সিঙারা যেভাবে বানানো হয়,আমাদের এলাকায় "মাংসের পিঠা" নামের পিঠা সেভাবেই বানানো হয়।উপরে পিঠার জন্য বানানো রুটির প্রলেপ,আর ভিতরে পুর।এই পুর যেকোনো মাংসের হতে পারে।যেমন,মুরগী,গরুর বা ছাগলের।এমনকি মাছ দিয়েও একি নিয়মে এই পিঠা বানানো যায়।তখন এটার নাম "মাংসের পিঠা" না হয়ে হয় "মাছের পিঠা"।এই " মাংসের পিঠা" বানানোর পদ্ধতি আজ আমি শেয়ার করতে চলেছি।
উপকরণঃ
চালের গুঁড়া,
হাড়ছাড়া মাংস,
পেঁয়াজ,
রসুন,
কাঁচামরিচ,
আধা বাটা,
জিরা গুঁড়ো,
ধনিয়া গুঁড়ো,
মরিচের গুঁড়ো,
হলুদের গুঁঁড়ো,
তেজপাতা,
দারচিনি,
এলাচ।
পিঠা বানানোর পদ্ধতিঃ
প্রথম ধাপ-কাই তৈরি
একটি পাতিলে পরিমাণমতো পানি দিয়ে সেটায় লবণ আর হলুদের গুঁড়োসহ ধনিয়া গুঁড়ো,জিরার গুঁড়ো আর আদা বাটা অল্প অল্প করে দিয়ে,পাতিল চুলায় দিয়ে আগুন ধরাতে হবে।অল্প কিছুক্ষণ জ্বাল করে চালের গুঁড়াগুলো পানির মধ্যে দিয়ে দিতে হবে।তারপর বারবার নাড়াচাড়া করে,পানি এবং চালের গুঁড়া ভালোভাবে মিশাতে হবে চুলার উপর রেখেই।তারপর সুন্দরভাবে কাই হয়ে গেলে পাতিল নামিয়ে ফেলতে হবে,কাই এমনভাবে হবে যাতে রুটি বানানো সহজ হয়।
দ্বিতীয় ধাপ-পুর তৈরি
প্রথমে হাড়ছাড়া মাংসগুলো টুকরো টুকরো করে কেটে নিয়ে পাতিলে সামান্য লবণ আর সামান্য হলুদ দিয়ে পানিতে সিদ্ধ করতে হবে।তারপর সিদ্ধ মাংসগুলো উঠিয়ে ভালোভাবে তেতলে নিতে হবে,যাতে কুঁচিকুঁচি হয়।
তারপর একটি পাতিলে বেশি পরিমাণে পেয়াজ কুঁচি,কাঁচামরিচ কুঁচি,রসুন কুঁচি,আদা বাটা এবং সাথে সব ধরনের মসলা দিয়ে সামান্য পানি দিয়ে অল্প কিছুক্ষণ সিদ্ধ করতে হবে।
তারপর একটি কড়াইয়ে তেল দিয়ে এর মধ্যে সিদ্ধ করা মাংসগুলো এবং সিদ্ধ করা পেঁয়াজ এবং সব মসলাগুলো দিয়ে দিতে হবে।তারপর অল্প কিছুক্ষণ তেলের মধ্যে ভাজতে হবে যাতে সব উপকরণগুলো একসাথে মিশে ভালোমতো।বেশিসময় না অল্প কিছুক্ষণ।
তারপর তুলে নিলেই পিঠার পুর তৈরি হয়ে যাবে।
তৃতীয় ধাপ-পিঠা তৈরি
কাই দিয়ে গোল রুটি বানাতে হবে।তারপর বড় রুটিকে গ্লাস বা যেভাবেই হোক কেটে চারভাগ করতে হবে।তারপর প্রত্যেকটা ভাগের মধ্যে পূর্বে তৈরি পুর ভরে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে।চাইলে সৌন্দর্যের জন্য বন্ধ করা মুখের মধ্যে নকশা করা যেতে পারে।
তারপর সব পিঠাগুলো বানিয়ে ডুবো তেলের মধ্যে দিয়ে ভাজতে হবে।ভাজা শেষে উঠিয়ে ফেলতে হবে।তারপর পরিবেশন।