মালয়েশিয়া আসার পর থেকে কখনো ফ্রি ছিলাম না। প্রথমে পড়াশোনা, কাজ। পরে আবার ব্যবসা। তাই ঘুরাঘুরি করা হয়নি বললেই চলে।করোনা শুরুর পর,দুই বছর সময় ছিলো প্রচুর,কিন্তু লক ডাউনে ঘরে বসে বসে সময় কাটানো লেগেছে।
এরপর লকডাউন শেষ হলো মানহা আসলো। এবার আমার মানহা ছাড়া কোনো কাজ নেই।মানহার বাবার সপ্তাহে একদিন ছুটি। যেটা আমার আর মানহার ঈদের দিন। শনিবার বিকেল থেকে ছুটির আমেজ শুরু হয়ে যায়।প্রতি রবিবার ঘুরাঘুরি করে কাটিয়ে দেই আমরা।যখন মানহা খুব ছোট ছিলো তখন শুধু শপিংমল গুলোতে ঘুরতে যেতাম।এরপর একটু বড় হলো তখন পার্কে যাওয়া শুরু করলাম।
এখন মানহা হাঁটতে শিখেছে তাই আমরা ঠিক করলাম মালয়েশিয়ার পর্যটন শিল্প গুলো ঘুরবো।তারই প্রথম সফর ছিলো বাতুকেভ ভ্রমণ।এটা আমাদের বাসা থেকে বেশি দূরে নয়।প্রাইভেট কারে গেলে বিশ মিনিট লাগে। সেদিন আমরা বাসা থেকে বের হলাম দুপুর তিনটে।তিনটা বিশে পোঁছে গেলাম।এখানকার প্রধান আকর্ষণ প্রায় সবারই জানা।হিন্দুদের দেবতা শিব ঠাকুর। প্রধান ফটক থেকেই দেখা যায় বিশাল আকার মূর্তি।শিব ঠাকুরের মূর্তির পাশ দিয়ে সিঁড়ি। সে সিঁড়ি দিয়ে পাঁচশ ফুট পাহাড়ের উপর গুহা কেটে সেখানে মন্দির।
হিন্দু ধর্মের লোকেরা জুতো ছাড়া মাথায় কলসী নিয়ে ওঠে পূজা করে।কিন্তু এখানে পর্যটকই বেশি।ঝাঁকে ঝাঁকে কবুতর আর দলে দলে বানর।আমরা কুয়ালালামপুর থাকি।ক্যামেরুন হাইল্যান্ড,তেলেঙ্গানু,গেন্তিং হাইল্যান্ড এসব বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি।পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে নাম্বারিং করলে একশতে একশ দিতে হবে।কিন্তু এই একটা জায়গা পেলাম নোংরা, গন্ধ। এখানে একটা ঝিলের মতো জায়গা আছে যেখানে মাছ আছে লাখ লাখ,কিন্তু সেই ঝিলের পানি এতোটা নোংরা গন্ধে থাকা মুশকিল।
যাইহোক এই জায়গাটা কেনো এতো নোংরা আমার জানা নেই তবে আকর্ষণীয় অনেক কিছুই আছে। তার মধ্যে প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে এতো উঁচু পাহাড় কেটে মন্দির বানানো।পাহাড়ের পাথর কেটে কেটে হাজার হাজার মূর্তি। ইন্ডিয়ান সিরিয়ালে যত ধরনের দেবদেবতা দেখা যায় সবি এখানে আছে।দেবতাদের বাহন। আমরা যেমন ঘুরতে গেছি তেমন বিভিন্ন ধর্মের লোক আসে। আমরা কিন্তু জায়গাটা নোংরা করছি এমন না।
ওনাদের পবিত্র স্থান অথচ ওনারাই নোংরা করছে।মানে পূজার সামগ্রী, পানি এসব যত্ন নিয়ে নাড়াচাড়া করলে কিন্তু এমন হয় না।যাইহোক ওনাদের ধর্ম ওনারা ভালো বুঝে।এসব নিয়ে কথা বলার দরকার নেই।আমাদের সব ঘুরে দেখতে দুই ঘন্টার মতো সময় লেগেছে।
এর ভিতরে একটা ছবি তুলার স্টুডিও আছে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের টিয়া পাখি নিয়ে ছবি তুলা যায়।ঐ টিয়া পাখি গুলো কথা বলতে পারে।আমি এই প্রথম টিয়া পাখিকে কথা বলতে দেখলাম। এর আগে ভিডিও দেখেছি কিন্তু বাস্তবে দেখিনি। মোরগ আছে অনেক বড় বড়। আমার মনে হয় এগুলো বন মোরগ।কারণ সাধারণ মোরগ এতোগুলো একসাথে আমি এর আগে দেখিনি। এতো উঁচু পাহাড়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠে যারা পূজা দেয় তাদের জন্য ঠিক আছে।কিন্তু আমরা কষ্টে কর ওঠে দেখি দেখার মতো কিছুই নেই।
আমি সিনেমায় দেখেছি নায়িকাকে কোলে নিয়ে নায়ক ওঠে পূজা দেওয়ার জন্য। এগুলো দুই তিন ধাপ সিঁড়ি থাকে।ওদের এখানে এনে দিলে মজা হতো এরপর কোনোদিন এমন দৃশ্য করতে রাজি হতো না।
আমরা আড়াই ঘন্টা ঘুরাঘুরি করে ছয়টার মধ্যে বাসায় চলে আসলাম।ভালো মন্দ মিলে ঘুরে আসলাম। আমার জায়গাটা ভালো লাগেনি নোংরার কারণে।তাছাড়া যাদের পূজার স্থান এটা তাদের কাছে হয়তো জায়গাটা খুবি আকর্ষণীয়।