অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে নীলফামারীর নীলসাগর । অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি ও অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনতে বিভিন্ন স্থান এখানে ছুটে আসছেন নানা বয়সের দর্শনার্থী । প্রকৃতির শ্বাসত অপরূপ সৌন্দয্যের এই বিনোদন কেন্দ্রটিকে পর্যটন বিভাগের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ।
নীলফামারী শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা মৌজায় ৫৩ দশমিক ৬০ একর জমির ওপর অবস্থিত নীলসাগর । উত্তর - দক্ষিণে লম্বা এ দীঘিকে ঘিরে রয়েছে বহু উপাখ্যান ও রূপকথা । কথিত আছে তৎকালীন বিরাট রাজা নামে একজন রাজার বসবাস ছিল এই এলাকায় । তার বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু ছিল । এ গবাদি পশুগুলোকে গোসল ও পানি খাওয়ানোর জন্য দীঘিটি খনন করেন রাজা । রাজার নাম অনুসারে দীঘির নামকরণ করা হয় বিরাট দীঘি । কালের বিবর্তনে বিরাট দীঘিটি বিন্নাদীঘি নামে পরিচিত হয়ে ওঠে । ১৯৯৮ সালে এ দীঘির নামকরণ নীলফামারীর নামানুসারে নীলসাগর রাখা হয় ।
শীত মৌসুমে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখির আগমন ঘটে নীলফামারীর নীলসাগরে । এ সময় পাখির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে নীলসাগর । পাখির কিচিরমিচির আর পানিতে ডানা ঝাপটানোর শব্দ নীরব নিথর গ্রামের নির্জনতা ভেঙ্গে দেয় । সবুজ বৃক্ষরাজিতে চারদিক শোভিত এই নীলসাগরে অতিথি পাখির নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য আরো বাড়িয়ে তোলে । এ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগমন ঘটে অনেক দর্শনার্থীর ।
পাখি প্রেমিক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতি বছরের ন্যয় এবারো অতিথি পাখিরা এসেছে । তারা চলমান ডিসেম্বর থেকে মার্চের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকবে । অতিথি পাখিদের মধ্যে অন্তত ৬৫ টি প্রজাতির কয়েক হাজার পাখি রয়েছে । এই চার মাস অতিথি পাখিদের নিরাপদে রাখতে হবে । তারা যানবাহনের বিকট শব্দ, পিকনিকের হইহুল্লোড় আর লাউড স্পিকারে গান সহ্য করতে পারে না ।