নন ফিলোসফিক্যাল শিট!

Words
272
Reading
2 min
Listen
Play
4y

জাতিগত ভাবে আমরা বেশ হিংসা পরায়ণ।

নাইট ডিউটি চলছে। সবেমাত্র ২টা রোগীর এনজি টিউব ইনজারশন করে রুমে এসে একটু বসব, তখনই দরজায় টোকা। পোস্ট এ্যডমিশন নাইট, আনেক্সপেক্টেড কিছু না। এ্যডমিশন আর পোস্ট এ্যডমিশন নাইটে কেউ যদি একটু জিরিয়ে নেওয়ার ফুসরত পায়, তার ভাগ্য নিয়ে সবার হিংসার শেষ নাই।

তো যা বলছিলাম। মাত্র রুমে আসতেই দরজায় টোকা। কয়েকজন রোগীর লোক এসেছে, চিফ কম্পলেইন্ট : ডক্টর'স রুম থেকে কারেন্ট এর লাইন টানা নিয়ে বিবাদ!

এমনিতে আমাদের রুম থেকে ইলেক্ট্রিক লাইন বাইরে টানতে দেওয়ায় নিষেধ আছে। এই কদিন আগে এরকম লাইন টেনে এক লাইনে মাল্টিপ্লাগের পর মাল্টিপ্লাগ লাগিয়ে ওভারলোড করে ফিউজটাই বরবাদ করে দিয়েছিল। এরপর থেকে লাইন দিতে মানা।

তবুও কিভাবে কিভাবে যেনো আজকে রুম থেকে লাইন নিয়ে নেয় এক অতি চালাক ভদ্রলোক। এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল, আমরা কেউ টের ও পেলাম না কোন দিক দিয়ে লাইন নিয়ে গিয়েছে। ভেজাল বাঁধলো যখন সে গতবারের মত ঝামেলা না হওয়ার জন্য তার মাল্টিপ্লাগ থেকে অন্য কেউ কে আর লাইন দিতে রাজি হল না।

আর এ নিয়েই হাজির আমার রুমে। ইফ দেয়ার এভার ওয়াজ আ পারফেক্ট সিচুয়েশন ফর দ্যা ফেসপাম ইমজি, দিস ওয়াজ ইট!

তবে মজার ব্যাপার এখানেই শেষ না। বিরক্ত হয়ে যখন বললাম এসব আজগুবি সমস্যা নিয়ে আমাকে বিরক্ত করলে যেই লাইন আছে ওইটাও বন্ধ করে দিচ্ছি, তখন সবার উল্লাস টা দেখার মত ছিল। অতি উৎফুল্ল কয়েকজন তো পেছন থেকে "হ্যা সার বন্ধ করে দেন, বন্ধ করে দেন একদম" স্লোগান দেওয়া শুরু করে দিল।

ভাবখানা এমন, এ যেনো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! তারা নিজেরা লাইন না পাওয়াতে যত না কষ্ট, তার চাইতে যেন কয়েকগুণ বেশি শান্তি পেল সেই অতি চালাকের গলায় দড়ি দিতে পেরে।

ওই যে বললাম, জাতি হিসেবে বেশ হিংসা পরায়ণ আমরা। কিছুটা স্যাডিস্টিক ও বটে!

IMG_20220603_234238.jpg

নন ফিলোসফিক্যাল শিট! | Ecency