কালো জাদুর নাম আমরা সবাই জানি।আমাদের গ্রামের ভাষায় বলা হয় 'দারু টুটকা'।ছোট থেকে অনেক কে বলতে শুনেছি অমুকের মেয়েকে দারু করেছে তাই সে পালিয়ে গেছে কিংবা মারা যাচ্ছে কিংবা বিমার হয়েছে এমন অনেক কিছু। আমার আম্মা বলে,নিয়ম মেনে কুরআনের আয়াত দিয়ে ভালো খারাপ দুটিই করা যাই।কিন্তু সবার হাতে কাজ হয় না। তাই আমরাও এসব তেমন বিশ্বাস করিনা।
যখন ক্লাস নাইনে পড়ি তখন আমার এক চাচাতো মামাতো বোন সেও আমার বয়সী আমার খুব ভালো বন্ধু সে আমাকে বলল,আমার একটা কাজ করে দেবে।কি কাজ সেটা বলার আগে একটি কাহিনী বলতে হবে।তার বড়ভাই বিদেশে থাকে। দুই সপ্তাহ আগে ছুটিতে দেশে এসেছে।তার আসার পর থেকে ওনার বাল্য বন্ধু নিয়মিত আসা শুরু করে।বন্ধুর কাছে সকালে বিকেলে আসে।লোকটাও সত্যিই সুদর্শন।আমার ঐ মামাতো বোনের নাকি ওকে খুব ভালো লেগেছে।তাই সে তাকে প্রস্তাব দিয়েছে। ঐ ছেলে তাকে সরাসরি না বলে দিয়েছে।তাই আজ কবিরাজের কাছ থেকে তাবিজ নিয়ে এসেছে। অনেক গুলো তাবিজ।ও আমাকে বলছে ওতো আমাকে সহ্যই করতে পারেনা তাই এসব তাবিজ এনেছি। এই তাবিজ গুলো গাছের মগ ডালে বেঁধে দিবো, বাতাসে এগুলো যতবেশি নড়বে ততবেশি ওর ভিতর আমার জন্য খারাপ লাগবে।
ফসলি মাঠের মাঝে একটি গাছ ঐ গাছের মগ ডালগুলোতে তাবিজ গুলো বেঁধে দিলো। এখানে সব সময় প্রবল বাতাস।শনিবারে তাবিজ বেঁধে আসলাম মঙ্গলবারে বলে কাজ হয়ে গেছে ও আমার কথায় রাজি।আমি ওর কথা বিশ্বাস করিনি কিন্তু শুক্রবার ওরা পালিয়ে বিয়ে করে নিলো কিছুই বুঝলাম না। এটাতো গেলো একটা ঘটনা,এরকম অনেক শুনি, এবার আমি বিশ্বাস করি চল্লিশ শতাংশ।
এরপর অনেক বছর চলে গেলো।অনার্স ভর্তি হলাম ঢাকায়। খিলক্ষেত থাকি।এখানে আমাদের এলাকার এক বড় ভাই থাকে। ওনার দুই মেয়ে। আমি ওদের পড়াই।এছাড়াও ভাবি খুব আদর করে তাই এই বাসায় একটু বেশিই যায়।ওরা বাসা পাল্টে নতুন বাসায় এসেছে। দুতালায় ওদের বাসা।ওদের বারান্দায় লেগে আছে একটা আম গাছ।একদিন বিকেলে বারান্দায় গিয়ে বসলাম। দেখি আম গাছটায় শত শত তাবিজ বাঁধা। পাতা থেকে মনে হয় তাবিজ বেশি।আমি ভাবিকে ডেকে আনলাম। ভাবি বলে চুপ কথা বলবি না।ঘরে আয় আমি বলছি।ওদের বাড়িওয়ালার একমাত্র মেয়ে এক ভাড়াটিয়ার ছেলের সাথে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেছিলো। ঐখানে থেকে মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে এসব তাবিজ বেঁধেছে।বাতাসে এসব তাবিজ যতো নড়বে ততো সে তাঁর স্বামী কে অপছন্দ করবে।হলোও তাই কয়েক দিনের ভিতর সে স্বামী কে রেখে চলে আসলো।
এরপর থেকে আমি এগুলো বিশ্বাস করি।প্রাকৃতিকের সাথে অতিপ্রাকৃত বলে একটা শব্দ অবশ্যই আছে আর এটা ডিজিটাল যুগের মানুষ বিশ্বাস করতে না চাইলেও, এটা মানতে আমরা বাধ্য যে এমন কিছু ঘটনা আমাদের চারপাশে মাঝেমধ্যে ঘটে যেগুলোর ব্যাখ্যা আমাদের কাছে নেই।
(এই কথাগুলো আমার বোন @setararubi এর)