প্রিয়,
পাঠকগণ,
কেমন আছেন আপনারা? আশাকরি ভালোই আছেন।
কাল রাতে শরীরটা একদম ভালো ছিল না। আসলে হটাৎ গরম পরে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরেই কিছু ভালো লাগছে না। কাল একদমই কিছু লিখতে পারিনি। আজ নতুন একটা সকাল তাই ভাবলাম আজকে অন্তত কিছু লিখি।
কাল রাতে শুয়ে শুয়ে ছোটো বেলার দিনগুলোর কথা ভীষণ মনে পড়ছিল।এই রকম গরমের দিনে সবাই মিলে বাড়ির উঠোনে বসে কত গল্প হতো। কোনো কোনো দিন মায়ের কোলে বা দিদিদের কোলে ঘুমিয়ে পড়তাম। পরে দিদি নাহলে মা কোলে করে তুলে ঘরে নিয়ে শুইয়ে দিত।
কতদিন কারোর কোলে মাথা রেখে শুইনি। আসলে জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা আমাদের ভালোলাগা গুলো যেন ভুলতে বসেছি।এখন আর কেউ অমন গল্পও করে না।নিজেদের আত্মীয় বলুন বা প্রতিবেশী কারোর মধ্যেই যেন সেই পুরোনো দিনের আন্তরিকতা খুঁজে পাওয়া যায়না। সবাই কেমন যেন ফর্মালিটি করে সম্পর্ক গুলো বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর এই জন্যই যদি সত্যিই মন থেকে কেউ কাউকে ভালোবাসে বা তার জন্য কিছু করে সেখানেও আমরা তাকে সন্দেহের নজরে দেখতে থাকি।
আসলে দোষটা আমাদের নয়, দোষটা সময়ের।এখনকার দিনে বিনা স্বার্থে কেউ কিছু করতে পারে,মানুষের মধ্যে থেকে এই বিশ্বাসটা হারিয়ে গেছে, আর এর জন্য মানুষ নিজেই দায়ী। কালকেও এটাই ভেবেছি মানুষ হিসেবে আমি নিজে কতটা ঠিক? এক এক জনের কাছে তার সংজ্ঞা এক এক রকম। ভালোমন্দ মিলিয়েই মানুষ তাই হয়ত নিজেকে নিজের চিনে ওঠা সম্ভব নয়।
যাইহোক, এই সব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়েছি জানিনা, সকালে উঠে আবার সেই নিয়ম মাফিক জীবন যাত্রা শুরু।
তবে কি বলুন তো, আমার মনে হয় এতো খারাপের মধ্যেও ভালোলাগা টুকুও নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়।ফুল এমন একটি জিনিস যা মনকে অনেকটা শান্ত করে। তাই সকালে ছাদে গিয়ে মনটা অন্যরকম হয়ে যায়। আজ দেখলাম আমার শিউলি ফুল গাছে ফুল ফুটেছে, ফুল তুলে এনে একটু বসলাম। সারাদিন ব্যস্ততায় কেটে যাবে। কিন্তু মাঝে মাঝে রাত গুলো কাটতে চায় না। জীবনের পাওয়া না পাওয়া নিয়েই ভেবে ভেবেই কখন যেন ভোর হয়ে যায়।
যাইহোক,আপনাদের দিনটা ভালো কাটুক এই প্রার্থনা করি। ভালো থাকুন আপনারা সবাই