শুভেচ্ছা নিবেন,
যেখানেই যান সবাই বলে,আহারে তুমি এতো শুকনা কেনো!বাড়িতে কি খেতে দেয় না। না খেয়ে খেয়েতো পাঠকাঠি হয়ে গেছো।অনেকে আবার আপনাকে তালপাতার সেপাই বলেও ক্ষেপায়।আর আপনার দিখে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। অতিরিক্ত কম ওজন বা অতিরিক্ত রোগা হলে নিজেদের আয়নার সামনেও ভালো লাগে না, পছন্দসই জামাকাপড় পরে মনে হয় জামাকাপড়গুলো হ্যাঙ্গারে ঝুলছে।আপনি বিরক্ত মনে ভাবেন,দূর কেমনে যে মোটা হই।হ্যাঁ, তাহলে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্যই।আজকের প্রতিবেদনের টিপসগুলো ফলো করে মাসখানেকের মধ্যেই স্বাস্থ্যের পরিবর্তন দেখতে পাবেন।তাহলে চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।
স্ট্রেস থেকে মুক্তি
রোগা হওয়ার বা দেহের ওজন দ্রুত কমে যাওয়ার একটি অন্যতম কারণ কিন্তু স্ট্রেস, যা এখন আমাদের নিত্য সঙ্গী। তাই ওজন বাড়াতে চাইলে কিন্তু প্রথমেই স্ট্রেস বা অতিরিক্ত কাজের চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হবে। কীভাবে করবেন, খুব সহজ প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট সময় বের করে মেডিটেশন করুন। এতে আপনার মস্তিস্ক রিল্যাক্সড হবে। এছাড়া দুপুরে আরাম করে ২ ঘন্টা ঘুমিয়ে নিন। এতেই খুব জলদি ফল পেয়ে যাবেন আপনি।
ব্যয়াম করা
অনেকেই ভেবে থাকেন ওজন কমাতেই ব্যায়াম প্রয়োজন, কিন্তু এই ধারণা মোটেও ঠিক না। ওজন কমাতে যেমন ব্যায়াম প্রয়োজন ঠিক তেমনি ওজন বাড়াতেও ব্যায়াম করা খুবই প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শুধু দৌড় ঝাঁপই যথেষ্ট না। দরকার প্রতিদিন নিয়ম করে জিম করা। জিমে অভিজ্ঞ ট্রেইনার থাকেন। আপনার ওজন এবং চেহারা দেখে তিনিই আপনাকে বলে দিবেন কোন ব্যায়াম আপনার করতে হবে।
খাওয়ার অভ্যাস
অনেকেই ভাবেন বারবার অল্প অল্প করে খেলে মোটা হওয়া যায় সহজে। কিন্তু তা সঠিক নয়। বারবার না খেয়ে বরং নিয়ম মাফিক পেট পুরে খান। বারবার অল্প অল্প খেলে শরীরের মেটাবলিজাম বেড়ে যায় ফলে ওজন কমে আসে। কিন্তু সময় মেনে পেট ভরে খাওয়ার খেলে মেটাবলিজাম শরীরে জমতে পারে না। খাবারে থাকা ক্যালরি শরীরে জমে ওজন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
পি-নাট বাটার
পি-নাট বাটার হাই ক্যালোরি যুক্ত একটি খাবার। তাই প্রতিদিন একবার করে ব্রেড বা রুটি বা বিস্কুটের সাথে বেশ খানিকটা পি-নাট বাটার খেয়ে ফেলুন। তবে পেট বাঁচিয়ে। এতে কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি ওজন বৃদ্ধি পায়। তাই তাড়াতাড়ি ওজন বাড়াতে চাইলে কিন্তু আজকেই কিনে ফেলুন পি-নাট বাটার। আশপাশের দোকানে পেয়ে যাবেন।
ড্রাই ফ্রুটস
ড্রাই ফ্রুটস কিন্তু আদর্শ খাবার মোটা হওয়ার জন্য বা ওজন বাড়ানোর জন্য। এগুলিতে ক্যালোরির মাত্রা অনেক বেশী থাকে। তাই কাজু, কিশমিশ, খেজুর এবং আমন্ড খেলে কিন্তু আপনার মোটা হওয়ার ইচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি পূর্ণ হবে। নিয়মিত সকালে ব্রেকফাস্টের সাথে ১০-১২ টি আমন্ড বা কাজু, কিশমিশ বা খেজুর খাওয়া শুরু করুন। তবে এগুলি খাওয়ার আগে রাতে ১/২ কাপ জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে খাওয়া ভালো দিনে অন্তত ৩ বার খেলে ফল খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যাবে।
ভাতের ফ্যান
ওজন বাড়াতে ফ্যানভাত বা যাকে আমরা ভাতের মাড় বলি তা খাওয়া যেতে পারে। ফ্যানভাত ভীষণ সাহায্য করে ওজন বৃদ্ধি করতে। সাধারণত ভাতের ফ্যানে বেশির ভাগ পুষ্টি ও ফ্যাট থাকে যা মাড় ফেলে দেওয়ার সাথে সাথে বেরিয়ে যায়। যদি এই ভাতের মাড় একমাস নিয়ম করে খেতে পারেন তাহলে অবশ্যই ওজন বেড়ে যাবে।
তাছাড়া আলু,ভাত, ডিম,মাছ, মাংস এইসব খাবারতো নিয়মিত আপনাকে খেতেই হবে,শরীরের মানানসই ওজন বৃদ্ধির জন্য।
ঘুম
শরীর ঠিক রাখতে ঘুম খুবই প্রয়োজন। প্রতিদিন ৮ ঘন্টা অবশ্যই ঘুমাতে হবে। এর থেকে কম হওয়া যাবে না। এছাড়া ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন নিয়ম করে ইয়োগা বা যোগাসন করুন। এতে আপনার ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
ঘুমানোর আগে দুধ মধু খান
ঘুমোতে যাওয়ার আগে এমন কিছু খেতে পারেন যা বেশ পুষ্টিকর এবং ক্যালোরিযুক্ত। কারণ সেটা ঘুমিয়ে পরছেন বলে খরচ হচ্ছে না এবং পুরো রাত আপনার শরীরে ক্যালোরির কাজ করবে এবং ওজন বৃদ্ধি করবে। তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে দুধ ও মধু মিশিয়ে খান। এটি ওজন বৃদ্ধিতে পরীক্ষিত এবং মোটা হওয়ার সহজ উপায়।তবে অনেকের দুধ হজম হয় না।তাদের দুধ না খাওয়াই ভালো।খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
বাহিরের খাবার
সচরাচর বাহিরের খাবার খেতে আমরা নিষেধ করে থাকি। কিন্তু ওজন বৃদ্ধিতে বাহিরের খাবার যেমন আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিঙ্কস, পেস্ট্রি, বার্গার ইত্যাদি খাবার খুবই কার্যকরী। তাই আপনি চাইলে এগুলো খেতে পারেন কিন্তু তা হবে পরিমাণমতো। আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে চকলেট এবং চিজও রাখতে পারেন।
দেখুন এখন কথা হচ্ছে আমরা বলে দিলাম আর আপনি শুনে গেলেন,কিন্তু টিপসগুলো ফলো করলেন না,বা দুই তিন দিন নিয়মমাফিক কাজগুলো করার পর আর করলেন না,তাহলে কোনোভাবেই আপনার ওজন বাড়বে না।তাই ফলো করার চেষ্টা করুন।
ধন্যবাদ