প্রথম পর্বে আমি তুলে ধরেছিলাম ভ্রমনের অর্ধেক অংশটুকু। আজকের পর্বে থাকছে বাকি অংশ :-
কিছুটা সময় যমুনার তীরে কাটানোর পর, এবার আমাদের পালা সিরাজগঞ্জে পৌঁছানো। যমুনা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আমরা পৌঁছে চাই সিরাজগঞ্জ জেলায়। সিরাজগঞ্জে আমাদের দুই বন্ধু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো। আমাদের পরিকল্পনা ছিলো সিরাজগঞ্জে বন্ধুদের সাথে দেখা করে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে আজকেই আবার রওনা হবো টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে। কিন্তু বন্ধুরা আবদার করে বসলো আজকে আর জাওয়া যাবেনা। আমরা শত চেষ্টা করেও ফিরতে পারলাম না। তাদের যুক্তির কাছে আমাদের হার মানতে হলো। আমরাও ভাবলাম, “ প্রথমবারের মতো এসেছি, আর কখনো যাওয়া হবে কিনা কে যানে, তাই থেকেই যাই 😊।"
দুই বন্ধুর মধ্যে কার বাড়িতে যাবো তা নিয়েও মোটামুটি একটা ঝামেলা হয়ে গেলো। বন্ধু ইমাম তার বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছিলো, কিন্তু নানা অজুহাত দেখিয়ে আমাদের বিয়েতে আসা হয়নি। তাই বন্ধু ইমাম এবার ছার দিতে মোটেও রাজি না। শেষমেষ সমঝোতা হলো আজ রাতে বিকাশের বাসায় থাকবো এবং কাল দুপুরে ইমামের বাসায় খাওয়া-দাওয়ার পর টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হব। পরিকল্পনা মতো আমরা এবার রওনা হই বন্ধু বিকাশের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
সিরাজগঞ্জের যাত্রীবাহী ভ্যানগুলো ছিল খুবই আকর্ষণীয়। আমি এর আগে কখনোই ভ্যানে করে যাত্রীবহন করতে দেখিনি। মোটামোটি ভ্যানে চড়ার নতুন একটা অভিজ্ঞতা হয়ে যায় সিরাজগঞ্জে এসে। এই ভ্যানে করেই আমরা পৌছে যাই বন্ধু বিকাশের বাড়িতে। প্রায় দীর্ঘ চারমাস পর বিকাশের সাথে দেখা, তাই হাসি-তামাশা আর আড্ডায় কেটে যায় অনেকটা সময়। রাতে খাওয়া-দাওয়ার শেষ করে ঘুমিয়ে পরি খুব সকালে উঠবো বলে।
পরিকল্পনা-মতো খুব সকালেই ঘুম থেকে উঠি পরি আমরা। ফ্রেশ হয়েই বেড়িয়ে পড়ি সলপ রেলস্টেশনের উদ্দেশ্যে। ভ্যানে করে সরিষা ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তা দিয়ে আমরা এগুতে থাকি রেলস্টেশনের উদ্দেশ্যে। যতটুকু চোখ যায় শুধু সরিষা ক্ষেত। গ্রাম বাংলার এক আপুরূপ সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে চারদিকে। রেলস্টেশনে পৌছে আমরা রেললাইন ধরে অনেকটা পথ হেটে যাই। প্রায় আধাঘন্টা সময় কাটানোর পর এবার আমাদের পালা সলপ রেলস্টেশনের বিখ্যাত ঘোল আর মাঠা খাওয়া। আহ!! খেতে ভাড়ি মজা এই মাঠা আর ঘোল। আমরা কিছু মাঠা আর ঘোল নিয়ে নিলাম বাসায় জন্য।
রেলস্টেশন থেকে ফিরে হালকা নাস্তা করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম বেলকুচি আল-আমান বহলা খাতুন জামে মসজিদ ভ্রমনের উদ্দেশ্যে। মসজিদটি দেখতে খুবই সুন্দর ছিল, যা আমাকে মুগ্ধ করেছে। মসজিদটি ঘুরেই আমরা রওনা হই সিরাজগঞ্জের তাত-পল্লী ঘুরার উদ্দেশ্যে। তাতপল্লীগুলোতে আমরা দেখতে পাই শাড়ি আর লুঙ্গি তৈরি করার প্রক্রিয়া। তারা নিজেরাই সুতাকে রং করে সেই সুতাকে উইভিং মেশিনের মাধ্যমে তৈরি করছে বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি আর লুঙ্গি।
তাতপল্লী ঘুরে এবার আমরা রওনা হই বন্ধু ইমামের বাড়ির উদ্দেশ্যে। তার বাড়িতেই আমাদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্ধুর বিয়ে খেতে পারিনি , তাই আজকে আমাদের জন্য বিয়ের রান্না হয়েছে তাও আবার ভাবির হাতে 😊। সেইভাবে দুপুরের খাবারটা সেরে হালাকা বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পরি সিরাজগঞ্জ চায়না-বাধ ভ্রমনের উদ্দেশ্যে। বিকেলটা চায়না-বাধে ঘুরে বন্ধুদের থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হই টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে। বন্ধু তাজিউলের বাসায় রাতে থেকে পরদিন খুব সকালেই আমি আর সৌরভ ব্যাক করি ঢাকার উদ্দেশ্যে । সমাপ্তি ঘটে স্মৃতিবিজরিত আরেকটা ভ্রমনের।
আমি আমার খুব কাছের বন্ধু তাজিউল, ইমাম ও বিকাশের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ এরোকম একটা সুন্দর ভ্রমন উপহার দেওয়ার জন্য। বিশেষ করে বন্ধু @sourovafrin ছাড়া এটা মোটেও সম্ভব ছিলোনা। তার পরিকল্পনাতেই হঠাৎ করে বেড়িয়ে পরা। আবারও কোন একদিন বন্ধুদের নিয়ে হঠাৎ করেই বেড়িয়ে পরবো নতুন কোন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ।
ধন্যবাদ সবাইকে।