বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ।
সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।
আজকে আমি আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো ঔষুধি গুনে ভরা গুল্ম তিত বেগুন গাছ এর পরিচয়, উৎপত্তিস্থল, ঔষুধি গুনাগুন সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো। অযত্নে অবহেলিত ভাবে পরে থাকা অনেক উপকারী একটি ঔষুধি গাছ এই তিত বেগুন।
তিত বেগুন দেখতে বেগুনের মতো তবে আকারে অনেক ছোট হয়ে থাকে। গাছের গোড়া থেকে প্রতিটা কান্ডে ছোট ছোট কাটায় ভরপুর হয়ে থাকে তাই এটি কাঁটা বেগুন নামেও অনেক জায়গায় পরিচিত। এর ইংরেজি নাম কোকরোছ বেরি আর বৈজ্ঞানিক নাম সলোরিয়াম ক্যাপসিকোইডেস। এই উদ্ভিদ রাস্তার পাশে, পুকুর পাড়ে, পরিত্যক্ত জায়গায়, গ্রামের মেঠো পথে প্রচুর পরিমানে জন্মাতে দেখা যায়। এই গাছের ফুল হালকা হলুদ ও হলকা বেগুনি হয়ে থাকে আর পাতা হালকা সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে। ফলের ভিতরে হলুদ রঙের হয়ে থাকে। এই উদ্ভিদ ১-২ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে।
তিত বেগুন গাছের বহু ঔষধি গুন রয়েছে। এই ছোট্ট একটা উদ্ভিদে এত রকমের ঔষধি গুনাগুন রযেছে যা আশ্চর্যজনক। এই গাছের পাতা থেকে মূল পর্যন্ত পুরো গাছে ঔষধি গুনে ভরপুর। যাদের হজমে সমস্যা আছে তারা এই গাছের পাতার রস নিয়মিত খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
হাঁপানি রোগ সারাতে এই গাছের জুড়ি মিলা ভার। এ ছাড়ও কাশি সারাতে রক্ত পরিষ্কার করতে গুড়োকৃমির জন্যও এর পাতার রস ব্যবহার হয় ব্যবহার হয়। এচাড়া এটি এলার্জির মহা ঔষধ। তবে এর কাটা গায়ে ভেদলে অনেক ব্যাথা করে। এই তথ্য কোনোভাবেই উপযুক্ত চিকিৎসা হতে পারে না। বিস্তারিত জানতে একজন বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের পাহাড়ি উপজাতির কাছে খুব জনপ্রিয় একটি সবজি হল এই তিত বেগুন। পাহাড়িদের কাছে খুব জনপ্রিয় একটা সবজি এইটি। অনেক বাঙালি আছেন যারা এই তিত বেগুন আলুর সাথে ভর্তা করে বা ভাজি করে খায়। তবে ভর্তাই বেশি জনপ্রিয়।
আজ এ পর্যন্ত বন্ধুরা সবাইে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোস্ট পড়ার জন্য। সবাই ভালো থাকবেন এবং নিজের যত্ন নিবেন।