My favorite fictional characters [BDC Shorts]

Words
250
Reading
2 min
Listen
Play
4y

শ্রীকান্ত,ইন্দ্র আর আমি


সপ্তম শ্রেণির বাংলা বই এ "নতুনদা" নামের একটি ছোটগল্প ছিলো আমাদের সময়।ছোট গল্পটা যখন প্রথমবার পড়ি তখন পড়া শেষ হওয়ার পর আমার অনেক আপসোস হয়েছিল,এই যা!শেষ হয়ে গেলো!এতো ভালো একটা লিখা এতো অল্প।মনের মধ্যে কষ্ট লাগলো,ইশ!গল্পটা যদি আরও বড় হতো।তখন জানতাম না যে এটা এক বিরাট উপন্যাসের ছোট একটা অংশ।এর কিছুদিন পর যখন "শ্রীকান্ত" উপন্যাসটা পড়ি,তখন তার মধ্যে ঐ অংশটুকু দেখে অনেক ভালো লাগে।আরে এটাতো আমার সেই প্রিয় গল্পটা!

"শ্রীকান্ত" এর প্রথম পর্ব আজ থেকে একশো বছরেরও আরও আগে প্রকাশিত হয়,এখনও বাংলা পাঠকের নিকট এটা পূর্বের মতো সমানভাবে সমাদৃত।"শ্রীকান্ত" এর প্রথম পর্বের শ্রীকান্ত চরিত্রটার চেয়ে আমার প্রিয় ছিলো ইন্দ্রকে,যে কিনা শ্রীকান্তরও অনেক প্রিয়।শ্রীকান্ত সারাজীবন ইন্দ্রকে ভুলে নি,যদিও ইন্দ্রের সাথে তার কয়েকটা দিনের চলাফেরা।

সেই ফুটবল ম্যাচের পর শ্রীকান্তকে আতংক বাদীদের হাত থেকে বাঁচানোর পর সিদ্ধি খাওয়া,কথা বলার ধরন এসবের কারণে ইন্দ্র যেমন শ্রীকান্তর মনে দাগ কাটে তেমনি আমার বালক মনেও দাগ কাটে।

রাতের বেলা বাঁশি বাজিয়ে যখন ইন্দ্র ঘন জঙ্গল পার হয় তখন তার বাঁশির সুর শুনে শ্রীকান্তের যেমন মনে হয়েছিলো,ইশ!এমন করে যদি বাঁশি বাজাতে পারতাম।তখন আমার বালক মনও শ্রীকান্তকেই অনুসরণ করেছিলো।
উঠোনে বাঘ এসেছে মনে করে শ্রীকান্তের পিসিমার বাড়ির সবাই যখন ভয়ে তটস্থ,তখন ইন্দ্র আসিয়ে নির্ভয়ে বাতি হাতে নিয়ে বাঘ দেখিতে লাগিলো,রাতের বেলা গঙ্গায় মাছ ধরতে যাওয়ার মতো সাহসী কাজ যেমন ইন্দ্রকে আমার কাছে নায়ক বানিয়ে দেয়,ঠিক তেমনি 'দিদি'র প্রতি মায়া আর সেই গঙ্গায় ভাসা ছয়-সাত বছরের মরা লাশের প্রতি ইন্দ্রের অনুভূতি,"মড়ার আবার জাত কি?" এসব কারনে ইন্দ্র আমার মনে স্থায়ী আসন গেঁড়ে বসে।

সেই থেকেই শ্রীকান্তকে ভবঘুরে বানিয়ে দেওয়া ইন্দ্র আমাকেও তাদের দলে টেনে নেয়।

IMG_20220417_002451.jpg

My favorite fictional characters [BDC Shorts] | Ecency