প্রিয়,
পাঠকগণ,
কেমন আছেন আপনারা সবাই?
আশাকরছি সকলে ভালোই আছেন। আর আপনাদের দিনটিও ভালো কাটছে।
আজকে আপনাদের সাথে আমার প্রিয় কিছু খাবাবের গল্প শেয়ার করবো। আসলে খাবার গুলোর মধ্যে কোথাও মায়ের স্মৃতি লুকিয়ে আছে। দেখেই পুরোনো দিন গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠলো।
আমার মামী না একদম পাগল। আজ বোনকে দিয়ে আমার জন্য খাবার পাঠিয়ে দিয়েছে, না তেমন বিশেষ কিছু নয়, আমার প্রিয় কিছু খাবার। যখন মামা বাড়ী গেলাম দেখালাম মামী আলুর চিপস্ তৈরী করে রোদে দিয়েছে শুকানোর জন্য, নতুন আলু বাজারে উঠলে এটা সে প্রতিবার করে।তখন ভালো শুকায়নি তাই আমায় দিতে পারেনি, এখন শুকিয়ে গেছে, তাই আমার যাওয়া পর্যন্ত আর অপেক্ষা করতে পারলো না।
অন্যদিকে মামা দুটো নারকেল কিনে নিয়ে এসেছিল, সেখান থেকে একটা দিয়ে নাড়ু বানিয়ে পাঠিয়েছে।কারণ এইবার লক্ষ্মী পূজোর সময় আমায় নাড়ু খাওয়াতে পারেনি,তখন করোনার কারনে যাওয়া আসা সম্ভব হয়নি। ব্যস তিনি নারকেল দেখেই আবার নাড়ু বানিয়ে ফেললো। আসলে একেবারে মায়ের মতন মামী চিনি দিয়ে নারকেল নাড়ু করে। গুড়ের থেকেও চিনির নাড়ু আমি ভালো খাই।
আর ও পাঠিয়েছে বাড়ীতে তৈরী নিমকি, এটাও মায়ের থেকে মামী শিখেছিল। দারুণ বানায় মামীও। ওটা দেখেই মনটা কেমন যেন অশান্ত হয়ে গেলো। হটাৎ করেই পুরোনো দিন/নিমকি খাওয়ার জন্য মায়ের কাছে বায়না/সাথে মায়ের বকা সবকিছু যেন চোখের সামনে ভেসে উঠলো এক মুহূর্তে।
আপনাদের আগেও বলেছি মামী মায়ের মতোই আগলে রাখে আমায়। এগুলো কিন্তু শুধু আজ নয় মামী বরাবর করে, আমি কি ভালো খাই সেটা যেমন বানিয়ে পাঠায়,তেমনি আমি গেলে সেগুলোই রান্না করে যেগুলো আমার পছন্দ। মামী জানে আমার শ্বশুর বাড়ীর খাওয়া দাওয়া একটু আলাদা। আর আমি আমার বাড়ির মত খাবার খুব মিস করি। তাই চেষ্টা করে সেগুলোই খাওয়ানোর।
আমি জানিনা আমার মতো ভাগ্য আর কতজনের হয়। কারণ কারোর জন্য তার মামী এতো কিছু করেছে এমন গল্প আমার জানা নেই।তবে ভগবান বোধহয় এমনটাই চেয়েছেন। মা কে নিজের কাছে ডেকে নিলেও মায়ের স্নেহ দিতে এমন মামী দিয়েছে।সবটাই তো তাঁর পূর্বপরিকল্পিত, আর তাঁর ইচ্ছের উপর আমাদের কারোর হাত নেই।
তবে তার কাছে একটাই প্রার্থনা সময়ের আগে কারোর মা কে কেড়ে নিও না। মা কে ছেড়ে থাকা খুব কষ্টের।আমার মামীকে ভালো রেখো। সবাইকে ভালো রেখো ঠাকুর।
তিতলি কে কোলে নিয়ে মামী-
ভালো থাকবেন সবাই।