এইতো কিছুদিন আগের কথা হঠাৎ করেই এক বন্ধু বললো কোথাও ঘুরে আসি। তারপর ভাবলাম টাংগাইল জেলার গোপালপুর থানায়, ঝাওয়াইলে অবস্থিত ২০১ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ দেখতে যাওয়া যায়। আমার পাশের জেলা হওয়ায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘুরেও আসা যাবে।এই ভাবে আমরা সবাই মিলে রওনা হই টাঙ্গাইল যাওয়ার উদ্দেশ্যে। আর ঐ মসজিদটা আমাদের দেশের সব থেকে বেশি গুম্বজবিশিষ্ট মসজিদ হওয়ায় প্রতিদিন অনেক মানুষ সেখানে ভ্রমন করতে যায়। মসজিদ টি নির্মান এবং পরিকল্পনা দাতা যিনি তার নাম হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা মো রফিকুল ইসলাম। তার নামেই করা হয় একটি কল্যাণ ট্রাষ্ট আর এই ট্রাষ্ট এর মাধ্যমেই শুরু করা হয় মসজিদ নির্মানের কাজ। মসজিদ টা তৈরি করা শুরু করেছেন প্রায় ৫ বছর হবে কিন্তু এখনও সম্পুর্ন ভাবে মসজিদটির পরিপূর্ণ হয় নি। এখনও পরিপূর্ণ ভাবে শেষ করতে আরো কয়েক বছর লেগে যাবে। কারন মসজিদকে ঘিরে আরো কয়েকটি প্রকল্প করা হচ্ছে।
সেখানে তৈরি করা হবে একটা ৪৫১ফুট বা ৫৭ তলা সম্পুর্ন একটি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো রফিকুল ইসলাম মিনার। কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক ধর্ম গবেষণা কেন্দ্র। মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের জন্যে পূর্নবাসন পরিকল্পনা। বেকার যুবকদের কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার প্রকল্প। কুরআন ও সুন্নাহর আলো কে ধর্মীয় শিক্ষা প্রধান এর ব্যবস্থা। বিনা মূল্যে চিকিৎসা প্রধানের ব্যবস্থা। শিক্ষনীয় পাঠাগার তৈরি। বয়স্ক ব্যক্তিদের সেবার লক্ষে বৃদ্ধাশ্রম। সব শেষে মানব সেবার লক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম। এই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করতেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাষ্ট। এই সকল প্রকল্প যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে টাংগাইল জেলার গোপালপুর থানা অনেক বড় একটি উন্নয়ন দেখা যাবে।
২০১ গুম্বজ মসজিদ তৈরিতে ধর্মীয় গবেষণা কেন্দ্র হওয়ায় টাংগাইল জেলার এবং সারা দেশের যে কোন ছাত্র সেখানে গিয়ে অনেক কিছু জানতে পারবেন গবেষণা করতে পারবেন। আর একটা ধর্মীয় গবেষণা কেন্দ্র থাকা মানে শিক্ষার দিক থেকে অনেক কিছু শিখার থাকে সেখান থেকে। এটা হলে টাংগাইল জেলার অনেক ছাত্ররা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবেন। এর পরে যেটা হবে সেটা হলো মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের পূর্নবাসন প্রকল্প। এটি সম্পুর্ন ভাবে শেষ হলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পূর্নবাসন ব্যবস্থা হয়ে যাবে৷ যা অনেক বড় একটি প্রকল্প। এর পর করা হবে বেকার যুবকদের কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার প্রকল্প। এই প্রকল্পে টাংগাইল জেলার অনেক বেকার ছেলেদের কর্মের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এই প্রকল্পটি আমাদের দেশের অনেক বেকার ছেলেদের জন্যে অনেক উপকারী হবে।
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা এই প্রকল্পটি অনেক কার্যকরী, যে ছাত্ররা ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হতে ইচ্ছুক তারা অনেক ভালোমানের শিক্ষা পাবেন। কারন এখানে তৈরি করা হচ্ছে ধর্মীয় গবেষণা কেন্দ্র যার ফলে এখান থেকে অনেক ভালো ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া সম্ভব । এবং সাথে শিক্ষনীয় পাঠাগার তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবেন। বিনা মূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা টা আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।কারন যে অঞ্চলে মসজিদটি হয়েছে সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা খুব একটা ভালো নেই। তাই এই প্রকল্পটি গরীব অসহায়দের জন্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সপ্নের পরিকল্পনা। এটি হলে অই অঞ্চলের মানুষ অনেক বেশি উপকৃত হবে। সব শেষে আছে বৃদ্ধাশ্রম। বর্তমান সমাজে গ্রাম অঞ্চলে মা বাবার খুব একটা বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হয় না কারন ছেলে মেয়ে যেভাবেই হোক তাদের খেয়াল রাখেন। খুব কমই আছে মা বাবা যাদের বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হয়। কিন্তু শহর অঞ্চলে আমরা বেশি দেখতে পারি বাবা মা বয়স্ক হলে তাদের বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে দেয়। কিন্তু বৃদ্ধাশ্রমে উপকৃত হবে যেই মা বাবার ছেলে মেয়ে কেউ নেই অসহায় বাড়ি ঘর কিছু নেই। এমন মা বাবার জন্যে বৃদ্ধাশ্রমটা অনেক কার্যকরী হবে।
সব মিলিয়ে অনেক ভালো একটি প্রকল্প করছেন এই ২০১ গুম্বজ মসজিদে। যার ফলে টাংগাইল জেলার সকল মানুষ অনেক উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি। এবং প্রতিদিন সেখানে অনেক পর্যটক ভ্রমণে আসায় সেখানের এবং আশেপাশের অনেক উন্নতি লক্ষ করা যায়। অনেক উন্নয়নমূলক প্রকল্প সেখানে বাস্তবায়ন করছেন।