ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।ছোটবেলা থেকে এসব প্রবাদ শুনেছি। কিন্তু এর গভীরতা কখনো মাথায় আসেনি।কেউতো একজন এ প্রবাদের লেখক। কতোটা বিচার বিবেচনা আর বাস্তবতা নিরিখে এটা লিখেছেন তা তখনই অনুধাবন করা যায় যখন সে পরিস্থিতিতে নিজে পড়া যায়।
যখন কেউ অনেক আদরে বড় হয় আর চাওয়ার আগে সব কিছু সামনে থাকে, তখন সে সব সন্তানেরা সহজ সরল হলেও দায়িত্ব নিতে শিখে কম।আমার দাদা দাদীর তিন মেয়ে সন্তানের পর একমাত্র ছেলে হিসেবে আমার বাবার জন্ম।খুবই আদরে বড় হওয়া আমার বাবা ছিলেন অত্যন্ত সহজ সরল ভালো মানুষ। কিন্তু বেশি আদরে বড়ো হওয়ায় দায়িত্ব নেওয়াটা শিখতে পারেনি।তাই একটু বাউন্ডোলে,ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। আমার বাবা একটু বড়ো হওয়ার পর আমার ছোট চাচার জন্ম।আমার ছোট চাচার স্বভাব আব্বার বিপরীত। অন্তত চতুর কর্মকম। সেই ছোট বেলা থেকে সংসার আঁকড়ে ধরেছেন।এতোটুকু ঠিক ছিলো। কিন্তু সমস্যাটা তখনি হলো যখন আমার ছোট চাচার মাথায় আসে দাদার মৃত্যুর পর আব্বা ও সমান সম্পদ পাবে।তাই তিনি দাদাকে বিভিন্ন ভাবে বুঝাতে থাকলেন ভাইসাব সম্পদ নষ্ট করবে। আপনি সব আমার নামে লিখে দেন আমি ভাইসাব কে দেখবো।
কিন্তু আমার দাদা রাজি হননি।তাই দাদার মৃত্যুর পর আব্বাকে বুঝিয়ে সম্পত্তি বিক্রি করে বলে বিদেশে যাবে তারপর আব্বার সম্পদ কিনে আব্বাকে ফিরিয়ে দেবে। পরে ওনি নাকি আর বিদেশ যেতে পারেন নি।বাড়িতে ও আসেননি। ঘরটাও বিক্রি করে নিয়ে যান।সব বিক্রি করে শেষে পরে থাকে চুয়াল্লিশ শতাংশের বাড়ির ভিটা।আমার আব্বা কিছুটা ভবঘুরে প্রকৃতির।তাই জীবনযুদ্ধ শুরু হয় আম্মার।তখন আমার বড় বোনদের জন্ম হয়েছে।আমার মামা আম্মাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চায় একেবারে। কিন্তু আম্মা মেয়েদের রেখে যাবে না। তাই সেই ভিটায় ছোট্ট একটা ঘর বানিয়ে দুই মেয়ে কে নিয়ে বসবাস শুরু করে।
আস্তে আস্তে আম্মা অনেক কষ্ট করে নিজের সংসার সাজায়।তারপর আমাদের জন্ম।দৃঢ়ে দৃঢ়ে বড়ো হওয়া।আমাদের চার ভাই বোন কে উচ্চ শিক্ষিত করে আম্মা যখন নিশ্চিন্ত হয়ে ঘর বাড়ি করে একটু ভালো থাকতে শুরু করেন তখনই আব্বা মারা যান। এরপর আমার চাচার চোখ পড়ে বাড়ির সেই চুয়াল্লিশ শতাংশ ভিটের দিকে।কিন্তু ওনি সব সম্পদ বিক্রি করায় বাড়ির বেশিরভাগ অংশ আমার ফুফুদের। আমার ফুফুদের সবাই মারা গিয়েছেন শুধু ছোট ফুফু ছাড়া। বড় ফুফুর সন্তানেরা স্পষ্ট ভাবে বলে দিয়েছেন লিখে দেবে না আবার নিবেও না।কিন্তু ছোট ফুফু লিখে দেবে। টাকা দিতে হবে।
তাই আমার চাচা ভাবলো ছোট ফুফুর অংশ আর নিজের অংশ একসাথে করে, বাড়ির ভালো অংশটুকু নিয়ে বিক্রি করবে।আমাদের না বলে নিয়ে নিবে।ঢাকা থেকে আমার ফুফুর বাড়িতে এসে সব ঠিক করে।কিন্তু জমি লিখে দেওয়ার আগে আমার চাচার সাথে ছোট ফুফার কথা কাটাকাটি শুরু হয়।এক কথা দুই কথায় বড় ঝগড়া। এক পর্যায়ে নাকি ফুফা ফুফুকে কসম দিয়ে দেয় এই জমি আমার চাচাকে লিখে দিলে হাশরের ময়দানে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করবে না। তখন আমার ফুফু পড়ে গেলেন বিপদে।
এরপর লুকিয়ে এসে আমাদের ডেকে জমি লিখে দিয়ে চলে গিয়েছেন।হ্যাঁ আমরা টাকা দিয়েছি।কিন্তু কোনো দিন গিয়ে বলিনি লিখে দেন।
একেই বুঝি বলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।
আমাদেরকে ঠকিয়ে আমার চাচা চেয়েছিলেন লুকিয়ে ফুফুর কাছ থেকে জমি কোনো অর্থ ছাড়াই নিয়ে নিতে,কিন্তু তার উল্টো হলো ফুফু আমাদেরকেই দিয়ে দিলেন। যদিও আমরা টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছি।
উল্লেখ্য আমার ছোট ফুফুর জমির পরিমাণ সাত শতাংশ।