সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল ভ্রমন-ডাইরী (পর্ব -১) !!

Words
514
Reading
3 min
Listen
Play
5y

image.png

“ভ্রমন মানুষকে বিনয়ী করে তুলে,
ভ্রমনের মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে পৃথিবীর তুলনায় সে কত ক্ষুদ্র! ”

জীবনটা খুবই সংক্ষিপ্ত, আর এই সংক্ষিপ্ত জীবনটাকে উপভোগ করাই আমার লক্ষ্য। ছোটবেলা থেকেই ঘুরাঘুরি করতে আর নতুন কিছু দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। কিন্তু ছোটবেলার অনেক সীমাবদ্ধতার জন্য তেমন কোন জায়গায় ঘুরাফেরা হয়ে উঠেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সেই সুযোগটা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। এখন চাইলেই আমি বন্ধুদের নিয়ে বেড়িয়ে পরতে পারি নতুন কোন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে মোটামুটি অনেকগুলো যায়গাতেই ঘুরার সুযোগ হয়েছে আমার। প্রতিটি সেমিস্টার শেষে নিজেদের ক্লান্তি দূর করে পুনরায় নিজেদেরকে রিচার্জ করার উদ্দেশ্যে আমরা বন্ধুরা মিলে কোথাও না কোথাও ঘুরার প্ল্যান করে থাকি। তেমনি কিছুদিন আগে আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম টাঙ্গাইল আর সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে । আমাদের এই ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিলো বন্ধু তাজিউল, ইমাম ও বিকাশের বাড়িতে ঘুরে বেড়ানো সাথে তাদের এলাকার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঘুরে দেখা।

পরীক্ষা শেষ করেই আমরা নিজেদের ব্যাগ গুছাতে ব্যস্ত হয়ে পরি। আজ আমাদের টাঙ্গাইল যাওয়ার পালা, সেখানে আমরা বন্ধু তাজিউলের বাসায় অবস্থান করবো। বিকেলের দিকে আশুলিয়া থেকে যাতাযাত বাসে করে আমাদের পথচলা শুর হয়। টাঙ্গাইলে নেমে কিছু কেনাকাটা করে বন্ধুর বাসায় পৌছতে পৌছতে রাত দশটা বেজে যায়। ভ্রমনক্লান্তি দূর করতে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করেই ঘুমিয়ে পড়ি আমরা।

খুব সকালেই ঘুম ভেঙ্গে যায় আমাদের। সকালে নাস্তা সেরে বেরিয়ে পড়ি শীতের সকালে খেজুরের রস খাওয়ার উদ্দেশ্য। ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময় শেষবার খেজুরের রস খেয়েছিলাম, তারপর আর সময় সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তাই আর এই সুযোগ মিস করতে চাইনি। রাস্তার পাশেই দেখলাম খেজুরের রস আহরন করছিলো। আমরা সবটুকুই কিনে নিলাম এবং কিছুপরিমাণ খেয়ে বাকিটা বাসার নিয়ে আসলাম গুড় বানাবো বলে। খেজুরের গুড় দিয়ে পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা৷ খেজুরের রস খাওয়া শেষে এবার আমাদের টাঙ্গাইলের বিখ্যাত চমচম আর আনারস খাওয়ার পালা।

image.png

বন্ধুর বাইকে করে বেরিয়ে পড়লাম টাঙ্গাইলের মধুপুরে উদ্দেশ্যে। টাঙ্গাইলের মধুপুর আনারসের জন্য বিখ্যাত। যাওয়ার পথে পুরো রাস্তা জুরেই আনারসের বাগান দেখতে পাই। মধুপুরে নেমেই শুরু হয় আমাদের আনারস খাওয়া। খুব মিষ্টি আর সুস্বাদু ছিল আনারসগুলো। খাওয়ার পাশাপাশি আমরা আনারস বাগানগুলো ঘুরে দেখি। এখানে বছরের বারো মাসই আনারসের চাষ হয়ে থাকে। আনারস খাওয়া শেষের এবার আমরা রওনা হই টাঙ্গাইলের বিখ্যাত চমচম খাওয়ার উদ্দেশ্যে। চমচমগুলো খেতে অনেক সুস্বাদু ছিল ( রেটিং ৮/১০)। এবারই প্রথম আমার সুযোগ হয় টাঙ্গাইলের বিখ্যাত চমচম খাওয়ার। ঘুরারফেরা করে বন্ধুর বাসায় ফিরতে ফিরতে আমাদের বিকেল হয়ে যায়। দিনের বাকি সময়টা আমরা বন্ধুর গ্রামটা ঘুরে দেখি।

পরদিন খুব ভোরে আমরা বেড়িয়ে পরি সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে। আজকে আমাদের পরিকল্পনা ২০১ গম্ভুজ মসজিদ, গোপালপুর হেমনগর রাজবাড়ী, যমুনার তীর ঘুরে আরেক বন্ধু ইমাম এর বাসায় যাওয়া। প্রায় দুইঘন্টা পর আমরা পৈছে যাই ২০১ গম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণে। এ মসজিদে কারুকার্য ছিল অত্যন্ত আকর্ষনীয় প্রশংসনীয়। আমাদের মতো শত মানুষ এখানে ভিড় জমিয়েছে মসজিদ থেকে দেখার উদ্দেশ্যে। প্রায় এক ঘন্টা মসজিদ প্রাঙ্গনে সময় কাটানোর পর আমরা বেরিয়ে পড়ি রাজবাড়ির উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যেই আমরা রাজবাড়ী ঘুরে পৌঁছে যায় যমুনার তীরে। যমুনার অপরূপ সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এই যমুনাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জ জেলা। প্রাচীনকাল থেকেই নদীগুলোকে ঘিরেই গরে উঠেছে মানব সভ্যতা।

২০১ গম্বুজ মসজিদ :
image.png

গোপালপুর হেমনগর রাজবাড়ী:
image.png
যমুনা নদীঃ
image.png

কিছুটা সময় যমুনার তীরে কাটানোর পর, এবার আমাদের পালা সিরাজগঞ্জে পৌঁছানো। যমুনা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আমরা পৌঁছে চাই সিরাজগঞ্জ জেলায়। আজ আমরা অবস্থান করবো বন্ধু বিকাশ এর বাসায়।

[ ভ্রমণের বাকি অংশটি থাকবে পরবর্তী পর্বে ]

সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল ভ্রমন-ডাইরী (পর্ব -১) !! | Ecency