এইতো সপ্তাখানেক আগের কথা ঘুরে আসলাম চট্টগ্রাম এর কিছু দর্শনীয় স্থান থেকে। এইবারের টুরটা একটু প্রতিবারের থেকে আলাদাই ছিল। মাত্র ১ দিনে আমরা চট্টগ্রামের চারটা জায়গা ঘুরে আসি। আগের দিন রাতে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করি সারাদিন ঘুরে আবার সেদিন রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। টুরটা ১ দিনের হলেও প্রতিটা মুহূর্ত অনেক উপভোগ করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয় এর জীবন প্রায় শেষ বললেই চলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হলে সবাই যার যার মত চাকরি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে, সবাই সবার নিজের জীবন গুছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। চাইলেও সব বন্ধুরা একসাথে হওয়া হয়ে উঠবে না। আর একসাথে বন্ধুরা মিলে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হবে না। বলতে গেলে এইটাই ছিল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুদের সাথে শেষ ঘুরতে যাওয়া। এই মুহূর্ত গুলো একটা সময় অনেক মিস করবো। বন্ধুদের সাথে একসাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার অনুভূতি গুলো কখনো কোথাও কিনতে পাওয়া যাবে না।
প্রতিবারের মত এইবারের ঘুরতে যাওয়া টাও কোনো প্ল্যান ছাড়াই হয়েছে। হঠাৎ করে মনে হয়েছে কোথাও ঘুরতে যাওয়া দরকার, আবার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাও শেষের দিকে। সবাই মিলে একটা টুর দেওয়া দরকার। এইটা ভেবে সবাই রাজি হলো, হ্যাঁ সম্মতি দিল। কিন্তু কোথায় ঘুরতে যাবো এইটা জানি না। সবাই বললো চট্টগ্রাম যাওয়া হয় নাই চট্টগ্রাম যাওয়া যায়। এরপর আমরা ১ দিন আগে চট্টগ্রাম যাওয়া জন্য ট্রেনের টিকিট কনফার্ম করি। কারণ ট্রেনের টিকিট আবার ২/১ দিন আগে না কাটলে টিকেট পাওয়া যায় না।
আমাদের চট্টগ্রাম যাওয়ার ট্রেন ছিল রাত ৯টা ৩০ মিনিটে, আর আমরা চট্টগ্রাম পৌঁছাই সকাল ৫ টায়। আমাদের সকালের প্রথম প্ল্যান ছিল আমরা প্রথমে সীতাকুন্ড চন্দ্রনাথ পাহাড় যাবো। তো আমরা ট্রেন থেকে নেমে ফ্রেশ হয়ে ফজরের নামাজ টা আদায় করি। এরপর সিএনজি করে রওনা হই চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। আমরা সকাল ৭ টার এর মধ্যে পাহাড়ের কাছে পৌঁছাই। সেখানে যাওয়ার পর আমরা সকালের নাস্তা করি। এরপর সেখানে একটা দোকানে আমাদের ব্যাগ রেখে সবাই ১ টা করে লাঠি নিয়ে পাহাড় উঠতে শুরু করে দেই। আমরা সকাল সকাল চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার সিদ্ধান্ত নেই কারণ রোদ উঠে গেলে পাহাড়ে উঠতে একটু বেশি কষ্ট হবে। এটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম পাহাড় জয়। পাহাড়ে ওঠার আগে নিজের মধ্যে অনেক উত্তেজনা কাজ করতেছিল আবার একটু ভয়ও লাগতেছিলো যে আমি পারবো কিনা।
তো আমরা সবাই পাহাড়ের গা বেয়ে ধীরে ধীরে উঠতে শুরু করি। এবং প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আমরা সবাই চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে সক্ষম হই। এটাই আমার জীবনের প্রথম পাহাড়ের চূড়ায় ওঠা। যেটা ১০২০ ফুট উচু এবং প্রায় ৮৫ তলা বিন্ডিং এর সমান। জীবনের প্রথম পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার অভিজ্ঞতাটা সত্যিই অনেক ভালো ছিল। পাহাড়ের চূড়ায় উঠে চারপাশের প্রকৃতি দেখতে যে এত সুন্দর লাগে সেটা কেউ পাহাড়ের চূড়ায় না উঠলে বুঝতে পারবে না।