আমি যে এলাকায় থাকি তার থেকে একটু দূরে একটি লেক আছে।লেকের পাশে একটি মসজিদ।আমাদের বাসা থেকে মসজিদটিতে যেতে বিশ মিনিটের মতো সময় লাগে।আজ অনেকদিন পর ভাবলাম যাই ঐ মসজিদটা থেকে নামাজ পড়ে আসি।স্বাভাবিক মসজিদ থেকে ঐ মসজিদটা একটু বেশি ঝাঁক ঝমকপূর্ণ তাই সেখানে যেতে ভালো লাগে।সাথে আমার দুই বন্ধু ছিলো,হাসিব আর শরীফ।তাদের মধ্যে হাসিব বললো যে, চল নামাজ শেষে লেকের পাড় থেকে ঘুরে আসি।লেকের প্রাকৃতিক পরিবেশটা দারুণ।গাছপালা,পানি তার উপর বেশিরভাগ সময় খুব বাতাস থাকে।
তখন আমি বললাম,না লেকের পাড়ে যাওয়া যাবে না।লেকের পাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ভালো হলেও,মানবসৃষ্ট পরিবেশ ভালো না।সেখানে বখাটে ছেলেরা এসে নেশা করে,আর কপোত-কপোতীরা এসে অসামাজিক কর্মকাণ্ড করে,আমি যাবো না।তখন হাসিব বললো,কি একটা অবস্থা,পাশের মসজিদে কিছু মানুষ তাদের সৃষ্টিকর্তার খোঁজ করছে,আর তার সাথের লেকে কিছু মানুষ সৃষ্টির অনিষ্ট সাধনে ব্যস্ত।
তখন আমি বললাম, আহারে রাত আর দিন।মানে লেকের পাড়কে বললাম রাত,আর মসজদি কে বললাম দিন।
তখন শরীফ এর প্রতিবাদ করে বললো,আসলে লেকের পাড় রাত না,বা মসজিদ দিন না।বরং এই দুই জায়গায় মানুষের কর্মকাণ্ড এক জায়গাকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছে,এবং আরেক জায়গাকে করেছে আলোকিত।জায়গা দুটো তো সমান ই।
তখন আমি বেপারটা ভাবলাম,ঠিকইতো বলেছে সে।জায়গার কি আর নিজের ক্ষমতা আছে নিজেকে মহিমান্বিত করার বা নিজেকে কুলসিত করার!আজ যদি মসজিদে গিয়ে মানুষ অসামাজিক কাজকর্ম করতো,আর লেকের পাড়ে গিয়ে ভালো কাজ করতো,তাহলেতো তখন বলতাম,মসজিদ রাত,লেকের পাড় দিন।
রাস্তাঘাটে গণপরিবহনে চলার সময়,কিছু বিজ্ঞ মানুষ তাদের জ্ঞান জাহির করতে যে আলাপচারিতা শুরু করে,সেখানে প্রায়ই উঁচু গলার আওয়াজে একটা কথা শুনা যায়,যে আমাদের দেশটা একটা দুর্নীতিবাজ দেশ,এই দেশে থেকে কিচ্ছু হবে না।আসলে দেশতো আর দুর্নীতিবাজ না,দেশের মানুষগুলো দুর্নীতির কাজ কর্ম করে,আমার আপনার নীতির ঠিক নাই।বেচারা দেশতো নির্দোষ,সে তো আর বলে নি,তোরা আমার কাছে থেকে দুর্নীতি কর।এই দেশেও যদি সবাই নীতির কাজ করতে থাকে, তাহলে কি সেদিন সবাই বলবে যে আমার দেশের মানুষগুলো ভালো!নাকি আমাদের দেশটা ভালো!
অথবা যদি এমন হয়,যেসব দেশের মানুষ একদম নীতিবান বা যারা দুর্নীতির মাপকাঠির লিস্টে সবার তলানিতে আছে,সেসব দেশের মানুষকে আমাদের দেশে আনা হলো,আর আমরা চলে গেলাম তাদের দেশে।তখন কি হবে একলাফে সেই দেশটা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে,আর আমাদের দেশটা হয়ে যাবে দুর্নীতিতে "ফেল্টুস"।
যদিও দিনশেষে যেই লাউ সেই কদু।তবুও একটু পার্থক্য তো আছেই।কোনো জায়গা কখনও খারাপ হতে পারে না,সেই জায়গার মানুষের কর্মকাণ্ড আমাদের কাছে সেই জায়গাকে খারাপ হিসাবে পরিচিত করে তুলেছে।তাই সামগ্রিকভাবে বলা যাবে না,সেই জায়গাটা খারাপ, কারণ সেই জায়গায়ওতো কিছু মানুষ ভালো কাজ করতে পারে,তো ঐ জায়গাটাকে যদি আমরা সমষ্টিগতভাবে খারাপ বলি তাহলে ওদের ভালোকাজগুলোও খারাপের আওতায় পড়ে যাবে।
এই বেপারটা বুঝাতে শরীফ শেষে যে উদাহরণ টেনে আনে সেটা দারুণ লাগলো," এই ধর,আমরা মসজিদ থেকে নামাজ শেষ করে,লেকের পাড়ে গিয়ে একটু প্রাকৃতিক বাতাসে শ্বাস নিলাম,আমরাতো আর কোনো খারাপ কিছু করলাম না,এখন যদি বলিস যে লেকের পাড় মানেই খারাপ তাহলেতো আমাদের এই ভালো কাজটাও খারাপের আওতায় চলে যাবে,আর লেকের পাড়ে প্রবেশের সাথে সাথে আমরা খারাপ হয়ে গেলাম!"