বিজ্ঞান যেখানে অসহায়

Words
411
Reading
2 min
Listen
Play
4y

জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতি আজ মানুষকে পৃথিবী ছেড়ে মঙ্গলগ্রহ নিয়ে ভাবার অবস্থা সৃষ্টি করে দিয়েছে।বিজ্ঞান যেমন মানুষের জীবনকে টেকনোলজির মাধ্যমে সহজ করে দিয়েছে,তেমনি চিকিৎসা ক্ষেত্রের উন্নতি মানুষকে সুস্থ জীবন যাপন করার সুযোগ করে দিয়েছে।আজকের এই আধুনিক যুগে থেকে মনে হয়,এমন কোনো রোগ নেই যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের মাধ্যমে সারিয়ে তুলা যাবে না।কিন্তু না,বেপারটা এতো সহজ নয়।

এতোদিন আমার কাছে এটাই মনে হতো যে বিজ্ঞানের কাছে সব রোগের চিকিৎসা আছে,পৃথিবীতে এমন কোনো রোগ নেই যার ঔষধ নেই।কিন্তু আমার এই ধারণা ভুল ছিলো।হ্যাঁ ঠিক আছে,ক্যান্সার বা এইডসের মরণব্যাধি হওয়ার কথা আগে জানতাম।কিন্তু কখনও নিজ চোখে দেখিনি।আবার বর্তমানে ক্যান্সারের অনেক রোগী ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাচ্ছে,সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাচ্ছে।এইডসের রোগীও প্রথমদিকে নির্ণয় হলে সুস্থ হয়।আর যদি কোনো চিকিৎসা না নেয় তবুও ভাইরাস শরীরের প্রবেশের পর থেকে আরও দশ-বারো বছর বাঁচে।তাই এই রোগদুটোকে বর্তমান উন্নত বিজ্ঞানের যুগে মরণব্যাধি হিসাবে মনে হতো না।

কিন্তু এবার "ইনফেকশিয়াস ডিজিজ হাসপাতাল" বা সংক্রামকব্যাধী হাসপাতালে ফিল্ড ভিজিটে যাওয়ার পর সবচেয়ে খারাপ লেগেছে যে রোগটি নিয়ে সেটা হলো "Rabies" বা জলাতঙ্ক।জলাতঙ্ক বর্তমান এই দ্বাদশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও মরণব্যাধি।কারো যদি জলাতঙ্ক রোগ হয় তাহলে সে দশদিনের মধ্যে মারা যাবে, যাবেই।জলাতঙ্ক রোগের কোনো চিকিৎসা আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি।

কুকুর,শিয়াল,বেঁজি এইধরনের পশুর কামড়ে জলাতঙ্ক হয়।তবে সব কুকুর,শিয়াল না।যেসব কুকুর,শিয়াল নিজে জলাতঙ্কে আক্রান্ত ওদের কামড়ে মানুষেরও জলাতঙ্ক হবে।ছোট থেকে শুনতাম পাগলা কুকুড় কামড় দিলে জলাতঙ্ক হয়।আসলে বেপারটা হলো,জলাতঙ্ক রোগ যে Rabies ভাইরাসের মাধ্যমে হয় সেটা মস্তিষ্কে আক্রমণ করে,ফলে শেষের দিকে পশুগুলো পাগল হয়ে যায় এবং হিংস্র হয়ে কামড়ে দেয়।এই পশুর কামড়েই জলাতঙ্কের ভাইরাস ঐ পশু থেকে মানুষের শরীরে চলে আসে।অবশ্য জলাতঙ্ক হওয়ার দশদিনের মধ্যে ঐ পশুটিও মারা যায়।আর সে যে মানুষকে কামড়াবে সেও মারা যাবে দশদিনের মধ্যে।

তবে হ্যাঁ রেভিসের ভ্যাক্সিন আছে।জলাতঙ্ক শতভাগ প্রতিরোধ করা যায়।
জলাতঙ্কে আক্রান্ত কোনো কুকুর,শিয়াল বা বেঁজি কামড়ালে ঐদিনই বা জলাতঙ্ক হওয়ার আগেই যদি ভ্যাক্সিন দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আর জলাতঙ্ক রোগ হয় না।আর যদি এই ভ্যাক্সিন না দেওয়া হয়,আর জলাতঙ্ক হয়ে যায় তাহলে মৃত্যু অবধারিত।

আমরা যখন ফিল্ড ভিজিটে গিয়েছিলাম তখন হাসপাতালে দুইটা জলাতঙ্কের রোগী ছিলো।একটা পাঁচ বছরের বাচ্চা,আরেকটা আট বছরের বাচ্চা।একটা বাচ্চা খেলতে গিয়েছিলো বাহিরে তখন কুকুর কামড়ে দিয়েছে।

যে ডাক্তার ঐ দুটো বাচ্চার দায়িত্বে ছিলো,তিনি বলছিলেন যে ওনারা এখন অপেক্ষা করছেন,আর কয়েকদিনের মধ্যে বাচ্চা দুটো মারা যাবে।
বাচ্চা দুটোর মা কে দেখলাম,কতোটা অসহায় লাগছিলো তাদের।তাদের চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছিলো পৃথিবীটা তাদের জন্য কতোটা যন্ত্রণাদায়ক মনে হচ্ছে।নিজের সন্তানকে সামনে নিয়ে বসে আছে,আর অপেক্ষা করছে কখন মারা যাবে,লাশ নিয়ে বাড়িতে চলে যাবে।

এই উন্নত বিজ্ঞান ঐ অসহায় মা দের জন্য কিছুই করতে পারছে না।
এই দৃশ্য দেখে আমার মনে হলো,বিজ্ঞান এখনও সর্বেসর্বা হতে পারে নি।সৃষ্টিকর্তার এই জগৎ-সংসারের পরিধি, বিস্তৃতি,লীলাখেলার সম্পূর্ণটা বুঝা সম্ভব নয়।

IMG-20221205-WA0008.jpg

বিজ্ঞান যেখানে অসহায় | Ecency