ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া!

Words
572
Reading
3 min
Listen
Play
4y

বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষাবর্ষে যখন নতুর শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয় তখন তাদের বড় ভাইয়েরা বিশেষ করে " ইমিডিয়েট সিনিয়র " যারা তারা তাদের জুনিয়রদের সাথে পরিচিত হওয়ার সময় একটা অতি পরিচিত উক্তি ব্যবহার করে,উক্তিটা হচ্ছে,ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খেতে যাস না!

আমি এই কথাটা মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার আগে কোনোদিন শুনিনি।যখন প্রথম ভর্তি হলাম,বড় ভাইয়েরা একসাথে সবাইকে ডাকলো।সদ্য তারা প্রথম বর্ষ পার করে দ্বিতীয় বর্ষে উঠেছে।কলেজের নিয়মকানুন এবং সবকিছুর সাথে স্বাভাবিকভাবে ইমিডিয়েট সিনিয়ররাই পরিচয় করিয়ে দেয়।সব কথার মাঝে তারা বার বার একটা বাক্য ব্যবহার করছিলো যে,কখনও ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খেতে যাসনে!যেমন,"কোনো দরকার হলে আমাদের কাছে আসবি,আমাদেরকে ছেড়ে অন্য কোনো ব্যাচের কাছে যাওয়ার দরকাই নাই,ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খেতে যাইও না!তাহলে কিন্তু ফল ভালো হবে না"।

তারা আসলে বুঝাতে চাচ্ছে আমরা যারা প্রথম বর্ষে আছি,আমাদের পুরো ব্যাচের বা ব্যক্তিগত যেকোনো ধরনের সমস্যা,যেকোনো ধরনের পরামর্শের জন্য প্রথম যেতে হবে দ্বিতীয় বর্ষের কাছে যারা আমাদের এক বছরের সিনিয়র।তারপর তাদের কাছে সমাধান না পেলে অন্য জায়গায় যেতে হবে মানে ক্রমান্বয়ে তৃতীয় বর্ষ,চতুর্থ বর্ষ।কিন্তু কেউ যদি এমন করে তার কোনো সমস্যা হলো বা পুরো ব্যাচের কোনো একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে,তারা যদি এর সমাধান এর জন্য দ্বিতীয় বর্ষের কাছে না গিয়ে সরাসরি তৃতীয় বর্ষ বা চতুর্থ বর্ষের কাছে চলে যায় তাহলে বেপারটা অপরাধ হিসাবে গন্য হবে।

আর এই অপরাধটাকে তারা নাম দিয়েছে ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া।যদিও যারা জুনিয়র থাকে তাদের কাছে এই নিয়মটাকে তাদের প্রতি জুলুম হিসাবে ধরে নেয়।তাদের স্বাধীনতার লাগাম টেনে ধরা হিসাবে ধরে নেয়,কারণ তারা চায় তারা যা ইচ্ছে করবে,যেকোনো সিনিয়র ব্যাচের সাথে সম্পর্ক রাখবে বা রাখবে না।

যাইহোক এই ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস না খাওয়া নিয়ে আমার ধারণা পজিটিভ।এই ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস না খাওয়া মানে একটা নিয়ম মেনে চলা,একটা শৃঙ্খল অনুসরণ করা।
এটাকে এই অর্থেও ব্যবহার করা যায় যে,যে কোনো কাজের ক্ষেত্রেও একটার পর আরেকটা ধাপ থাকে,এই ধাপ অনুসরণ করলে সহজেই কাজ হাসিল হয়ে যায়।কিন্তু যদি ধাপগুলোতে বিশৃঙ্খলা করা হয় অর্থাৎ একটা ধাপ না করে পরবর্তী অন্য কোনো ধাপে চলে যাওয়া হয় তখন আর ঐ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদিত হয় না।

যেমন,একটা সাধারণ উদাহরণ দেই।বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী যদি চায় সে ডাক্তার হবে।তাহলে তাকে একটা সাধারণ কার্যপ্রণালী অনুসরণ করতে হবে।ডাক্তার হওয়ার জন্য যে রাস্তা আছে সে রাস্তায় ধাপে ধাপে এগোতে হবে।প্রথমে তাকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে পাশ করতে হবে,তারপর মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে।ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার পর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলে ভর্তি হয়ে তারপর মেডিকেলের বইপত্র কিনে সেগুলো পড়ে ডাক্তার হওয়ার জন্য যোগ্য হতে হবে,এগুলোই একজন শিক্ষার্থী ডাক্তার হওয়ার ধাপ।

এখন যদি একজন প্রথম ধাপগুলো অনুসরণ না করে অর্থাৎ বিজ্ঞান বিভাগে না পড়ে,মেডিকেলে ভর্তি না হয়ে শেষের ধাপ তথা সরাসরি মেডিকেলের বই কিনে পড়া শুরু করে তাহলে তার ডাক্তার হওয়ার কাজটা কঠিন হবে,এমনকি সম্ভবই হবে না।কারণ ছোট শ্রেণি গুলোতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে সে যে যোগ্যতা অর্জন করে সেই যোগ্যতা দিয়েই সে মেডিকেলের কঠিন কঠিন পড়াকে আত্মস্থ করতে পারবে,কিন্তু হঠাৎ করে প্রথমেই মেডিকেলের পড়া এবং বুঝা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

তাহলে দেখা গেলো,কোন কাজ সহজভাবে সম্পন্ন করার জন্য ধাপের ক্রমান্বয় অনুসরণ করা অপরিহার্য।তা না হলে ঐ কাজে ব্যর্থ হওয়া অতি সম্ভবনাময়।
এভাবে চিন্তা করলে ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া আসলেই উচিত নয়।আবার আক্ষরিক অর্থেও কথাটি সঠিক,ধরা যাক কোনো এলাকার একটি রাস্তা পাকা করা লাগবে।তো এলাকার লোকজন এই আবেদন কি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে করবে নাকি স্বয়ং সড়ক মন্ত্রীর কাছে করবে?নাকি স্থানীয় প্রতিনিধির কাছে করবে!তাদেরকে অবশ্যই প্রথমে স্থানীয় প্রতিনিধির কাছে রাস্তাটা পাকা করার আবেদন করতে হবে তারপর না করলে অন্য প্রদক্ষেপ নিবে।কিন্তু প্রথমেই যদি স্থানীয় প্রতিনিধি বাদ দিয়ে আরও উপরে চলে যায়,তখনই বিশৃঙ্খলা লাগবে এবং ঐ রাস্তা আর পাকা হবে কিনা সন্দেহাতীত।

এইভাবেই বলা যায় যে,আসলে ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া কথাটা শুনলে ভালো না লাগলেও,কথাটা অর্থবহ এবং বাস্তবজীবনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

GrazzingHorse-ThinkstockPhotos-507473578-1.jpg