In pursuit of livelihood | জীবিকা নির্বাহ

Words
507
Reading
3 min
Listen
Play
6y

কেউ খায় খেটে, কেউ খায় চেটে কিংবা কেউ লাত্তি মেরে পেটে। কেউ খায় বাঁশতলায় কেউ খায় পঁাচতলায়। এই যদি হয় অাজকাল এর অবস্থা, কোন পথে যাবেন অাপনি? নিশ্চয় খেটে খেতে মন চায়না, রাইট?
তাহলে জীবিকা নির্বাহের সম্মুখসারির সত্যিকারের যোদ্ধা কারা? প্রশ্ন টা রেখে গেলাম?

অাসলে বাংলাদেশে সবকিছুর পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে বটে, কিন্তু এই নিম্নমধ্যবৃত্ত বা কৃষকের মাঝে সেই হাওয়ার কোনো বাতাস লক্ষ করা যায়না। টিভির পর্দায় কিংবা খবরের কাগজে, মাঝে মাঝেই দেখা যায় প্রান্তিক জনগোষ্টি, কৃষক ভাই, নিম্নমধ্যবৃত্ত মানুষের পাশে অাছে সরকার। কিন্তু কোন পাশে? ডানে নাকি বামে, সামনে নাকি পিছনে? কিছুই বুঝা যায়না। যাই হোক, অামার দৃষ্টিকোন থেকে বলতেই পারবো, বাংলাদেশে যতোদিন না রাজনীতিতে সঠিক এবং মাটির মানুষ না অাসবে, ততোদিন এই হাওয়া শুধু অাকাশেই বইবে, নিচে অাসবে না। রাজনীতিই এদেশ কে সামনে যেমন নিয়ে যাচ্ছে ঠিক পিছনেও ঠেলে দিচ্ছে।

মাঝে মাঝে মনে হয়, গরীবদের এদেশে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নাই। এদেশ এখন বড়লোকদের জন্য। যেখানে চাচা, মামা, খালু ব্যাতিত কোনো কিছু সম্ভব হয়ে উঠেনা, সেদেশে অাসলে জীবিকা নির্বাহের পদ টা কতটা কঠিন হতে পারে, জানারি কথা। যাই হোক, মেইন বিষয়ে অাসি, এইযে কৃষক মানুষগুলো। তারা কতটা অবহেলার স্বীকার, জানেন? সারাবেলা রোদে পুড়ে এসে গোসল না করেই খোলা অাকাশের নিচে, গাছতলায় বসে খেতে হচ্ছে। অপরদিকে চৌধূরী সাহেব রা এসির হাওয়া ছেড়ে দিয়ে টেলিভিশনে কোমড় নাড়া দেখতিছে অার খাচ্ছে। ব্যবধান টা কতোদূর? দূজনই কিন্তু জীবিকা নির্বাহ করতিছে!

যাই হোক, কৃষকের রোজগার এর সময় বছরে ২ বার। একটা অামন ধানের মৌসূম, অারেকটা ইড়ি ধানের মৌসুম। বছরের এই দুই সময়েই কৃষকরা অর্থ উপার্জন করে থাকে বেশি। বাকি সময়গুলো এই টাকা দিয়েই চলে। তাদের জীবন এবং লাইফস্টাইল এর দিকে তাকাইলে বড় কষ্ট পেতে হয়। খুব খারাপ লেগে যায়। কেননা, জীবনের সাথে সংগ্রাম করে তাদের বেঁচে থাকতে হয়। এইযে খাবারগুলো তারা খাচ্ছে, তা নিম্নমানের খাবার সেটা বলা বাহুল্য।

IMG_20200621_083222-01.jpeg

চলছে ধান কাটার মৌসূম। কৃষকরা অনেক ব্যাস্ততার সাথে জীবন পার করতেছে। একজন কৃষকের ধান কেটে দিয়ে দৈনিক ৩০০-৪০০ টাকা কামাই। অথচ, তাদের যে খাটাখাটনি তা অামাদের মতো লোকদের পক্ষে সম্ভব নয়। এরা প্রন্তিক এলাকার মানুষজন, এরা অনেক দূর-দূরান্তর থেকে অাসছে মানুষের ধান কেটে দিতে। অাবার এই লোকগুলো রাত্রিযাপনের জন্য শুয়ে থাকতে হয়, স্কুল বারান্দায় কিংবা কোনো ছাউনির নিচে কিংবা ঘরের বেলকুনিতে। দৈনিক ৩০০-৪০০ টাকা কামাই করে তাদের ছেলেমেয়ের পড়াশুনা, অসুস্থ বাবা মায়ের দেখাশুনা এবং পরিবারের খাবারের খরচাপাতি করতে হয়। বলা যায়, এই লোকগুলো একেকজন একেকটা পরিবারের কর্ণধার। তাদের চাহিদা অামাদের মতো এতো বড় নয়। লক্ষ লক্ষ টাকা করতে হবে, বিলাসিতা ভাবে জীবন কাটাতে হবে, এরকম মানুষ তারা নয়। জীবন যুদ্ধের এবং জীবিকা নির্বাহের সঠিক এবং হালাল টাকা কামাইয়ের মানুষ অামার কাছে এরাই।

IMG_20200621_082849-01.jpeg

IMG_20200621_082920.jpg

অামরা জানি, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান এবং কৃষি নির্ভর দেশ। এদেশের মানুষ কৃষির সাথে অতপ্রতভাবে জড়িত। সেইসাথে এদেশের ৮০% মানুষ গ্রামিন জনগোষ্ঠি। কমবেশি সবারই এরকম দৃশ্য অার খেটে খাওয়া মানুষের সাথে সাক্ষাত হয়েছে। সুতরাং, অামরা বড়লোক এবং টাকা ওয়ালা বিধায় তাদের কে হৃয় মনস্থ চোখে দেখবো, এটা একজন প্রকৃত মানুষের দৃষ্ঠিকোণ থেকে শোভা পায় না।

এই লোকগুলোর কারণেই বাংলাদেশ যেমন বেঁচে থাকে, তেমনি সবাই তিনবেলা খেতে পারি। নয়তো লক্ষ টাকা থেকেও নিজেকেই ফসল রোপন করে তা নিজেকেই খেটে ফসল ঘরে অানতে হতো। যাই হোক, অামরা তাদের শ্রদ্ধা করি। সর্বদায় শ্রদ্ধা করে যাবো। তাদের কে অবহেলার চোখে দেখবো না। এই হোক অঙ্গিকার। ধন্যবাদ।

In pursuit of livelihood | জীবিকা নির্বাহ | Ecency