যায়।বিশেষ করে ঐ পরিবার গুলোর উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েগুলোর তহ নিত্যদিনের সঙ্গী হল সমালোচনা।

যেমন:পাশের বাড়ির ঐ ছেলে তহ এইসব ওইসব কইরা ফেলছে তুই কি করতাছছ!
ঐই ছেলে যদি ভাত খাই, তাইলে তরে কি আমি ঘাস খাওয়াই?আরো কতকি।

পরিবারের বড় ব্যক্তিদের কথা মতে পাশের বাসার ছেলে মঙ্গল গ্রহে পা রাইখাফেলছে আর আমি এখনো আমার বাসার গন্ডিই পার হইতে পারলাম না।

কিন্তু তাদেরকে যখন বলেতে যাব যে"" প্রত্যেক মানুষ তার নিজস্ব ইচ্ছা অনুযায়ী জীবন-যাপন করতে চাই,নট পাশের বাসার ঐ ছেলের মত,সবাই পাশের বাসার ছেলে হইতে পারে না ""।তখনই বলে যে মুখের উপর কথা বলবি না, তর্ক করবি না,এই বলে ঔ ছেলে মেয়েদের সমালোচনা বিরুদ্বে জবাব দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
তারা ভাবে তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে তাদের ব্যর্থতার জন্য ছোট করলেই হয়ত তার আত্ত্বসম্মানবোধ জাগ্রত হবে এবং তার সন্তান সফল হবে। কিন্তু আসলেই কি তা হয়?

আসলেই কি সমালোচনা মানুষকে সফলতা এনে দেয়?
না কখনাই না।
সত্যি বলতে মানুষ কোন ভূল এর উর্ধ্বে, যে তাকে সমালোচনা করে তার ভূল ঠিক করতে হবে। সমস্যাটা আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর, তারা তাদের সন্তানকে অন্যের সাথে তুলনা করতে গিয়ে নিজেরই ছেলের প্রতিভাকে গলা টিপে হত্যা কারছে।যার মূল দায়ভার হচ্ছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার যেখানে কোন মানুষকে তার ব্যর্থতার জন্য হাসির পাত্র বানানো হয় সেই সমাজ থেকে কি ই বা আশা করা যাই।এইটা কোন সমাজের অপূর্ণতা না এইটা হচ্ছে সমাজের রোগ, যা একটি মহামারীর আকারে সমাজে ধারণ করেছে, যার কারণে প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারের উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা মানসিক অবসাদে ভোগছে,যা কোন মারত্বক রোগ থেকেইও ভয়ঙ্কর শতকরা ৮৫% আত্ত্বহত্যার রোগীর আত্ত্বহত্যার মূল কারণ হল এই মানসিক অবসাদ।যার থেকে পরিত্রাণ এর প্রধান উপায় হল কাছের মানুষের সাথে তার অবসাদ সম্পর্কে কথা তাহলেই তার মনের অবসাদ দূর হতে পারে।
কিন্তু আসলেই কি তারা পরিবারের সাথে ক্লোজ হতে পারছে?
না একদম না, যখন পরিবারই তার মানসিক অবসাদের জন্য প্রধান দায়ী তাহলে সে সম্পর্কে কথা বলতে যে কিভাবে তাদের কাছে যাবে।
তাহলে সেই ব্যক্তি কি করবে, তার কি কিছুই করার নেই!
হ্যা অবশ্যই আছে, তাহল এই সমালোচনার মোকাবিলা করা। যখন আশেপাশের সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন উঠে দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না, হয় কর না হলে মরো এই রকম সিচুয়েশন হয়ে যায়।তখন তোমাকে উঠে দাঁড়িয়ে সামনে সকল বাধার মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতেই হবে।
আকাশ যত রকমেরই রং ধারণ করোক না কে তার প্রধান রঙ কিন্তু নীলই,তাই মানুষ যতই সমালোচনা করোক না কেন সবকিছু পেছনে ফেলে পরিশ্রম করে সফলকামী হওয়াই মানুষ এর মূল ধর্ম।

IMG_20200716_184429.jpg

যেকেউই তার জীবনের কোন কিছুর জন্য সমালোচিত হতে পারে,তাই বলে হাতাশ হবার কিছুই নেই, এর বিরুদ্বে শক্ত অবস্থান গ্রহন করে নিজের ভিতর অত্ববিশ্বাস রেখে এগিয়ে যাওয়ার নামই হল জীবন।
উপরের বক্তব্যটি সবটুকুই আমার ব্যক্তিগত অনুধাবন থেকে লিখা।আপনি হইত এর থাকে পুরোপুরি একমত না ও হতে পারেন তাই নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাকে আপনার মতামত জানাতে পারেন এবং সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

আত্বসম্মানবোধ জাগিয়ে তোলার মূল অস্ত্র যখন "সমালোচনা"। | Ecency