সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের মধ্যে এসেছে বহু পরিবর্তন। একে অপরের সাহায্য সহযোগিতার মনোভাবটা বর্তমানে নেই বললেই চলে। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, অন্যকে দেওয়ার মত সময় কি আর আছে! এই বিষয়টা গ্রামের চাইতে শহরে বেশি লক্ষ্য করা যায়। যে যার মতো চলাফেরা করছে। তবে গ্রামে এখনো কিছু মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা লক্ষ করা যায়। সম্পর্কের গুরুত্বটা তারা দিতে জানে। একে অপরের সুখ দুঃখে এগিয়ে আসে স্বার্থহীন ভাবে।
কথায় আছে, ভালো খারাপ মিলেই পৃথিবী। খারাপ না থাকলে তো আর ভালো মানুষের মূল্যায়ন হতোনা। কিছু ভালো মানুষ আজও অন্যের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেয়।
এইতো কয়েকদিন আগে আমরা বন্ধুরা মিলে গিয়েছিলাম চট্টগ্রামে ঘুরতে। সারাদিন ঘুরাঘুরি শেষে ফেরার পথে বাধা বিপত্তি। সিএনজি করে মহামায়া লেক থেকে বাস কাউন্টারে ফিরার পথে আমাদের এক বন্ধু ভুল করে ব্যাগ সিনজিতেই ফেলে চলে আসে। কাউন্টারে ফিরার একঘন্টা পর তার মনে হয় সেতো ব্যাগ ফেলে এসেছে।
এখন বিপত্তি বাধে সেই ব্যাগে কাপড় -চোপড় ছাড়াও ছিলো মোবাইল ফোন আর ম্যানিব্যাগ । মহামায়া লেকে কায়াকিংয়ের সুবিধার্থে ব্যাগেই সবকিছু রেখেছিলাম সবাই। তাছাড়া সেই বন্ধুর ন্যাশনাল আইডি কার্ডও ছিলো মানিব্যাগের ভিতর। সাথে আমার নিজেরও কিছু জিনিসপত্র।
কিছুক্ষণ আশেপাশে খোঁজাখুঁজির করেও সেই সিএনজির কোন খোজ মিললো না। তাই সবাই ভাবছিলাম কি করা যেতে পারে। পাশেই দাঁড়ানো এক সিএনজি চালককে বিষয়টা খুলে বললে তিনি বললেন আবারো সেই কাউন্টারে যাওয়ার জন্য। যেহেতু সেই সিএনজিটা সিরিয়ালের গাড়ি ছিলো, সেই হিসেবে লাইনম্যানে এর কাছে সব তথ্য থাকবে। এখন বিপত্তি বাধলো আমারা তো রাস্তাঘাট ঠিকমতো চিনি না। কিভাবে কোথায় যাবো!
সিএনজি চালক থেকে কিছু তথ্য নিয়ে আমি আর সেই বন্ধু মিলে লেগুনায় করে চললাম হারানো ব্যাগটিকে খুজে আনতে। পাবো কিনা তার কোন নিশ্চয়তা না থাকলেও খুজে দেখতে আর দোষ কোথায়। কিছুটা দূর যাওয়ার পর লেগুনা চালক আমাদেরকে একটি জায়গায় নামিয়ে দেয়। সেখানে আমরা আরেকজন সিএনজি চালককে বিষয়টা বুঝিয়ে বললে তিনি আমাদেরকে প্রথমে একজন কিছু তথ্য দেন। তবে আমাদের অবস্থার কথা চিন্তা করে নিজেই ছুটে চলেন সাহায্যে উদ্দেশ্যে। নিজের সিএনজি এবং ভাড়ার কথা চিন্তা না করেই তিনি আমাদেরকে নিয়ে যায় আরেকটি সিএনজি স্টেশনে।
সেখানে তিনি প্রথমে লাইনম্যানকে খুঁজে বের করেন। লাইনম্যানকে সবকিছু বলার পর তারা দুজন মিলেই একের পর এক সিএনজি ড্রাইভারকে ফোন করে হারানো ব্যাগটিকে খুজতে থাকে। প্রায় আধাঘন্টা খুজাখুজির পর হারানো ব্যাগটিকে খুযে পায় তারা। এই পুরোটা সময় জুড়ে আমাদেরকে একটুর জন্যও হতাশ হয়ে দেয়নি সেই দু'জন ব্যাক্তি। ব্যাগ পাওয়ার খবর পেয়ে বন্ধু আমার মহাখুশি।
সেই সিএনজি অন্য স্টেশনে থাকায় আমাদেরকে কিছুটা সময় বসতে বলা হয়। অল্প কিছুক্ষন পরেই হারানো সেই ব্যাগটিকে বুঝে পাই আমরা। ব্যাগ পেয়ে অনেকটা হাফ ছেড়ে বাচা। কি হতো যদি আজ ব্যাগটিকে খুজে না পাওয়া যেতো? সিএনজি চালক তো ইচ্ছে করলেই সবকিছু রেখে দিতে পারতে। টাকা পেতো, মোবাইল পেতো। কিন্তু তিনি তা করেননি। বর্তমান এই সময়টাতে এমন মানুষ খুব কমই খুজে পাওয়া যায়।
তাদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে আমরা ফিরে আসি বাস স্টেশনে। রাত ১২.৩০ মিনিটের বাসে নিশ্চিতে ঢাকায় উদ্দেশ্যে রওনা হই আমরা।