২০২২ সালের শুরুর দিকের কথা। করোনার কারনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ প্রায় এক বছর হয়ে গেছে। লকডাউইন এর কারনে ঘর থেকে বের হওয়া হয়নি তেমন। অনলাইনে পড়াশোনা আর সারাদিনে ঘরে বসে থাকতে থাকতে নিজেদের মধ্যে অবসাদ তৈরি হয়ে গেছে। তাই বন্ধুরা মিলে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলাম। অনেকদিন পর লক-ডাউন খুলে দেওয়াতে আমাদের জন্য পরিকল্পনা করাটা সহজ হয়ে গেলো। তাই সবাই একদিন আলোচনায় বসলাম ভ্রমনের স্থান নির্ধারণ করার উদ্দেশ্যে।
সবার মতামতের ভিক্তিতে আমরা কুয়াকাটা ভ্রমনে যাওয়ার পরিকল্পনা করি । সাগরকন্যা নামে পরিচিত কুয়াকাটাকে বেছে নেওয়ার মূল কারন ছিলো লঞ্চে ভ্রমন। আমাদের মাঝে অনেকেই কখনও লঞ্চ এ চরার অভিজ্ঞতা না থাকায় আমরা কুয়াকাটাকে বেছে নেই। সমুদ্রের পাশাপাশি যা আমাদের ছিলো জন্য হবে নতুন একটি অভিজ্ঞতা। প্রথমে অনেকে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমাদের ভ্রুমনের সাথি হয় আটজন।
পরিকল্পনামতো আমরা সবাই ঢাকায় চলে আসি ২৫ শে মার্চ বিকাল চারটার মধ্যে। আজ রাত ৮ টায় আমাদের লঞ্চ সদরঘাট থেকে ছেরে যাবে বরিশালের উদ্দেশ্যে। আমরা লঞ্চের ডেকে করে যাবো। তাই ভালো যায়গা নির্ধারনের উদ্দেশ্যে আমরা সন্ধ্যা সাতটায় লঞ্চে উঠে আমাদের জায়গা নির্ধারনের করে নেই। যথাসময়েই আমাদের লঞ্চ বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। জীবনের প্রথম লঞ্চ ভ্রমণটি ছিলো অত্যন্ত আনন্দের। একসাথে আড্ডা আর দুস্টুমির মাধ্যমে আমরা এগিয়ে জাই অনেকটা পথ। রাতে হালকা ঘুমিয়ে নেই আমরা। ভোরেই বরিশাল লঞ্চঘাটে পৌছে জায় আমাদের লঞ্চ। তারপর আমরা বাসে করে রওনা হই কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে।
বেলা ১২ টায় আমরা পৌছে যাই কুয়াকাটা। পৌছেই আমরা আমরা আমাদের বুকিং করা হোটেল উঠে পরি। কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে আমরা সবাই বেরিয়ে পরি সমুদ্র সৈকতে ঘুরার উদ্দেশ্যে। বিকেলের দিকে আমরা সবাই নেমি পরি সমুদ্রের পানিতে গোসল করতে। সবাই একসাথে গোসল করার মূহুর্তটা ছিলো অসাধারণ। প্রায় একঘন্টা পর আমরা সবাই উঠে পরি। সন্ধ্যায় সবাই বেরিয়ে পরি সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার উদ্দেশ্যে। আমাদের হোটেল থেকে কাছেই কুয়াকাটার সামুদ্রিক মাছের বাজার। নানারকম সামুদ্রিক মাছে ভরপুর ছিলো পুরো বাজারটি, যার মধ্যে ৭৫% মাছের নামই ছিলো আমার অজানা।
আমরা বন্ধুরা মিলে পাচ কেজি ওজনের একটি টুনা মাছ কিনে নেই খাওয়ার উদ্দেশ্যে। এই মাছটি ছিলো ঐদিন বাজারের সবচাইতে বড়ো টুনা মাছ। তাই তার প্রতি আমাদের আকর্ষণটা ছিলো বেশি। বাজারেই মাছ ফ্রাই অথবা বারবিকিউ করে খাওয়ার সুবিধা থাকাতে আমরা মাছটি কিনে বারবিকিউ করার জন্য দিয়ে দেই । সাথে আমরা অনেকগুলো কাকড়া কিনে নেই ফ্রাই করে খাওয়ার উদ্দেশ্যে । তারপর আমরা বসে আড্ডা দিতে থাকি। কিছুক্ষন পর আমাদের খাবার তৈরি হয়ে জায়। আমরা সবাই ব্যস্ত হয়ে পরি খাওয়াতে৷ জীবনের প্রথম কাকড়া খাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করি আমি। কাকড়ার খেতে অনেকটা চিংড়ি মাছের মতোই, আর টুনা মাছ খেতে অনেকটা মুরগীর মাংসের মতো। খাবারগুলো ছিলো অনেক মজার। এখনও মাঝে মাঝে খুব খেতে ইচ্ছে হয় আমার।
খাওয়া- দাওয়া শেষ করে আমরা সমুদ্রের পাড়ে আড্ডা দিতে ব্যস্ত হয়ে পরি। রাতে সমুদ্রে হাটার অনভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। গায়ে আলতো করে ছুয়ে জাওয়া বাতাস যে কারো মনকেই ছুয়ে যাবে ৷ নিজেদের মধ্যে থাকা ক্লান্তি যেনো কোথায় হারিয়ে গেছে। ওই চাঁদটা যেন তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। এভাবে কেটে যায় কয়েক ঘন্টা।
রাত একটার দিকে আমরা সবাই রোমে চলে আসি। হোটেলের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে আমরা পরদিনের জন্য চারটি বাইক ভাড়া করে রাখি ঘুরার উদ্দেশ্যে। রোমে কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে রাত দুইটার মধ্যে সবাই ঘুমিয়ে পরি । এভাবে কেটে যায় কুয়াকাটায় আমাদের প্রথম দিন।
ভ্রমনের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিনের বর্ণনা থাকবে দ্বিতীয় পর্বে।
ধন্যবাদ।