গ্রামের ছেলেদের বর্তমান হালচাল

Words
606
Reading
3 min
Listen
Play
4y

একটা সময় ছিলো যখন গ্রামের মানুষ খেয়ে না খেয়ে জীবন যাপন করতো।তাদের হাতে কখনও অর্থ পৌঁছাতো না।কারণ স্বাভাবিকভাবে একজন কৃষক যা ফসল ফলায় সেই ফসল বিক্রি করে যা টাকা পায়,ঐ টাকার বেশিরভাগ অংশই খরচ হয়ে যায় আবার নতুন ফসল ফলানোর জন্য।তাই কৃষি কাজ করে হয়তো খেয়ে বাঁচা যায় কিন্তু জীবনের অন্য কোনো চাহিদা পূরণ করা যায় না।এসব কারণে আগের গ্রামের মানুষের জীবন দারিদ্র্যতার মধ্যে দিয়ে কাটাতো।তবে একটা কথাতো প্রচলিত আছে যে আগে নাকি বাংলার মানুষের গোলা ভরা ধান,গোয়াল ভরা গরু,পুকুর ভরা মাছ ছিলো।হ্যাঁ তা ছিলো কিন্তু সেটা আরও তিন-চারশো বছর আগে যখনও এদেশে বিদেশীরা শাসন করতে আসেনি তখন।তবে তারপর থেকে বাংলার মানুষের রইরই অবস্থা আর ছিলো না।

তবে যাইহোক একটা সময়ের গ্রামের মানুষের দারিদ্র্যতা এখন আর নেই।আগে পুরো গ্রাম জুড়ে একটা পাকা ঘর পাওয়া যেতো না,পাকা ঘর দূরে থাকুক টিনের ঘর খুঁজে পাওয়াই কঠিন ছিলো,আর এখন পুরো গ্রাম জুড়ে শুধু পাকা দালান।বড় বড় দালান।বাড়ি-ঘর আসলে বাহির থেকে একটা পরিবার কেমন ধনী তা মাপার স্বাভাবিক পরিমাপক।যে ব্যক্তির বড় ঘর বাড়ি,সে তার জীবনের বাকি চাহিদাগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে পেরেছে বলেই বড় বাড়ি করার সাহস দেখিয়েছে।তা হলে এটা বলা ভুল নয় যে বাড়ি-ঘর দেখে মানুষের অর্থের পরিমাণ নির্ণয় করা যেতেই পারে।তো গ্রামের এই দালানগুলো প্রমাণ করে এখন আর তাদের খাওয়া-পড়ার কোনো সমস্যা নেই।তাদের আগের সেই দারিদ্র্যতা এখন আর নেই।

তো গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ এই সুখের জীবন কিভাবে পেলো?শিক্ষিত হয়ে বড় চাকরি করেতো আর এমন করেনি,কারণ গ্রামের ছেলে-মেয়েরা বেশিদূর পর্যন্ত পড়াশোনা করার সুযোগ পায় না,কিছুক্ষেত্রে যদিও ভিন্নতা রয়েছে,তারপরও শিক্ষিত হয়ে তারা এই অসাধ্য সাধন করেছে তা বলা যাবে না।আবার গ্রামের মানুষ এমন বড় কোনো ব্যবসাও করতে পারে না যে তারা ব্যবসার মাধ্যমে এতো অর্থ সম্পদ অর্জন করেছে।বাজারে মুদি দোকানের ব্যবসা করে এতো বড় বড় দালানতো আর তৈরি করা যাবে না।আসলে তারা এই সম্পদ অর্জন করেছে বিদেশ গিয়ে।

আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ কর্মক্ষম পুরুষই বিদেশ।বিদেশ বলতে শ্রমিক ভিসায় বিভিন্ন দেশে কাজ করতে গিয়েছে তারা।বিদেশ গিয়ে কতো পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করতে হয় সেটা ভিন্ন আলোচনা কিন্তু তারা তাদের পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা পাঠাতে পারে মাস শেষে।আর এই টাকা দিয়েই তাদের পরিবার গ্রামে উন্নতি করেছে,অনেক ফসলি জমি কিনেছে,তারপর বড় পাকা দালান ঘর তৈরির প্রতিযোগিতা করছে।অবশ্য যারা বিদেশে থাকে তাদের প্রবাসী বলা হয়।আর প্রবাসী কথাটা আজকাল খুবি আলোচিত একটি শব্দ।প্রবাসীরা প্রচুর রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে দেশে।প্রবাসে যাওয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ তাদের জীবনধারার উন্নতি করেছে।অবশ্য পুরো বাংলাদশের কথা এতো জোর দিয়ে আমি বলতে পারি না,তবে আমাদের উপজেলার ক্ষেত্রে কথাটা শতভাগ সত্য।

আজকালকার গ্রামে কোনো একটা ছেলে যখন কোনো দারিদ্র্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করে তারপর থেকে মনে হয় তার ভাগ্যে প্রবাসী লিখে দেওয়া হয়।হ্যাঁ তাকে স্কুলে ভর্তি করানো হবে।কিন্তু সে পড়ালেখা তেমন করবে না।বেশিরভাগ ছেলেরাই স্কুলে ভর্তি হয়ে থাকেতো ঠিকই,একের পর এক ক্লাস কিভাবে না জানি টপকিয়ে যায়,পড়ে না পড়ে,কিন্তু তাদের লক্ষ্য কোনো বড় চাকরি করা বা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার না বরং প্রবাসে চলে যাওয়া।

যেসব ছেলেদের পরিবারের কেউ প্রবাসে আছে,সেসব ছেলেরা হয় বাবার,বা ভাই এর কিনে দেওয়া বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ায় গ্রামে।বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশনের পোষাক তারা পড়ে।গ্রামের ছেলে-মেয়েরা এখন আর ফ্যাশনের দিক দিয়ে শহর থেকে পিছনে থাকে না,সমান তালে চলে।কিশোর বয়সের ছেলেরা পোশাক,চুল এসবে স্টাইল করে হয়তো বাবার কিনে দেওয়া বাইক টা নিয়ে কোনো মেয়ের পিছনে হয়তো ঘুরছে তাকে মুগ্ধ করার জন্য।তার অন্য কোনো চিন্তা নেই,যখন বয়স হবে নিজেও প্রবাসে চলে যাবে,এখন বাবার কিনে দেওয়া বাইক নিয়ে ঘুরছে তখন নিজের বাইক নিয়ে ঘুরবে।

আমাদের গ্রামেতো এমন অবস্থা যে ফসলি জমিতে কৃষি কাজ করানোর জন্য এখন আর কাজের মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না,দূর অঞ্চল থেকে মানুষ আসে কাজ করতে।প্রাবসী বাবার আদরের দুলালতো আর ফসলের জমিতে পা রাখবে না।

তবে সবাইতো আর বিদেশ যেতে পারে না,সবার সেই ক্ষমতাও থাকে না।তাই গ্রামে কৃষক ছিলো,আছে,থাকবে।আবার গ্রামে থেকেও পড়াশোনা করে অনেকে বড় বড় জায়গায় যাচ্ছে,বড় চাকরি করছে,ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে।তবে প্রবাসীদের উন্নয়নই চোখে পড়ে বেশি।আগে কি ছিলো গ্রামের চেহারা আর এখন কিসে পরিণত করেছে তারা।সবি তাদের প্রবাসে করা কঠোর পরিশ্রম আর কষ্টের ফল।

IMG_20200714_174513.jpg

গ্রামের ছেলেদের বর্তমান হালচাল | Ecency