একেক জন মানুষের চাহিদা একেক রকম।প্রত্যেক মানুষের চাহিদা নির্ভর করে তার তার অবস্থানের উপর। অবস্থান বলতে আমি বুঝাতে চাচ্ছি তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, শিক্ষাগত অবস্থান,আর্থিক অবস্থা ইত্যাদি। একটা উদাহরণ দিয়ে স্পষ্ট করে দিচ্ছি। ধরা যাক বাংলাদেশের কোনো এক প্রত্যন্ত্র অঞ্চলের গ্রামে সুমি ও রীমি বাস করে।তারা প্রতিবেশী,সমবয়সী।সুমির বাবা কলেজের অধ্যাপক।ওরা দুই ভাইবোন।গ্রামের মধ্যে ধনী জন বলা চলে।সেও এস এস সি পাশ করে কলেজে পড়ছে।আর রীমি দিন মজুর বাবার সন্তান। চার ভাইবোন আর মা-বাবা মিলে ছয় জনের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়।প্রাইমারী শিক্ষা শেষ হওয়ার পর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি।এবার যদি তাদের দুইজন কে এনে জিজ্ঞেস করা কে কি ধরনের প্রসাধনী চায়,রীমি যদি খুব বেশি কিছু চাই তাহলে চাইবে সুগন্ধি।
সাবান,ডিটার্জেন্ট,নারিকেল তেল এই সব।আর সুমী হয়ত চাইবে বিদেশি ত্বক, চুল, নক যত্নের জিনিস পত্র।ঠিক তেমনি তাদের জামা চাইতে বললে রীমি নতুন একটি থ্রী পিচ পেলে আনন্দে নেচে উঠবে। কিন্তু সুমী হয়ত খুঁজবে লেটেস্ট কোন ড্রেস।
প্রত্যেক মানুষের অবস্থান পরিবর্তনের সাথে তার চাহিদারও পরিবর্তন ঘটে। এটাই সত্যি।
যখন আমি গ্রামে বাস করতাম তখনকার ঈদগুলো ছিলো অন্য রকম।ঈদে একটা নতুন জামা হলেই হলো। দাম কোনো বিষয় না।তখন আম্মা কাপড় ধোয়ার জন্য ৫৭০ সাবান ব্যবহার করতেন। সেটা দিয়ে আমরা চুল পরিস্কার করতাম।এরপর যখন অষ্টম শ্রেণিতে উঠলাম তখন দোকান থেকে একটাকা করে শ্যাম্পুর পাতা দিয়ে চুল পরিস্কার করা শুরু করলাম।যখন দশম শ্রেনীতে উঠলাম তখন কাপড় ধোয়ার জন্য আব্বাকে ডিটার্জেন্ট কিনতে হলো। কারণ ত্বক নষ্ট হবে তাই ৫৭০ সাবান ধরা যাবে না।এরপর যখন শহরে থাকতে শুরু করলাম তখন দেখি দিন দিন আমার চাহিদা শুধু বেড়ে যাচ্ছে। ঈদে একটা জামা পেয়ে আনন্দে লাফানো আমি পাঁচ সাতটা জামা পেয়েও তেমন খুশি হতে পারি না।
আসলে মানুষের জীবনটায় বুঝি এমন।যত পাই চাহিদা ততো বাড়ে।
বিঃদ্রঃ কথাগুলো আমার বোন (@setararubi) এর।