সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে বাঙালির জীবনে। হয়েছে অনেক ঐতিহ্যের পরিবর্তন, যেগুলো কিছুটা এখন ঐতিহ্যের শুধু ছিটেফোঁটা রূপ ধারণ করে আছে।
পৃথিবীতে এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া মুশকিল, যার হালখাতা শব্দের সঙ্গে পরিচিতি নাই। বাবার জমির সবগুলো ধান কাটা শেষ সেগুলো বিক্রি করা হয়ে গিয়েছে। বাবা আমার কৃষি কাজ করে, এটা আমার বলতে কোন লজ্জা হয় না। কারণ আমার বাবা আমার কাছে বটবৃক্ষের মতো। ছোটবেলা থেকে একদম গ্রামে মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি, যার কারণে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ততা আমাদের রক্তে মিশে আছে।বলছিলাম নাহ্ গতকাল, যে আমরা বাবার বাড়ি গিয়েছিলাম। আসলে মূল উদ্দেশ্য ছিল বাবার বাড়িতে একটা হালখাতা খেতে। যদিও পৃথিবীর মানুষ একটা কঠিন সময় পার করছে। তবে এগুলো চিন্তা তো আর পাওনাদার করে না, পাওনাদার শুধু তার পাওনাটাই বোঝে। বাবার এবার ফসল রোপণ করা থেকে শুরু করে ফসল চাষ করা পর্যন্ত অনেকগুলো টাকা, অনেকগুলো দোকানে বাকি হয়ে গিয়েছিল। আর বাবার ফসল বিক্রির টাকা গুলো এবার সাংসারিক ও তাদের ব্যক্তিগত কাজে খরচ করা হয়েছে, তাই কিছুটা টাকা একটু কমতি পরেছে। যেহেতু আমার বাবার কোন ছেলে নাই, তাই আমার বাবার সংসারের অনেক দিক আমাকে চিন্তা করতে হয়। কারন আমি আমার বাবার বড় মেয়ে। মার সঙ্গে যখন কয়েকদিন আগে ফোনে কথা বলছিলাম, তখন বুঝতে পারছিলাম যে তাদের পরিবারে কোনো একটা ঝামেলা হচ্ছে। অতঃপর মাকে বললাম কি হয়েছে, মা আমাকে বলল যে তোর বাবার কিছু টাকা কম আছে, সামনে হালখাতা। তাই সেগুলো পরিশোধ করতে হবে, তাই তোর বাবা চিন্তিত।অতঃপর আমরা গতকাল গিয়েছিলাম এবং আমরা বাবাকে গিয়ে কিছুটা হলেও মানসিকভাবে শান্তি দিতে পেরেছি। কারণ তার হালখাতাটা শোধ করা হয়েছে এবং আমরা হালখাতা খেয়েছি। আর এই হচ্ছে হালখাতার মিষ্টি। যাইহোক এযুগের হয়তো অনেক বাঙালি হালখাতার সঙ্গে পরিচিত নাও থাকতে পারে, তবে তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতেছি। হালখাতা হচ্ছে এমন একটা উপলক্ষ যার মাধ্যমে, পাওনাদারেরা পাওনা টাকা নিয়ে থাকে।
সময়ের সঙ্গে হালখাতার খাবার ও খাবারের পরিবেশন ব্যবস্থাটাও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। যাইহোক এই সময়ে এসেও হালখাতাটা এখনও চালু আছে, এটাই বা কম কিসে।
হালখাতা | Ecency
'Starry Galaxy' - Authentic Digital Illustrationsakura21 ·