পৃথিবীর সৌন্দর্য আমি দেখেছি। দেখেছি মানব কুলের বিনম্রতা। যে দিকে তাকাতাম সবই সুন্দর সুশৃঙ্খল আর মায়াবী মনে হতো।সব কিছু কে খুব ভালে মনে হতো।সেই ছোট থেকে মানুষের প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস। ভালোবাসতাম খুব, সবাই কে, সবকিছুকে।ছোট বেলা থেকে সব ভালো কিছু শিখিয়েছেন আমার গুরুজনেরা।হয়তো সবাই কেই তা শিখানো হয়।কিন্তু সবাই কতটুকু অনুসরণ করে আমি জানি না।কিন্তু আমি প্রতিমুহূর্তে মানতে চেষ্টা করি। কিন্তু আজকাল মাঝে মাঝে দম বন্ধ লাগে।অশৃঙ্খল এ মানব সমাজে শৃঙ্খলা কে মনে হয় বড়ো অনিয়ম। সৃষ্টিকর্তাও মনে হয় এ অশৃঙ্খল মানব সমাজকে টেনে উপরে তুলতে পছন্দ করে। আর যারা নিয়ম মেনে সরল পথে চলতে চাই তাকে দাবিয়ে রাখে সাত ফুট মাটির নিচে। যেনো কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে।
গ্রামে বড় হলেও ছোট থেকে আমি স্বপ্ন বিলাসী। দূর থেকে থাকিয়ে যখন দেখি আকাশ মাথা নত করে দিগন্তে মিশেছে তখন এর বাস্তবতা মনে থাকলেও আমার মনে হয় দৌড়ে গিয়ে একবার ধরি।ছোট বেলা থেকে আমার ছোট ছোট স্বপ্ন গুলো পূরণ হয়েছে খুব সহজে।যখন বড় হচ্ছি স্বপ্ন গুলোও বড় হচ্ছে। বিভিন্ন মানুষের সাথে পরিচয় হয়।তখন বুঝতে শুরু করেছি, যে সরলতা নিয়ে আমি সবাইকে বিশ্বাস করি সেটা ঠিক নয়।কোনো মানুষ শতভাগ বিশ্বাসের যোগ্য হয় না।আবার বিশ্বাস ছাড়া ও চলা সম্ভব নয়।তাই প্রথমে ভালো ভাবে বুঝে, দেখে এতোটুকুই বিশ্বাস করা উচিত যতটুকু বিশ্বাস করলে নিজের কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ছোট থেকে বিশ্বাস করে কত বার ঠকেছি তার হিসাব আমার কাছে নেই। তবে দুই একটা ঘটনা আছে যা আজও মনে হলে কষ্ট লাগে।
তখন আমি অনেক ছোট। সাত আট বছর বয়স হবে। আম্মা পিঠা বানাবে তাই চালের আটা করতে পাশের বাড়িতে গেছে।কারণ আমাদের ঢেকি ছিলো না। আমি আম্মার সাথে বসেছিলাম।ভালো লাগছে না বসে থাকতে। আম্মা বলছে " ভালো না লাগলে বাড়িতে গিয়ে খেলা করো। আমি চলে আসব। আমি রাস্তা দিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলাম।হঠাৎ দেখি আমার এক চাচাতো ভাইয়ের ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। সে আমার সমবয়সী। আমরা একি শ্রেণীতে পড়ি।পাশে একটা কাঁঠাল গাছ দেখিয়ে বললো ঐ কাঁঠালের ফাঁকে আমার বল আটকে গেছে। আমি তো গাছে উঠতে পারিনা। এনে দিবি।আমি বললাম ঠিক আছে এনে দিচ্ছি। মাটি থেকে চার পাঁচ হাত উপরে চারটা কাঁঠাল লেগে লেগে আছে। এইটুকু উপরে উঠা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না।আমি যখন অর্ধেক পরিমাণ উঠে গেছি ও দেখি দৌড়ে পালাচ্ছে। আমি ডাকতে শুরু করলাম কই যাস। ও বলে তুই বল নিয়ে আয়।যেই আমি কাঁঠালে হাত দিলাম "বলা" আমাকে ঘিরে ধরেছে।বলা এক ধরনের মৌমাছির মতো পোকা। হুল ফুটিয়ে দেয়।প্রচন্ড ব্যথা।আমি লাফ দিয়ে নেমে চিৎকার করতে করতে দৌড়াচ্ছি। বলাও আমার সাথে দৌড়াচ্ছে আর কামড়াচ্ছে।দূর থেকে আমার এক চাচা দেখে বলে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে।তারপর "বলা" চলে গেছে।
কিন্তু আমাকে এতো কামড় দিয়েছিলো যে সারা শরীর ফুলে সমান হয়ে গেছিলো।জ্বর হয়েছিলো যা সাতদিন পর সাড়ে।এরকম কত শত ঘটনা পেড়িয়ে এসে অতি সম্প্রতি আমার সাথে একটা ঘটনা ঘটেছে যা আমাকে খুবই বিব্রত করেছে।শহরে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে।তাদের সাথে আমরা বিভিন্ন ভাবে পরিচিত হই।এমনই একজনের সাথে আমার পরিচয় আমার বাসার সামনে থেকে। এরপর মোটামুটি ভালো সম্পর্ক।ফোনে কথা হয়।এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ আমাকে ফোনে বলছে ওনার চাকরি চলে যাচ্ছে ছাব্বিশ হাজার টাকা দিলে আর চাকরি যাবে না।আমাকে বিকেলে টাকাটা দিয়ে দিবে।ওনার একটা ছেলে আছে। স্বামী নেই চাকরি চলে গেলে সমস্যায় পড়ে যাবে।বিকেলে দিয়ে দিবে তাই দিলাম।টাকা নেওয়ার পর আর আমার ফোন ধরে না এসএমএস এর উত্তর দেয়।হাইরে মানুষ। এরপর কোনো মানুষ কে বিশ্বাস করার আগে একশতবার ভাববো।