কাজ দেবেন কেউ?
যে কোন কাজ?
যে কোন বলতে যে কোন?
এই ধরুন খুব বেশি বেতন বা অর্থের প্রয়োজন নাই। ব্যাস পরিবারের লোক জনের মুখে দুমুঠো অন্ন। আপাতত বস্ত্র লাগছে না বাড়ির অনেকের আগের বস্ত্র দিয়েই কয়েকমাস চলবে। তবে আমার ছেলেটার লাগবে, সামনে ঈদ বলে কথা। খুব দামি না ব্যস নতুন একজোড়া হলেই হবে সাথে যদি এক জোড়া জুতো হয়। গত ঈদে কিনতে পারিনি, পুরোনা টা দিয়েই চালিয়েছি 🙂 ছেলে ছোট বলে খুব বেশি জেদ নেই এগুলোর প্রতি তার। কিন্তু আমিতো বাবা, ও না আমি তো পরাজিত বাবা। সত্যিই পরাজিত নিজের কাছে।
বাবাকে কাঁদতে দেখেছি ছোটবেলায়, যখন কলেজে ভর্তি করাতে পারছিলো না আমাকে। খুবি রাগ হয়েছিলাম মানুষের সামনে বাবাকে কাঁদতে দেখে সেদিন রাগে সারা দিন কিছুই খাইনি। বাবা কাদেঁ কেন এই কথা ভেবে। এই তো যখন ক্লাস সপ্তম অষ্টম শ্রেণীতে পড় তখনো বাবার কাছে দামী স্কুল ব্যগের জন্য যেদ করতাম। সহপাঠিরা দামী ব্যাগ নিয়ে যেত আমাকে লজ্জা লাগতো। ছেড়া কেন আমার ব্যাগের। একদিন তো বই সহ ছুড়ে ফেলেছিলাম বাসায় গিয়ে। বাবা সেদিন ঠিকোই ব্যাগ এনে দিয়েছিল নিছের বাই সাইকেলটি বিক্রি করে। জুতা কিনতে গিয়ে বাবার দর দাম করা শুনে পিছনে লজ্জায় মুখ লুকাতাম। এমন হাজারো গল্প ছিল বাবাদের পিছনে মুখ লুকিয়ে কাঁদার।
আজ বড়ই নির্মম প্রতিটি ঘটনার উত্তর আমার কাছে। বাবাদের কাদঁতে হয় মাঝে মাঝে হু হু করে, মুখ লুকিয়ে। বাবাদের আবেগ থাকতে নেই, থাকলেও প্রকাশ পেতে নেই, চাপা কান্না বের হয়ে যায়। বিচ্যুতি ঘটে চোখের কোনে।
যাই হোক ফিরে আসি, কাজ হবে একটা কাজ যে কোন কাজ, ২ নাম্বারি অবৈধ চিটারি বাটপারি বাদ দিয়ে যে কোন কাজ, বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, আর দুমুঠো অন্নর ব্যবস্থা করা যায় এরকম কিছু হলেই চলবে।
ধন্য বাদ স্রষ্টা তোমাকে ধন্যবাদ, অসংখ্য ধন্যবাদ এই করোনা মহামারি না দিলে আমার বাবার সেই কান্নার উত্তর গুলো পেতাম না। বাবার ত্যাগ কি জিনিস জানতাম না। আমি মোটেও বুঝতাম না চাহিদা আর প্রয়োজন এর পার্থক্য। আমার জীবনে আসলে মৌলিক প্রয়োজন কোন গুলো, আর কতটুকু?
যাই হোক ফিরে আসি কাজে। কাজ লাগবে কাজ। যে কোন কাজ। আর বইয়ের পাতায় লিখিত মৌলিক অধিকার গুলো সোনার অক্ষরেই শোভা পাক। মলাটের শেষ প্রান্তে হলেও যেন আমার মৌলিক প্রয়োজন গুলো স্থান পাক ।