বাঙালি সমাজের একটা স্বকীয়তা আছে।যদি ঐতিহাসিক বা ঔপন্যাসিকদের লেখনি পড়া যায় তখন বাঙালির কিছু চরিত্রের মধ্যে সাদৃশ্যতা পাওয়া যায়,যেমন বাঙালি ভদ্র জাতি,এদের লজ্জা শরম প্রচুর,এরা অলস প্রকৃতির,শান্তশিষ্ট জাতি।যুদ্ধ বিগ্রহ এ অঞ্চলে খুব বেশি হয়েছে বলে জানা যায়না।শুধুমাত্র শেষের দিকে মুক্তিযুদ্ধবাদে।বাকিসব সময় বাঙালি শান্তশিষ্টভাবেই বসবাস করে যাচ্ছে।
আমাদের গ্রামীণ সমাজে নারীঘটিত বেপারগুলোও খুব সম্মান এবং আবেগের সাথে দেখা হয়।নারীদেরকে তারা অনেক সম্মানের চোখে দেখে।নারীদের ইজ্জতের বেপারে তারা খুব সচেতন।বুঝাতে চাচ্ছি,একজন মেয়ে স্বাভাবিকভাবে মেয়েলি স্বভাবের হবে এটাই তাদের চাওয়া।মেয়েলি স্বভাব বলতে কি?মেয়ে মানুষকে যেহেতু সৃষ্টিকর্তা বেশি সুন্দর আর আকর্ষণীয় করে সৃষ্টি করেছেন তাই তারা তাদের সৌন্দর্যকে বেশি প্রকাশ করবে না।হ্যাঁ পুরুষ মানুষকেও সুন্দর করে সৃষ্টি করা হয়েছে,কিন্তু তাদের বেপারটা একটু আলাদা।পুরুষ মানুষ কঠিন স্বভাবের হবে,যুদ্ধ বিগ্রহ থেকে শুরু করে পরিবারের জন্য উপার্জন পর্যন্ত এধরনের যতো কাজ আছে তা করবে।আর মেয়ে মানুষ ঘরের কাজ সামলাবে,বাচ্চা পালন থেকে শুরু করে সেলাইয়ের কাজ করবে,তাছাড়া মেয়েদের সেই কোমল স্বভাবের সাথে মানানসই যে কোনো কাজ করবে।
এটাই গ্রামীণ নীতি,মোটকথা এটাই বাঙলার মানুষের রীতি বা সংস্কৃতি।
কিন্তু বর্তমান যুগ পুরো পাল্টে গিয়েছে।আদিমকালের সেসব ভাব ধারণাতে বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করে না।এখন নারী পুরুষকে সমান বলে ধরা হয়।পুরুষও বাহিরে সারাদিন কাজ করবে আর নারীও বাহিরেই কাজ করবে।তাহলে ঘরে রান্না কে করবে!তারা কি খাবে! সমস্যা নেই,বাহিরে খেয়ে নিলেই হবে বা ঘরে একজন কাজের মহিলা রাখলেই হবে।কাজের জন্য যাকে রাখা হয়েছে সেওতো মেয়ে তাহলে সে রান্নাবান্না কেনো করবে?এটা তার স্বাধীনতা!তাকে তো আর জোর করে রাখা হয়নি!
এই জায়গাতে আসলেই একটু সমস্যা হয়ে যায়।বাঙালিরা এখন পশ্চিমাদের অনুসরণ করতে চাচ্ছে,কিন্তু হচ্ছে না কারণ তাদের মন মগজে অল্প হলেও বাঙালির সংস্কৃতি রয়ে গিয়েছে।তার মধ্যে না থাকলেও আশপাশে কারোর মধ্যেতো আছে যা প্রভাব ফেলছে।যেমন এই রান্নাবান্না বা ঘরের কাজের ক্ষেত্রে পশ্চিমারা কিন্তু কোনো কাজের লোক রাখে না,নিজেরা নিজের কাজ করে সেটা পরিবারের পুরুষ সদস্য করুক বা নারী সদস্য।কিন্তু বাঙালি পুরুষ চায় যে নারী করুক,কিন্তু নারী ভাবে এটা তার প্রতি অবিচার।তাই সে আরেকজন নারীকে অর্থ দিয়ে তার কাজগুলো করিয়ে নেয়।
এভাবেই দুই সংস্কৃতির জগাখিচুড়িতে পরে গিয়েছে বাঙালি সমাজ।এখানে তারা বলবে যে,কাজের মহিলা নিজের ইচ্ছায় কাজ করতে চাচ্ছে,এটা তার স্বাধীনতা!
আচ্ছা তাহলে প্রধান কথা হচ্ছে স্বাধীনতা,আমরা স্বাধীন জাতি যে যা খুশি করতে পারবো সমস্যা নেই।এখন আর বাঙালির সেই লাজুক,সম্মান,শ্রদ্ধার যে নীতি বা সংস্কৃতি সেটা না মানলেও চলবে!
এতো গেলো কাজের কথা,সম্পর্ক সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বাঙালিদের মধ্যে এক জগাখিচুড়ি লেগে গিয়েছে।তারা ভাবে পশ্চিমাদের মতো পারিবারিক জীবনেও স্বাধীন থাকবে। যার সাথে ইচ্ছে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করবে।কিন্তু এখানেও সমস্যা আছে।কারণ বাঙালি হওয়ার সুবাধে থাকে বিয়ে করতে হয়,আর বিয়ে করার পরও তার মাথাই যেহেতু পশ্চিমা সংস্কৃতির ঘুরছে তাই সে তাদের অনুসরণে অন্য কোথাও পরকীয়া করে।তারপর আবার এটা বিরাট পারিবারিক কলহের সৃষ্টি করে,সংসার যায় ভেঙে।
বাঙালি আজ এক জগাখিচুড়ি অবস্থায় আছে তার সংস্কৃতি নিয়ে।তার নিজের সংস্কৃতি ছেড়ে সে পশ্চিমা সংস্কৃতিকে গ্রহণ করতে চায়,এখন পুরাতন সংস্কৃতিকেও সে ছাড়তে পারে নি।এখন দুই সংস্কৃতি মিলে বাঙালির এক হযবরল অবস্থা।