৫ মিনিটের মধ্যে হাঁটুর ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে ৩টে সহজ ব্যায়াম

Words
499
Reading
3 min
Listen
Play
8y

হাঁটুর ক্ষয় জনিত সমস্যাকে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা অস্থিসন্ধির ক্ষয়জনিত রোগ বলা হয়। আমাদের অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট এক ধরনের নরম কাভার দিয়ে আবৃত থাকে যাকে মেডিকেলের ভাষায় কারটিলেজ হাড় বলে।

হাঁটুর ব্যাথায় ভুগছেন? গাদা গাদা পেনকিলার খাবেন না! এতে ব্যথা থেকে সাময়িক মুক্তি মিললেও, আখেরে ক্ষতিই হবে! তারচেয়ে বাড়িতে বা অফিসেই খুব সাধারণ, সহজ তিনটে ব্যায়াম করলেই ৫ মিনিটের মধ্যে হাঁটুর ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন--

১) সাইড সুয়িং- প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ডান পা যতটা সম্ভব সামনের দিকে নিন। তারপর ডানদিকে উঁচু করে তুলুন। একইভাবে বাঁ পায়েও একই ব্যায়াম করুন। ১০বার করে করতে হবে। ২ পা মিলিয়ে ২০ বার।

২) ফ্রন্ট কিক-সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ডান পা একবার সামনের দিকে নিন, তারপর আবার পিছনের দিকে আনুন। পা যখন সামনে-পিছনে নেবেন, তা যেন আপনার অন্য পায়ের থেকে ১২ ইঞ্চি দূরে থাকে। ডান ও বাঁ পা মিলিয়ে এভাবে ২০ বার করুন।

৩) সিটেড রটেড- একটা চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন। তারপর, বাঁ পা ঠিক রেখে ডান পা-টা ক্রস স্টাইলে সামনে আনুন। তবে, দুই পায়ের হাঁটু যেন একসঙ্গে লেগে থাকে। ১২ ইঞ্চি দূরত্ব রেখে এক পা থেকে অন্য পা সামনে নিন। একইভাবে বাঁ পায়েও এই ব্যায়াম করুন।

আর আপনাদের জন্য রইলো কিছু ঘটে উপায় যা আপনাদের সাহায্য করতে পারে কিছুটা হলেও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে.

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুর ব্যবহারের ফলে কারটিলেজগুলো ক্ষয় হতে থাকে, জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির মার্জিন অমসৃণ হয়ে জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির গ্যাপ কমে যায়। ফলে জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধি নাড়াচাড়া করতে ব্যথা অনুভূত হয় এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিস বিভিন্ন জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে হতে পারে।

গুরুতর না হলে এ ধরনের যন্ত্রণা মাত্র ১০ দিনে কমাতে সাহায্য করে নুন এবং অলিভ অয়েল।

কি বিশ্বাস হচ্ছে না! ভুলে যাবেন না যখন আধুনিক ওষুধের আবিষ্কার হয়নি তখন এইসব ঘরোয়া উপায়েই নানা রোগের চিকিৎসা করা হতো, আর ফলও পাওয়া যেতো হাতেনাতে।

তাই ব্যথার যন্ত্রণা কমাতে নিম্নে বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করা হলো :

লবণ : এতে রয়েছে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম, যা স্ট্রেস কমিয়ে শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। ফলে হাড় মজবুত হয় এবং যন্ত্রণা কমতে শুরু করে। সর্বোপরি শরীরে পানি জমা আটকাতে নুন দারুন কাজ করে।

অলিভ অয়েল : এই তেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই ও কে আছে। এছাড়াও অলিভ ওয়েলের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ। এই তেল যে কোনও ধরনের প্রদাহ কমাতে দারুন কাজে আসে। তাই তো ব্যথার জায়গায় অলিভ অয়েল মালিশ করলে যন্ত্রণা কমতে শুরু করে।

কীভাবে এই দুটি উপকরণ মিলিয়ে ওষুধ তৈরি করবেন জেনে নিন :

১০ চামুচ ভাল মানের নুন ও ১২-১৫ চামুচ অলিভ অয়েল নিন। এই দুটি উপকরণ পরিমাণ মতো নিয়ে একটা কন্টেনারে মেশান। যখন দেখবেন নুন এবং অলিভ অয়েল ভালো করে মিশে গেছে, তখন কন্টেনারের মুখটা বন্ধ করে দিন।

২ দিন রেখে দিয়ে শরীরের যেখানে যেখানে ব্যথা আছে লাগান। দেখবেন নিমেষে কষ্ট কমে যাবে।

কীভাবে লাগাবেন এই মিশ্রণটি?

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অল্প করে এই মিশ্রণটি হাতে নিয়ে যন্ত্রণার স্থানে ২-৩ মিনিট ভালো করে মালিশ করুন। প্রতিদিন মালিশ করার সময়াটা বাড়ান। এমনটা করলে দেখবেন ১০ দিনের মধ্যেই যন্ত্রণা হাওয়া হয়ে যাবে। মাসাজের পর নরম টাওয়াল দিয়ে জায়গাটা মুছে ফেলতে ভুলবেন না কিন্তু।

সাবধানতা: এ মিশ্রণটি লাগানোর পর যদি দেখেন অ্যালার্জি বেরুচ্ছে তাহলে সেখানে অল্প করে বেবি পাউডার দিয়ে দিন। এটা করলে অ্যালার্জি কমে যাবে।

৫ মিনিটের মধ্যে হাঁটুর ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে ৩টে সহজ ব্যায়াম | Ecency