বাণিজ্যিক নগরীগুলো তে অধিকাংশ অধিবাসী হয় ভাড়াটিয়া।ভাড়া থাকে বলে এই না যে তাদের বাড়ি নেই।তাদের ও বাড়ি আছে।এমন কি যে বাড়িতে ভাড়া থাকে তার চেয়েও ভালো বাড়ি আছে। কিন্তু কর্মসংস্থানের জন্য নিজের এলাকার বাড়ি ঘর ছেড়ে থাকতে হয়।আর কিছু লোকাল বাড়ি ওয়ালা আছে যারা ভাগ্য গুণে এখানে জন্ম গ্রহণ করেছে।বাপদাদার কিছু সম্পত্তি পেয়েছে এখানে বাড়ি করে দেয়। সেই ভাড়ার টাকায় তাদের একমাত্র রুটি-রুজি। কিন্তু ভাবখানা এমন করে যেনো দয়া করে থাকতে দিয়েছে।ওদের যদি টাকার প্রয়োজন না হতো চৌদ্দ সীমায় কাউকে ঢুকতে পর্যন্ত দিতো না।
টিউশনি করার সুবাধে এমন অনেক বাড়ি ওয়ালা দেখার দুর্ভাগ্য আমার হয়েছে। এই ধরনের মানুষের সাথে সাক্ষাৎ কে আমি দুর্ভাগ্য মনে করি।যেহেতু ভালো শিক্ষক হিসেবে আমার সুনাম ছিলো তাই এসব বাড়িওয়ালীরা তাদের সন্তানদের পড়ানোর জন্য আমার কাছে আসতো । আর এটা সত্যি তারা বেতনও ভালো দিতো।
এমন একজন বাড়িওয়ালার তিন সন্তানকে আমি বাসায় গিয়ে পড়াতাম।ওদের বাসা ছিলো টিনসেট। ওদের গেইট আলাদা, ভাড়াটিয়াদের গেইট আলাদা। কিন্তু ওদের ড্রয়িং রুমের সাথে একটা গেইট ছিলো যেটা দিয়ে ভাড়াটিয়াদের ঘর গুলো দেখা যায়।ওদের বাবা মাঝেমাঝে দেখতাম গেইট এর উপর দিয়ে দেখতো।প্রথমে আমি ভাবতাম প্রতিদিন কি দেখে এভাবে।আরেক দিন দেখি উপর দিয়ে দেখে ঠাস করে গেইট খুলে কাকে নাকি বলতেছে ঐদিকে আসো।এরপর দেখলাম একটা ছেলে আসলো থ্রী কোয়ার্টার প্যান্ট পড়া।এটাই তার অপরাধ। ঠাস ঠাস দুইটা চড় মেরে দিলো।আবার বলছে থ্রীকোয়ার্টার প্যান্ট পরে ঘুরতে মন চাইলে বাবাকে বলিস একটা বাসা বানিয়ে দিতে।আমার বাসায় এসব নবাবিপনা চলবে না।
এটাতো একটা কাহিনি বর্ননা করলাম এমন শতশত কাহিনি আছে।আবার ভালো বাড়িওয়ালাও আছে।যারা ভাড়াটিয়াদের নিকট আত্মীয়ের মতো ভালোবাসে,সম্মান করে।
বিঃদ্রঃ ঘটনাটা আমার বোন(@setararubi) এর সাথে ঘটা।