প্রথম পর্বের লিংক : @fa-him/28d8k4
প্রথম পর্বে আমি আমাদের লঞ্চ ভ্রমন এবং কুয়াকাটায় প্রথম দিনের ঘটনাগুলো তুলে ধরেছি। এই পর্বে থাকছে জাতীয় এবং তৃতীয় দিনের ঘটনাবলী।
দ্বিতীয় দিন খুব সকালেই আমরা ঘুম থেকে উঠে যাই। আমাদের আজকে পরিকল্পনা আমরা সকালে সূর্য উদয় এবং বিকালে সূর্যাস্ত দেখবো। সূর্য উদয় দেখার জন্য আমাদের যেতে হবে গঙ্গামতির চর। সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আমরা পূর্বেই বাইক ঠিক করে রেখেছিলাম। পরিকল্পনামতো ভোরেই চারটি বাইক আমাদের হোটেলের নিচে আমাদের জন্য অপেক্ষা করতেছিলো। আমরা ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পরি। আমাদের বন্ধু অপূর্ব বাইক চালাতে পরায় আমাদের বাইকটি সে চালাবে। সূর্যোদয় দেখার জন্য আমরা রওনা গঙ্গামতির চর এর উদ্দেশ্যে। আমাদের মতো আরো অনেকে পর্যটক বের হয়েছে সূর্যদয় দেখবে বলে ।
বাইকে বসে সমুদ্রের কোল ঘেসে যাওয়ার মূহুর্তটা ছিলো আমার জীবনের ভালো মূহুর্ত গুলোর একটি। হালকা আলো সমুদ্রের সৌন্দর্যতা হাজার গুণে বাড়িয়ে তুলেছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই একটি শাখানদী পার হয়ে আমরা পৌছে যাই গন্তব্যে। তখন প্রায় সূর্য উদয়ের সময় হয়ে গিয়েছে। ভোর সকালে গঙ্গামতি থেকে সূর্যোদয়ের দৃশ্য কখনো ভুলার মত নয়। শান্ত পরিবেশ তার সাথে সমুদ্রের গর্জন । এর পাশেই রয়েছে কাউয়ারচর। সেখানে দেখতে পাওয়া যায় লাল কাকড়ার ছোটাছোটি।
সূর্যোদয় উপভোগ করে আমরা ঝাউবনের উদ্দেশ্যে রওনা হই। ঝাউবনে কিছুক্ষন সময় উপভোগ করার পর আমরা সমুদ্রের ইলিশ আর খিচুরি দিয়ে সকালের নাস্তা সেরে নেই। খাবারাটা অনকে মজার ছিলো। তারপর আমরা বেরিয়ে পরি রাখাইন পল্লির ও মিঠা পানির কূপের উদ্দেশ্যে। দুর্ভাগ্যবশত আমরা মিঠাপানির পুকুরপাড়ে দেখতে পাইনি। রাখাইন পল্লিতে রাখাইনদের তৈরি পোশাকে আকৃষ্ট হয়ে সবাই পরিবারের জন্য কিছু জাম-কাপড় কিনে নেই। পরে আমরা কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের হোটেলে ব্যাক করি।
একঘন্টার মতো বিশ্রাম নিয়ে আমরা আবারো বেরিয়ে পরি তিন নদীর মোহনা দেখতে। বাইকে করে দুস্টুমি করতে করতে আমরা পৌছে জাই গন্তব্যে। এখান থেকে সুন্দরবনের একাংশ দেখা যাচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো এই তো সুন্দরবন এসে গেলাম। কিছুক্ষন অতিবাহিত করার পর আমরা পূনরায় জিরো পয়েন্টে ফিরে আসি দূপুরের খাবারের উদ্দেশ্যে। দূপুরের খাবারটা শেষ করে বড়ো সাইজের সামুদ্রিক রূপচাদা মাছ দিয়ে। খাওয়া -দাওয়া শেষে রুমে একটু রেস্ট নিয়ে আবারো নেমে পরি সমুদ্রে। বিকেলটা পানিতেই গোসল করে কাটিয়ে দেই সবাই । ফুটবল খেলাও হয়ে যায় সাগরের পাড়ে। বিকেলের সূর্যাস্তও সাথে দেখা হয়। সন্ধ্যায় আবারো আমরা সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার জন্য বের হই। আজ আমরা দুটি স্যামন ফিস বারবিকিউ করে খাই সাথে চিংড়ি। রাতে আগের রাতের মতো আড্ডা দিয়েই ঘুমিয়ে পরি। শেষ হয় দ্বিতীয় দিন।
তৃতীয় বা শেষদিন আমরা সবাই একটু দেরিতে ঘুম থেকে উঠি। আমাদের আজকের পরিকল্পনা, সমুদ্র উপভোগ করার পাশাপাশি পরিবারের জন্য কিছু কেনাকাটা করা। ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা সেরে আমরা সমুদ্রের তীরে বসে কিছুক্ষন আড্ডা দেই। তারপরা সবাই কেনাকাটার ব্যস্ত হয়ে পরি। আজ বেলা ২ টায় আমাদের বাস বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেরে যাবে। তাই আমরা তার আগেই হোটেল ছেরে দিয়ে দুপুরের খাবার শেষ করে নেই । দুপুরে যথাসময় আমাদের বাস রওনা হয়। বিকালের সময়টা আমরা উপভোগ করি বরিশাল শহরে। তারপর ট্রলার নিয়ে নদীতে একটু আড্ডা দিয়ে লঞ্চে উঠে পরি। পরদিন ভোরে আমরা পৌছে যাই ঢাকার সদরঘাটে।
শেষ হয় আমাদের কুয়াকাটা ভ্রমনপর্ব। তারপর সবাই বিদায় নিয়ে যে যার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আমিও ফিরে আসি আমার গ্রামের বাসা কুমিল্লায়৷ সমাপ্তি হয় একটি সুন্দর ও সফল ভ্রমনের। সবার সাথে কাটানো মূহুর্তগুলো জীবনে একটা ভালো অধ্যায় হয় থাকবে। ইনশাল্লাহ আবারো কোন একদিন বেরিয়ে পরবো নতুন গন্তব্যে।