"কাকা,তাড়াতাড়ি পঞ্চাশ টা টাহা দেও"
পিছনে ফিরে দেখলাম,আমাদের গ্রামের একটা ছেলে।আমি জিজ্ঞেস করলাম,
কেনো কি দরকার?
"শাকিল,বাজারে মাথা ঘুরায়া পইড়া গেছে,বমি করতাছে,স্যালাইন কিনতে অইবো টেহা নাই,তাই তোমার কাছে পাডাইছে"
আমি টাকাটা দিলাম।কিন্তু বুঝতে পারলাম আসলে শাকিলের কিছু হয় নাই।সে মিথ্যা গল্প বলে টাকাটা নিয়েছে।এই টাকা দিয়ে নেশা দ্রব্য কিনবে।হয়তো ঘুমের বড়ি।বেশি দাম না দুই টাকা এক পিচ।দশ-পনেরটা একসাথে খেলেই নেশা ধরে।হয়তোবা,জুতার গাম।ঐটাও কম দাম।কাগজের মধ্যে ঢেলে ঘ্রাণ নিবে।মাতাল হবে।আর ঐ দিকে ফুসফুসের বারোটা বাজাবে।
আজকাল নেশা দ্রব্য খুব সহজলভ্য হয়ে পড়েছে।আর সেই সহজলভ্য নেশা দ্রব্য গ্রহণ করার ছেলেও প্রচুর বেড়ে গেছে।বিশেষ করে গ্রামের উঠতি বয়সের বেশির ভাগ ছেলেরাই নেশায় আসক্ত।কয়েকদিন স্কুলে যাবার পর হয়তো স্কুল ছেড়ে দিয়েছে নয়তো স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে।বখাটের মতো ঘুরে বেড়ায়।মেয়েদের উত্যক্ত করে।এইধরনের কম দামি অধিক ক্ষতিকর নেশাদ্রব্য গ্রহণ করে ,এইসব বাংলা নেশার কতো কি নাম,
ডিজে,গাঞ্জা,বাবা,ডেন্ডি আরো কতো কি।
আর সিগারেটতো এখন প্রাইমারি লেভেল পার করা প্রায় নব্বই ভাগ ছেলেদের দুই ঠোঁটের মাঝখানে। নেশা কিছুটা ভাইরাসের মতো,কোনো দলের একজন কোনো ভাবে আসক্ত হলে বাকি সবাইকে নেশার থাবা আক্রমণ করবে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা কোনো মেয়ের পিছনে হয়তোবা ঘুরে।কিন্তু সেই মেয়ে থাকে পাত্তা দেয় না।আর এটাই তার নেশা করার কারণ হিসাবে দাঁড় করিয়ে নেয়।আর শুরু করে দেয় নেশার রাজ্যের রাজত্ব।
আবেগের কারণে তারা মনে করে,এই নেশা তাদেরকে সব কষ্ট ভুলিয়ে দিবে।যখন তারা নেশা দ্রব্য গ্রহণ করে,তখন তারা নিজেকে পৃথিবীর রাজা হিসাবে কল্পনা করতে পারে।আর হয়তোবা ঐ কল্পনার লোভই তাদেরকে আসক্ত করে ফেলে।
প্রথমে হয়তোবা বন্ধুর কাছ থেকে সিগারেট নিয়ে শখের বসে একটা টান দিছে।সেই একটা টানি পরবর্তীতে তার জীবন উল্টা পাল্টা করে ফেলে।
নেশাকারী নিজের শরীরের ক্ষতি করছে!এতে কার কি?
কথা হচ্ছে নেশার টাকাতো জোগাড় করতে হবে।সেই টাকা কোথা থেকে আসবে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যেহেতু বখাটে ছেলেগুলো কোনো কর্ম করে না।তাই প্রথমে টাকার জন্য পরিবারের কাছে হাত পাতে।পরিবার আপোষে কতো আর দেয়।এরপর পরিবার থেকে চুরি করে।অতঃপর নেশার টাকা জোগাড় করতে চুরি, ছিনতাই এর পথ বেঁচে নেয়।এইভাবেই তারা সন্ত্রাসে পরিণত হয়।
আর নেশাখোরদের সবসময় মেজাজ খিটখিটে থাকে।অযথাই মানুষের সাথে ঝগড়া লাগে।সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। একটা সময় এমন আসে যখন তাদের নেশা ছাড়া আর হয়তো কোনো কিছুই ভালো লাগে না।নেশার এই রাজ্য থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র কর্ম।তারা যদি কাজে ব্যস্ত থাকে তাহলে নেশার প্রতি আকর্ষণ হয়তোবা কমবে।
ধন্যবাদ