কেনো আমরা বেঁচে আছি?এতোসব কাজকর্ম,এতো প্রতিযোগিতা করার কারণ কি?এতো জ্ঞান আহরণের পিছনে নিরন্তর ছুটেইবা কি লাভ?
যে ব্যক্তি পেটে ক্ষুধা নিয়ে ঘুরছে সে এসব প্রশ্নের উত্তরে বলবে,পেট ভরে খাওয়ার জন্যই আমার এতো পরিশ্রম করা।
যে ব্যক্তি সমাজে অবহেলিত তাকে এসব প্রশ্ন করা হলে সে বলবে,সবার মাঝে মর্যাদা নিয়ে বাঁচার জন্য আমি এতো কষ্ট করে যাচ্ছি।
এইরকম যার যেটার অভাব সে সেটা পূরণ করার জন্য এতো কাজকর্ম,এতো চেষ্টা করছে বলে উত্তর দিবে এই ধরনের প্রশ্নের জবাবে।
কিন্তু আমার কাছে মনে হয়,আমাদের এই যে বিরামহীন কাজকর্ম,অর্থ উপার্জনের প্রচেষ্টা,শিক্ষা কিংবা জ্ঞান লাভ করে সে জ্ঞান জীবনের প্রতিটি ধাপে কাজে লাগিয়ে জীবনের চলার পথকে মসৃণ করার আকাঙ্ক্ষা, এই সবকিছু করার কারণ হচ্ছে আমরা সবাই একটি চিন্তাহীন জীবন কাটাতে চাই।"চিন্তাহীন জীবন" পাওয়ার আশাতেই মানুষ পৃথিবীতে এতো লড়াই করে যাচ্ছে।এখানে যে চিন্তার কথা বলা হচ্ছে সেটা হচ্ছে দুঃশ্চিন্তা।মানুষের জীবনে সে যা কিছু করে সবই দুঃশ্চিন্তা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য কিংবা পাওয়ার আশায় করে থাকে।
আবার এর আরেকটি দিক আছে,হিংসা-বিদ্বেষ,ঘৃণা,লোভ,লালসার বশবর্তী হয়ে মানুষ যে পাপাচার- অনাচারগুলো করে সেগুলোও ঐ সাময়িক দুঃশ্চিন্তা থেকে বাঁচার জন্যই করে।কারণ হিংসা,ঘৃণা,লোভ এগুলোও মনে দুঃশ্চিন্তা সৃষ্টি করে।আর এর থেকে রেহাই পেতে অনেক সময় মানুষ অন্যায় পথ বেঁচে নেয়।
সে যাইহোক,আমার কাছে এটাই মনে হয় মানুষ ভালো বা খারাপ যা কিছু করে সবই দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিংবা দুঃশ্চিন্তা যাতে কখনও ছুঁতে না পারে তার জন্য করে।
আর যার মনে কোনো দুঃশ্চিন্তা নেই থাকেই বোধহয় বলা হয় সুখী মানুষ।