কোয়ান্টাম কি? ও এর ইতিহাস নিয়ে আলোচনা ।

Words
477
Reading
3 min
Listen
Play
5y

পদার্থ বা শক্তির মধ্যে থাকা কণাগুলোর আচরণ ও বৈশিষ্ট্য গুলো কি রকম সেটি বিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে কোয়ান্টাম বলবিদ্যা বলা হয়। এটি বিজ্ঞানের একটি নতুন শাখা। গত শতকে আলর্বাট আইনস্টাইন, ম্যাক্র প্ল্যান্ক ও হাইজেনবার্গ আরো অনেক বিজ্ঞানী এই রহস্যময় শাখাটি চালু করেন।

আজ আমি, কোয়ান্টাম কি? ও এর ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করব।

atom-and-quantum-waves-485339307-iStock_agsandrew.jpg

Image Source

প্রথমে আমাদের এটি জানা প্রয়োজন যে আসলে কোয়ান্টাম জিনিসটা কি?

কোনটা হলো এমন একটি অবস্থান যখন কোন বস্তুকে আর ভাঙ্গা সম্ভব হয় না। ধরুন, টাকার পরিমাণ সবচেয়ে কম কত হওয়া সম্ভব, ১০০ টাকা ১০ টাকা ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ১ পয়সা। টাকার হিসেবে সবচেয়ে কম পরিমাণ হচ্ছে এক পয়সা।
ঠিক তেমনই একটি বস্তুকে ভাঙতে থাকলে যত ছোটই হোক না কেন একটা সময়ে এসে তাকে থামতে হয় এবং সেই অবস্থানকেই কোয়ান্টাম বলা হয়। কোর্য়াক, ফোটন, বোসন, ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন এগুলোই হল কোয়ান্টাম। এগুলোকে আর ভাগ করা সম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে এগুলোই সেই কণা যেগুলো কে আর ভাগ করা সম্ভব নয়।

istockphoto-1185114379-170667a.jpg
Image Source

কোয়ান্টাম এর ইতিহাস

বিজ্ঞানী ম্যাক্সপ্লাঙ্ক আলোর ধর্মের পরীক্ষার মাধ্যমেই মূলত কোয়ান্টাম বলবিদ্যার চর্চা শুরু হয়। আলোর যে কনার ধর্ম প্রদর্শন করে তার সুন্দর ব্যাখ্যা দেন আলবার্ট আইনস্টাইন। ১৯০৫ সালে তিনি ফটো ইলেকট্রনের প্রবাহের মাধ্যমে জানিয়ে দেন যে আলোর কণার নাম ফোটন। তারপর ১৯১১ সালে লিনস বোর জানান প্রতিটি পরমানুতে ইলেকট্রন গুলো একটি নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে থাকে। এগুলোর মধ্যে কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা শক্তি স্তরের শক্তি সবচেয়ে কম। এর চেয়ে ভিতরে ইলেকট্রন ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না। এ কারণেই কেন্দ্রে ধনাত্মক আধান যুক্ত প্রোটন থাকা সত্যেও ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন প্রোটন আকর্ষণের কেন্দ্রে চলে যায় না। ১৯২৩ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী ডি-ডিব্রয় ব্যাখ্যা দেন কিভাবে কোন বস্তু একইসাথে কণা ও তরঙ্গের মধ্যে আচরণ করতে পারে। সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানী আরভিন শ্রোডিংগার ১৯২৬ সালে তরঙ্গ বল বিদ্যার নামের একটি তথ্য উদ্বোধন করেন এবং একই বছরে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হাইজেনবার্ক তার অনিশ্চয়তার নিতির কথা জানান। তার এই নিতির উপর আরো কাজ করেন উলফগ্যাং পাওলি ও ম্যাস্ক বর্ন। কোয়ান্টাম বলবিদ্যার সাথে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ প্রবাহ জুড়ে দিয়ে তড়িৎ বলবিদ্যা নামের একটি তথ্য প্রকাশ করেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী পাল ডিরেক্ট।


আজ আমি আপনাদেরকে কোয়ান্টাম কি? ও এর ইতিহাস নিয়ে প্রাথমিক ধারনা দেয়ার চেষ্টা করেছি। এটি আমার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আপনাদের ভাল লাগলে অবশ্যই সাপোর্ট করবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।


photo_2021-06-30_13-14-56.jpg

photo_2021-06-28_11-13-39.jpg

আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।

photo_2021-06-30_13-15-05.jpg



বিষয়: কোয়ান্টাম কি? ও এর ইতিহাস নিয়ে আলোচনা।

কমিউনিটি : Beauty of Creativity

আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ💖

কোয়ান্টাম কি? ও এর ইতিহাস নিয়ে আলোচনা । | Ecency