একটি দিন, রিকশা আর গল্প

Words
554
Reading
3 min
Listen
Play
6y

এই শোনো,
আমরা চলো একটা বাসা নেই ... না না বাসা না... চিলেকোঠা। সব থেকে উপরে থাকবে আমাদের ঘর আর তার সাথে দেখো একদম মুক্ত আকাশ ফ্রি ... ঢাকা শহরের ফ্ল্যাটের গ্রীলের ফাঁকে কি আকাশ দেখা যায় বলো ! কি হল শুভ কথা বলো না কেন !! ... কি !
ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে শুভ তার রানুর দিকে... কি বলবে খুঁজে পায় না । তাও বলে উঠল – আচ্ছা তুমি কি বল এইসব !
“ক্যান...” বলে রেগে গেল রানু ।
শুভ চুপ করে বসে রইল। জানে রানু মেয়েটা রেগে গেলে শব্দচয়ন “কেন” থেকে “ক্যান” হয়ে যায় । দুজনই আর কথা বলে না কিছুক্ষণ ।
হঠাৎ রিকশা থেকেই একটা দোতলা বাসার উপরে চিলেকোঠা আবিষ্কার করলো রানু, যেই হাসি দিয়ে শুভকে কিছু বলতে যাবে তখনই চুপ হয়ে গেল। মনে মনে ভাবল “না থাক “।
“না থাকবে কেন বলো ! ... আচ্ছা এইসব কি ভেবে বলো “ ... শুভ বলে উঠলো ।
এই কথাতে রানু আর কথা বলে না... আর তাকাচ্ছেও না রাস্তার পাশের বাড়ি গুলতে থাকা চিলেকোঠাতে । কেন জানি একটা লজ্জা লাগলো... “ কি না কি ভাবলো শুভ আমাকে ! “...
আসলে রানুর কাছে এটা কথা বলার একটা তালবাহানা ছিল ... লাস্ট আধা ঘন্টা ধরে তাদের মধ্যে কোন কথা নেই।

অবশ্য এটাও ঠিক রানু একটু ভাবুক এইসব ব্যাপারে আর শুভ একেবারেই বাস্তবাদী যাকে বলা যায় কল্পনার ধারে কাছেও নাই। রঙ চোঙ দুনিয়া ওর ভালো লাগে না, একদমই না । তা নিয়ে রানুরও যে খুব অভিযোগ আছে তা নয় তবে কি যেন নাই নাই আছে। যাই হক রানু নিজের মনকে বুঝ দিল কারন একটাই আজ তাদের সাত বছরের কল্পিত সংসার জীবন পূর্ণ হল । তার জন্যই তাদের আজ দেখা মুখোমুখি ... দীর্ঘ দুই বছর পর । তাই রানু জেদ ধরেই ঠিক করেছে আজ তারা রিকশায় ঘুরবে সারাদিন।

107462927_1296161340775244_7566288599235656846_n.jpg

শুভর অবশ্য ইচ্ছা ছিল না ... কাল রাতে শুভ বলে উঠেছিল “সাত বছর তো কি হয়েছে তাই বলে এই রোদে বের হতে হবে ! “ বাসায় থাকো রানু “।
সবে মাত্র ১ ঘণ্টা, তাদের দুজনেরই খুব হাশপাশ লাগতে লাগলো... তবে সেটা ঢাকা শহরের ধুলো – বালি, ছিচকে গরমে বা জ্যামের জন্য না বরং নিজেদের জন্য । শুভর মুখখানা যেন বলছে “না পারছে বলতে না পারছে সইতে” । আর এইদিকে রানুর খুব অপরাধী লাগছে আর মনে মনে বলেই যাচ্ছে “ ধুরু জোড় কেন করলাম... “
কিছুক্ষণ পরেই শুভ হাত জরিয়ে ধরল রানুর ।
এই কি হল ! শরীর খারাপ ? বলে একেবারে ভয়ে জড়সড় রানু …
নাহ কিছু না , ধরলাম আর কি ।
অহ !
খালি অহ বললা যে ! খাবা কি বল ?
নাহ কিছু খাবো না বলে এক রাশ অভিমান চলে আসলো রানুর মুখে… হয়ত এত দিন পরে হাত ধরার জন্য নাহয় হঠাৎ করে ইচ্ছাপুরনের জন্য এটা নিয়ে একটু ভাবতে লাগলো রানু।
কিছুদূর যেতেই একটা টং এর দোকানে চা খেল ওরা । তারপর আবার রিকসা ... কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশ কাল হয়ে গেল আর তার সাথে দমকা বাতাস ।
রানু অনেকক্ষণ পরে বলে উঠল – “শরৎকালের এই একটা সমস্যা জানতো ... বলা নাই কয়া নাই অন্ধকার হয়ে যায় ...। “
হুম ।। তোমার মতো ...
হুম ... আচ্ছা গিটার আনলা না যে !
আমি কি গাইতে পারি নাকি ...
আমি গাইতাম আর তুমি বাজাতে... তাই ত কথা ছিল
আমি বাজাতেও পারি না ...
আচ্ছা
দুইজনই চুপ ... চারপাশে এত কোলাহেলও ঠিক যেন নিস্তব্ধতা ভর করছে দুইজনের মধ্যে...

ঝড় আসবে ? বলে উঠল শুভ

7cbc37ffc934f3fbdd09857b1400b6fa.jpg
source

আকাশের দিকে তাকিয়ে রানু - “হু হয়ত ... হয়ত না ...” ।

একটি দিন, রিকশা আর গল্প | Ecency