মানুষ এর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সে সবসময় হাসিখুশি থাকতে চায়।সেই হাসিখুশি তার সুখের মাধ্যমে হোক বা তুচ্ছ ছোট কোনো কৌতুক শুনে হোক সেটা বেপার না।আর মানুষ যখন হাসিখুশি থাকে তখন তার মস্তিষ্ক বেশি সচল থাকে।মানে মস্তিষ্কে অন্য কোনো চাপ থাকে না,তখন যা করা হয় তা সহজেই মস্তিষ্ক ধরতে পারে।
এইজন্যই দেখা যায়,মানুষ হাসিখুশি থাকা অবস্থায় যে সিদ্ধান্ত নেয় তা সঠিক হয়,আর মানসিক চাপ বা কষ্টে থাকার সময় বা রাগে থাকার সময় যে সিদ্ধান্ত নেয় তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুল হয়।
এই বিষয়টি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা যায়।যেসব শিক্ষক একটানা শুধু পড়িয়ে যান,শুধু বই এর পড়া পড়ান,এই যেমন একটানা শুধু অংক কষেই যাচ্ছেন বা বাংলা ব্যাকরণ সমাস-কারক-বিভক্তি পড়িয়েই যাচ্ছেন, তার ক্লাস শিক্ষার্থীরা খুব বেশি পছন্দ করে না।সেসব ক্লাস কখন শেষ হবে সেই চিন্তায় সে অস্থির হয়ে পড়ে।আর আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুযায়ী সময় যেহেতু আপেক্ষিক,সেহেতু সেই ক্লাসের সময়টা তাদের কাছে খুব দীর্ঘ মনে হয়।অনেক শিক্ষার্থী দেখা যায় বিরক্ত হতে হতে তার মধ্যে ঘুমভাব চলে আসে,অনেকে ঘুমিয়েও যায়।
শিক্ষক ক্লাসে যত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই পড়ান না কেনো সেই ক্লাসে কেউ মনোযোগ দিতে পারে না বেশিক্ষণ।
কিন্তু যেসব শিক্ষক মজা নিয়ে পড়ান,টেক্সট বই এর টপিকের পাশাপাশি নিজে থেকে বিভিন্ন হাসির গল্প বলেন,বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে পড়ান তার ক্লাসে কেউ বিরক্ত বোধ করে না।এরমানে এই না যে তারা শুধু মজাই পেলো কিন্তু কোনো পড়া হলো না।এমন কিছু শিক্ষক আছে যারা যে বিষয়টা পড়াচ্ছেন, ঐ সম্পর্কিত অনেক মজার কথা বলে ছাত্রছাত্রীদের খুশি রাখেন,আর তারা যখন হাসিমুখে থাকে তখন তাদের মানসিক কোনো চাপ থাকে না।তখন সেই পড়া মস্তিষ্ক সহজে ধরতে পারে এবং বেশিদিন পর্যন্ত সেই জ্ঞান মস্তিষ্কে সংরক্ষিত থাকে।আর ঐসব ক্লাস যদি এক ঘন্টারও হয়,তবু মনে হয় দশ মিনিটেই বুঝি শেষ হয়ে গেলো।
টিবি কন্ট্রোল সেন্টারের একজন বড় ডাক্তার,অনেক বড় বড় ডিগ্রী আছে যার নামের পাশে।টিবি সম্পর্কিত ওনার একটি লেকচারে উপস্থিত ছিলাম।ঘন্টাখানেকের মতো একটা লেকচার দেন।লেকাচার বলতে ক্লাস ছিলো আরকি।ওনার যেমন বড় বড় ডিগ্রি আছে,তেমন প্রচুর জ্ঞান।ঐ একটানা একঘন্টা কোনো প্রেজেন্টেশন বা স্লাইড ছাড়া অনর্গল লেকচার দিয়ে যান টিবি সম্পর্কে।এই রোগের সবকিছুই তার মুখস্থ বলে মনে হচ্ছিলো।বিভিন্ন পরিসংখ্যান এর ভিতরের সংখ্যাও ওনি মুখস্থ বলছিলেন।তবে এতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যমূলক ক্লাস কারোরই ভালো লাগছিলো না।আশপাশে তাকালেই সেটা বুঝা যাচ্ছিলো।একটু পর পর একেকজন হাই তুলছে।কয়েকজন যারা অগোচরে বসে ছিলো তারা দেখলাম চেয়ারে বসেই ঘুমাচ্ছে।অনেকেই বার বার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে।শেষ হয় না কেনো,এমন বাক্য একটু পর পর ভেসে আসছিলো।
স্যার যখন বললেন, থ্যাংকস আজ এই পর্যন্তই।তখন জোড়ে দীর্ঘশ্বাসের আওয়াজে অডিটোরিয়াম গমগম করে উঠলো।সবাই যেনো হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।
এর কারণ হচ্ছে স্যার শুধু একটানা তথ্যমূলক কথাবার্তা বলে গেছেন,কোন মজার কথা বা কোন কৌতুক বলেননি।মানে মজা করে পড়ানো যেটাকে বলে সেটা করেননি তাই সবাই বিরক্ত হয়ে যায় ।আর কেউ কিছু শিখাতো দূরে থাক,শুধু ঐসময় টুকু পার করার চিন্তায় ছিলো সবাই।
অথচ এই একি কথাগুলো যদি ওনি বিভিন্ন মজার উদাহরণ দিয়ে বুঝাতেন বা পড়ার মাঝে মাঝে যদি ছোট গল্প বলতেন তাহলে সবাই হাসিখুশি থাকতো, আর তখন ঐ কঠিন তথ্যগুলোও শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্ক খুব সহজে গ্রহণ করতো।
এইজন্যই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় মজা নিয়ে পড়াকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।